মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   জাতীয়
জালিয়াতির ভারে ম্লান মুক্তিযুদ্ধের গৌরব, চন্দ্রদিঘলিয়ায় প্রশ্নের মুখে ইতিহাস
  Date : 15-06-2026
Share Button

* ৫৫ বছরের এক অমীমাংসিত বিতর্ক

* ভুয়া না প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা?

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় লাভজনক ক্ষেত্র হলো মহান মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও তার নাম পদবী বিক্রি করে নিজেদের হীন স্বার্থ হাসিল করা। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তখন সেই সরকারই মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে রাজনীতি করে থাকে। মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিতর্কের অবসান বিজয়ের ৫৫ বছরেও শেষ হয়নি। বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে যে পরিমান মুক্তিযোদ্ধার তালিকা রয়েছে তার মধ্যে লক্ষাধিক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেই অমুক্তিযোদ্ধারা যখন মুক্তিযুদ্ধের সনদ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বনে যায় তখন জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহনকারী মুক্তিযোদ্ধারা, শহীদ পরিবারের সন্তানেরা কি তাদের মেনে নিবে? দেশের শাসনব্যবস্থায় আসীন সরকার, মন্ত্রনালয় ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্তকারীদের প্রতি ঘৃনা জন্ম নেওয়া ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার ভুয়া অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরই আলোকে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের প্রথমসারির একাধিক গনমাধ্যমে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে ব্যাপক লেখালেখি হচ্ছে। এসব প্রতিবেদনে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি যেমন করা হচ্ছে; ঠিক তেমনি কোনও কোনও প্রতিবেদনে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদেরই ভুয়া বলে প্রমান করার অপচেষ্টা হচ্ছে, আবার কোথাও বা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের প্রতিহিংসার বলি হতে হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়ে অতীতে বিতর্ক হলেও এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ন ভিন্ন। এখানে রয়েছে শত শত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। আর এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে দুঃখজনকভাবে লাল ফিতার দৌরত্বে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা আজ অস্তিত্ব সংকটে।

অতি সম্প্রতি, বিভিন্ন গনমাধ্যমে ‘মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ নিয়ে ২৫ বছর যাবৎ চাকুরী’ এমন একটি সংবাদ ‘দৈনিক বর্তমান দিন’ এর নজরে আসে। উক্ত সংবাদটি নিয়ে চটকদার ডিজিটাল মিডিয়া ট্রলও হয়েছে, এখনও হচ্ছে। উক্ত সংবাদটি নিয়ে ‘দৈনিক বর্তমান দিন’ এর বিশেষ অনুসন্ধানী টীম মাঠে নেমেছে। সর্বপ্রথম এই টীমের সদস্যরা মুখোমুখি হয় অভিযুক্ত তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ শরিফুল ইসলামের। তিনি দৃঢ়কন্ঠে ‘দৈনিক বর্তমান দিন’কে বলেন, আমার বাবা একজন সম্মুখ মুক্তিযোদ্ধা এবং চাচা একজন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা। একটি মহল আমার চাকুরীর পদোন্নতি আটকাতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ট্যাগ লাগিয়ে আমার বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ ভুয়া প্রমান করতে চাচ্ছে। তাদের পরিকল্পনা পরবর্তীতে যাই হোক না কেন, বিতর্ক সৃষ্টি করে আমার পদোন্নতি আটকে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

