দেশে চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে দেড় লাখ টন ডিজেল ও ২৫ হাজার টন অকটেন আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
১. আমদানির সিদ্ধান্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে:
-
আমদানির পরিমাণ: ১,৫০,০০০ টন পরিশোধিত ডিজেল এবং ২৫,০০০ টন অকটেন।
-
প্রেক্ষাপট: ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
-
সরবরাহ ঘাটতি: আমদানির চেষ্টা চললেও দেশের পেট্রল পাম্পগুলোতে গত এক মাস ধরে দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
২. জ্বালানি তেলের নতুন বাজারদর
উদ্ভূত পরিস্থিতি ও বিশ্ববাজারের সাথে সমন্বয় করতে গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দামগুলো নিম্নরূপ:
| জ্বালানির ধরন |
পূর্বের দাম (লিটার) |
বর্তমান বর্ধিত দাম (লিটার) |
বৃদ্ধির পরিমাণ |
| অকটেন |
১২০ টাকা |
১৪০ টাকা |
২০ টাকা |
| পেট্রল |
১১৬ টাকা |
১৩৫ টাকা |
১৯ টাকা |
| কেরোসিন |
১১২ টাকা |
১৩০ টাকা |
১৮ টাকা |
| ডিজেল |
১০০ টাকা |
১১৫ টাকা |
১৫ টাকা |
৩. পরবর্তী পদক্ষেপ
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আমদানির এই প্রস্তাবটি দ্রুত অনুমোদনের জন্য ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির পরবর্তী সভায় উত্থাপন করা হবে। সরকার আশা করছে, এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি দেশে পৌঁছালে পাম্পগুলোর দীর্ঘ লাইন ও সরবরাহ সংকট দ্রুত কেটে যাবে।
বিশ্লেষণ: গতকাল (২২ এপ্রিল) জামায়াতে ইসলামীর সভায় মিয়া গোলাম পরওয়ার জ্বালানি সংকটের যে সমালোচনা করেছিলেন, সরকারের এই আমদানির সিদ্ধান্ত এবং মূল্যবৃদ্ধি সেই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।