নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর হাওড়াঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের মনিকা পশ্চিমপাড়া গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, আগের তালিকায় প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে অকৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং ওই তালিকা বাতিল করে নতুনভাবে যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন।
লুৎফুজ্জামান বাবরের বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. নতুন তালিকা ও বর্গাচাষিদের অগ্রাধিকার
সংসদ সদস্য বাবর স্পষ্ট করে বলেন যে, আগের তালিকাটি গ্রহণযোগ্য হয়নি। নতুন তালিকা প্রণয়নে নিচের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে:
-
যাচাই-বাছাই: তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম নিশ্চিত করতে নতুন করে কাজ শুরু হবে।
-
অগ্রাধিকার: যারা বাস্তবিক অর্থে ক্ষতির শিকার হয়েছেন, সেইসব বর্গাচাষি ও প্রান্তিক কৃষকদের তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
-
দলীয় প্রভাবমুক্ত: বাবর দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, তালিকা তৈরিতে বিএনপির কোনো লোক চাপ দিলে তা মানা হবে না। যারা পাওয়ার যোগ্য, কেবল তারাই সহায়তা পাবেন।
২. জেলেদের জন্য বিকল্প সহায়তা ও মৎস্য সম্পদ রক্ষা
জেলেদের দুর্দশা লাঘবে এবং হাওড়ের মাছ রক্ষায় তিনি কিছু পদক্ষেপের কথা জানান:
-
ত্রাণমন্ত্রীর আশ্বাস: জেলেদের জন্য আলাদা বরাদ্দ না থাকলেও ত্রাণমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি বিকল্প উপায়ে জেলেদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
-
মাছ ছাড়ার উদ্যোগ: হাওড়ে সরকারিভাবে এবং সংসদ সদস্যের নিজস্ব অর্থায়নে মাছের পোনা ছাড়া হবে।
-
অবৈধ জাল পোড়ানো: হাওড়ে মাছ ধরার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে তিনি বলেন, কোনো অবৈধ জাল পাওয়া গেলে তা পুড়িয়ে ফেলা হবে।
৩. হাওড়ের পরিকল্পিত উন্নয়ন
বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন:
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যের সঙ্গে মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলীন নাহার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল আলম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ, কৃষি অফিসার মাহমুদুল হাসানসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।