এদিকে, চলমান বিতর্কের গুরুত্ব বিবেচনায় ‘দৈনিক বর্তমান দিন’ এর একটি চৌকস অনুসন্ধানী টীম সিদ্ধান্ত নেয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত গোপালগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামে গিয়ে সরেজমিনে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার বিষয়ে অনুসন্ধান করার। অনুসন্ধানের শুরুতেই প্রথমসারির একাধিক গনমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত সংবাদের মূলভিত্তি হিসেবে ৬৪০ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি তালিকাকে গেজেটভুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এই তালিকায় মোঃ শরিফুল ইসলামের পিতা মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোশারফ হোসেনের নাম নেই বলে ভুক্তভোগীর পিতাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলা হয়েছে। এই তালিকার বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে দৈনিক বর্তমান দিনের হাতে আসে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যমতে, গোপালগঞ্জ জেলার যে ৬৪০ জনের তালিকার উপর ভিত্তি করে জাতির একজন সূর্যসন্তানকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলে প্রমানের চেষ্টা করা হচ্ছে আদতে সেই তালিকাটি হলো ২০২১ সালে নতুন করে আবেদনকারী মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাইয়ের তালিকা।
অথচ শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যে সমন্বিত তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে তাতে ২১৬১ জনের নাম রয়েছে। উক্ত তালিকার ১৭১ নং সিরিয়ালে মোঃ মোশারফ হোসেন মোল্লা (পরিচিতি নং-১৩৫০০০৫০৯৪); পিতাঃ লোকমান মোল্লা, গ্রাম ও ডাকঘরঃ চন্দ্রদিঘলিয়া, উপজেলাঃ সদর, জেলাঃ গোপালগঞ্জ ও মুক্তিযোদ্ধাদের লাল মুক্তিবার্তা তালিকায় পরিচিত নং- ১০৯০১০২৭৮ এবং ১২৩০ নং সিরিয়ালে তার ছোট ভাই মোঃ এনায়েত হোসেন মোল্লা (পরিচিতি নং-০১৩৫০০০৯৮৩০); পিতাঃ লোকমান হোসেন মোল্লা, গ্রাম ও ডাকঘরঃ চন্দ্রদিঘলিয়া, উপজেলাঃ সদর, জেলাঃ গোপালগঞ্জ ও মুক্তিযোদ্ধাদের লাল মুক্তিবার্তা তালিকায় পরিচিতি নং- ০১০৯০১০১৯৬; এর নাম লিপিবদ্ধ আছে। ভারতীয় তালিকার ৪৯৮৩ এবং বেসামরিক গেজেটের ১৯২ নং সিরিয়ালেও মোঃ এনায়েত হোসেনের নাম রয়েছে।

উক্ত তিনটি তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত থাকা স্বত্বেও এনিয়ে বিতর্ক অনভিপ্রেত। এই বিষয়ে অনেকেই উষ্মা প্রকাশ করেছেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের আরও যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন ছিলো বলে একাধিক মুক্তিযোদ্ধা আক্ষেপ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও আহবান জানান তারা।
উল্লেখ্য, দুই সহোদরের মুক্তিযোদ্ধা সনদটি ১৯৯৯ সালের ২৬ অক্টোবরে তৎকালীন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ চৌধুরী সাক্ষরিত এবং তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও প্রধান উপদেষ্টা তৎকালীন গোপালগঞ্জ সদরের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিস্বাক্ষরিত। এই সনদকে ঘিরেই এত বিতর্ক।

এদিকে, এই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে খোঁজ নিতেই চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামে ‘দৈনিক বর্তমান দিন’ মুখোমুখি হয় দুই ভাই মোঃ মোশারফ হোসেন মোল্লা এবং মোঃ এনায়েত হোসেন মোল্লার। প্রাথমিক আলাপচারিতায় চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মোল্লা বংশের এই দুই সহোদরকে স্থানীয়রা মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী বলেই পরিচয় করিয়ে দেন। তারা অনুসন্ধানী টিমকে জানান, ১৯৭১ সালে এই মোল্লা গোষ্ঠীর পরিবার থেকে বহুসংখ্যক ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে মোঃ মোশারফ হোসেন সম্মূখযোদ্ধা এবং মোঃ এনায়েত হোসেন গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

