বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক বর্তমানে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং চীন সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। রাজধানীর একটি বেসরকারি হোটেলে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ গভর্নেন্স এক্সপেরিয়েন্স এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই বন্ধুত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফর ও কূটনৈতিক সম্পর্ক
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আগামী জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে একটি `ঐতিহাসিক মাইলফলক` হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন:
-
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
-
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন সব সময় পাশে থাকবে।
-
`এক চীন` নীতির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
২. অর্থনৈতিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের সক্রিয় ভূমিকার তথ্য তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত:
৩. মেগা প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
চীন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে:
-
চলমান প্রকল্প: তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা, মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের আবাসিক হল নির্মাণ।
-
নতুন আগ্রহ: সবুজ জ্বালানি, তথ্য-প্রযুক্তি এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বেইজিং। বিশেষ করে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
৪. শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনযোগাযোগ
দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান:
-
ভিসা: চলতি বছর এ পর্যন্ত ৩২ হাজার বাংলাদেশিকে ভিসা দেওয়া হয়েছে; বছর শেষে যা ১ লাখ ছাড়াতে পারে।
-
ফ্লাইট: বর্তমানে সপ্তাহে ৪৫টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে।
-
শিক্ষা: রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দুটি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।