বুধবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   সম্পাদকীয়
বাংলাদেশের নির্বাচনের পর: পরবর্তী সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ ওঅগ্রাধিকার
  Date : 26-01-2026
Share Button

সৈয়দ এরশাদ আহমেদ:
ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকারশুধু রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারবে না।দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য এটি একটি কঠিন সময় এবং নতুননেতৃত্বকে অর্থনীতি, রাজনৈতিক সংস্কার, প্রশাসনিক সংস্কারসহ বহুজটিল প্রতিবন্ধকতার মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরবর্তী সরকারের অগ্রাধিকারগুলোকে সামগ্রিক, সমন্বিত এবংদীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিতে বিবেচনা করা উচিত।

নতুন সরকার প্রথমেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও মুদ্রাস্ফীতিনিয়ন্ত্রণে 집중 করবে। মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়নিয়ন্ত্রণ করা অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যাংকিং ও আর্থিক সেক্টরেসংস্কার আনা, আমানতকারীর আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদিউন্নয়নমূলক বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত ঋণ প্রবাহ নিশ্চিত করাইঅর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মূল চ্যালেঞ্জ। এছাড়া মূলধন বাজারকেশক্তিশালী করে ব্যাংকগুলোর উপর চাপ কমানোও প্রয়োজন।

বাংলাদেশের LDC (ন্যুনতম উন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের ফলে কিছুবাণিজ্য সুবিধা ধীরে ধীরে কমে যাবে। এর ফলে অর্থনীতি বেশ চাপেপড়বে। সরকারের দায়িত্ব হবে বাণিজ্য সুবিধার ঘাটতি মোকাবিলা, রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, দক্ষতা ও প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমেঅর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা।

জনগণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে ঐক্য গড়েতোলা অত্যন্ত জরুরি। নির্বাচন কমিশন, সংসদ, বিচার বিভাগ ওপ্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিকগ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো দরকার। রাজনৈতিক মেরুকরণ কমিয়েঅংশগ্রহণমূলক ও দায়িত্বশীল রাজনীতির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য দুর্নীতি হ্রাস, আইন শৃঙ্খলা, ন্যায্যবিচারের নিশ্চয়তা এবং নিয়মিত নীতির ধারাবাহিকতা অপরিহার্য।সরকারের উচিত হবে দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা, স্থিতিশীল প্রশাসনিককাঠামো এবং নীতিগত পূর্বানুমান যোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করা। ও স্কিলডেভেলপমেন্টের সাথে শ্রম উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সুবিধা বাড়িয়ে তরুণদেরজন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

বিশ্বায়িত অর্থনীতি ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সমন্বিতবৈদেশিক নীতি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চমানের বাণিজ্য চুক্তি, বৈদেশিক সরান (FDI) আকর্ষণ, উন্নয়ন সহযোগিতা ও অঞ্চলেররাজনৈতিক ব্যালেন্স ঠিক রাখা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি।

ভরযোগ্য, নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ দেশের শিল্প ওঅর্থনৈতিক কার্যক্রমের জন্য মূল ভিত্তি। জ্বালানি নীতি স্থিতিশীল করা, বৈচিত্র্যকরণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। এছাড়া ডিজিটাল ওপ্রযুক্তি নির্ভর অবকাঠামো গড়ে তুলতেও সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নিতেহবে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দিক দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ওঅবকাঠামো উন্নয়ন অত্যাবশ্যক। তথ্যপ্রযুক্তি, ডেটা ভিত্তিক অর্থনীতি ওউদ্ভাবন–নির্ভর সংস্কৃতির দিকে লক্ষ্য করে নীতিমালা আনতে হবে।

বাংলাদেশে শুধুমাত্র নির্বাচনের বিজয় বা ক্ষমতা গ্রহণই যথেষ্ট নয়; এইনির্বাচন পরবর্তী সরকারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রিক ও অর্থনৈতিকস্থিতিশীলতার জন্য পথ সুগম করার একটি সুযোগ হিসেবে কাজ করবে।শক্তিশালী নীতিমালা, সমন্বিত নীতি, এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেশক্তিশালী করার মাধ্যমে নতুন সরকার দেশের উন্নয়নকে গতিশীল করতেপারবে।



  
  সর্বশেষ
নির্বাচন ভন্ডুল করার সম্ভাবনা নেই, যেসব জঙ্গি-সন্ত্রাসী ছিল পালিয়ে গেছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
২০২৫ সালে ৫৪৩ কোটি টাকারও বেশি বিমা দাবি নিষ্পত্তি করল গার্ডিয়ান
আওয়ামী লীগের কখনোই রাজনৈতিক চরিত্র ছিল না: সালাহউদ্দিন আহমদ
নির্বাচনে জিততে পারবে না জামায়াত: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com