পরে ‘দৈনিক বর্তমান দিন’ টীমের সদস্যরা এই দুই সহোদরের বাড়িতে যেয়ে কুশলাদি বিনিময়ের পর সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোশারফ হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাট আমাকে যুদ্ধে যেতে অনুপ্রাণিত করেছিলো। তখন আমি বিএল কলেজের ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র। গোপালগঞ্জের চন্দ্রদিঘলিয়া, গুহালা গ্রামে ২৬শে মার্চের পর ১৭ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে পাকসেনা ও রাজাকার বাহিনী নির্মমভাবে হত্যা করে। এই হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমি কয়েক রাত ঘুমাতে পারিনি। তখন আমি খুলনার বিএল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

তিনি বলেন, আর্মিরা তখন গ্রামে গ্রামে হামলা করতো আর যুবকদের ধরে নিয়ে যেত। যাদের অনেকেরই পরবর্তীতে আর খোঁজ পাওয়া যেত না। প্রায় সময়ই বহু নির্মমতার শিকার হত গ্রামবাসী। এদিকে, আমরা রাতের পর রাত নৌকায় বিলে যেয়ে রাত কাটাতাম। একদিন কয়েক বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেব এবং সেই মোতাবেক আমরা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। কয়েক মাস পর যশোর হারপাড়া দিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বিহারের কাকুড়িয়ায় চলে যাই। সেখানে বেশ কিছুদিন থাকার পর ট্রেনিংয়ে অংশ নিই।

তিনি আরও বলেন, প্রথমে আমাদের ৯নং সেক্টরে মেজর এম এ জলিলের অধীনে ন্যাস্ত করা হয়েছিলো। পরবর্তীতে আমরা ৮নং সেক্টরে এমএ মঞ্জুরের অধীনে প্রায় ৮০ জন ট্রেনিংয়ে অংশ নিই। ভারতের টকিপুর ক্যাম্পের লেফটেন্যান্ট মফিজ (আমার নিকটাত্মীয়) আত্মীয়তার সূত্রে আমাদের থাকা-খাওয়া ও ট্রেনিংয়ের বিষয়গুলো তদারকি করতেন। আমি ট্রেনিং নিয়েছিলাম ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদ টকিপুর ক্যাম্পে। ট্রেনিং শেষে আমরা আগস্টে বাংলাদেশের চলে আসি। দেশে আসার পর ৮নং সেক্টরে সোবহান সাহেবের কমান্ডের অধীনে ছিলাম আমরা। তখন ফুুকরা বাজার এলাকায় পাক আর্মি নিয়মিত লঞ্চযোগে টহল দিতো। আমরা কয়েকদিন তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করি। পরে, সেপ্টেম্বর মাসে কমান্ডার সোবহান জানান যে পাকবাহিনীর উপর হামলা করতে হবে। পরিকল্পনা ঠিক করে আমরা আক্রমণের প্রস্তুতি নেই এবং সঠিক সময়ে পাকসেনাদের উপর আক্রমণ করি। সফলতার সাথে অভিযান সম্পন্ন করে আমরা গোপন আস্থানায় ফিরে আসি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মোশারফ হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের গ্রুপের এটাই ছিলো প্রথম অপারেশন। এরপর তেমন একটা সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিতে হয়নি। তবে, মুক্তিযুদ্ধের বহু ঘটনা আছে যেগুলো এখনও স্মৃতির পাতায় জ্বলজ্বল করে। বয়সের ভারে অনেক স্মৃতি হারিয়ে গেছে।
নিজের বয়স এখন ৭২ উল্লেখ করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যারা কখনো মুক্তিযুদ্ধ করেনি, তারা এখন বড় মুক্তিযোদ্ধা। তারাই এখন আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করছে। মুক্তিযোদ্ধাদের জুতাপেটা করে। গলায় জুতার মালা পরায়। এজন্যই কি আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। এটাই কি আমাদের পাওনা ছিল? এই বলে তিনি কেঁদে ফেলেন।

উল্লেখ্য, মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন যুদ্ধের পর ১৯৭৪ সালে টিএন্ডটিতে যোগদান করেন। তারপর ১৯৭৯ সালে রিক্রুটমেন্ট পরীক্ষা দিয়ে মাস্টার সুপারেন্ট পদে খুলনা ডিভিশনের যোগদান করেন। প্রকৃত ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রসঙ্গে মোশারফ হোসেন বলেন, জেলা ও থানা কমান্ডার কাগজপত্রের মাধ্যমে অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছেন বলে গল্প শুনি। টিএন্ডটির ছোট্ট একটা চাকরির মাধ্যমে আমার সন্তানদের বহু কষ্টে লেখাপড়া করিয়ে মানুষ করেছি। ওরা এখন নিজ যোগ্যতায় বড় পদে কর্মরত। আমার এক ছেলে মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আজ বড্ড কষ্ট পাই যখন আমার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি প্রশ্ন তুলে। মুক্তিযুদ্ধে আমার ত্যাগ, অবদান এখন আমার মেধাবী সন্তানের চাকরির অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমার মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট তৎকালীন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল এর চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত। সার্টিফিকেটটি গোপালগঞ্জের তৎকালীন এমপি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সত্যায়িত করেছেন। আমার বিরুদ্ধে বিন্দু পরিমাণ সন্দেহ থাকলে তিনি তা করতেন না। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে চেষ্টা করা হয়েছিলো আমার মুক্তিযোদ্ধা সনদকে কলঙ্কিত করার, তবে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছিলো। আমি একজন সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা। আমার সকল কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে মহামান্য আদালতও আমার পক্ষে স্বীকৃতি প্রদান করেছিলেন। এটি একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রতি মহামান্য আদালতের সম্মান প্রদর্শন। এতকিছুর পরও আজ আমার মুক্তিযোদ্ধা সনদকে ভুয়া বলে প্রমানে মরিয়া একটি চক্র।
এদিকে, ‘দৈনিক বর্তমান দিন’ এর প্রাথমিক অনুসন্ধানকালে চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের অনেক প্রবীণ ব্যক্তিগন এবং গ্রামবাসীদের অনেকেই দুই সহোদরকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বলে উল্লেখ করেন এবং একইসঙ্গে তাদেরকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে অভিহিতকারীদের ধৃষ্টতা দেখে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসময় তারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকাও এফটি টীমকে প্রদান করেন। তবে, সেই তালিকায় অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধার নাম খুঁজে পায়নি এফটি টীমের সদস্যরা।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে গ্রামের একজন মুরুব্বী জানান, শুধু বয়স দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনাক্ত করা সম্ভব নয়। নকল মুক্তিযোদ্ধা সনদধারী অধিকাংশের বয়স ৬০-৭০। আর কাগজ দিয়েও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত করা দুরূহ। যুদ্ধের পর অনেক মুক্তিযোদ্ধাই নিঘাত দেশপ্রেমের টানে যুদ্ধ করেছিলেন বলে সনদ সংগ্রহের চেষ্টা করেননি।

তারা আরও বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর নিয়ে অযাচিত বিতর্কের জেরে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে ভুয়া বলে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার নেপথ্যে হীন ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের পায়তারা করছে একটি কুচক্রী মহল। এসময় তারা একজন মুক্তিযোদ্ধার মানহানি এবং ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং যথাযথ তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।

‘দৈনিক বর্তমান দিন’ এর বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন "মুক্তিযোদ্ধা ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা" নিয়ে চলমান বিতর্কের দ্বিতীয় পর্বে চন্দ্রদিঘলিয়ার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।



  
  সর্বশেষ
বন সংরক্ষক হোসাইন নিশাদের বিরুদ্ধে লাগামহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ
কোটি টাকার লোভে অনলাইনে জুয়া খেলে নিঃস্ব হচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবার
কারিনাকে বিকালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হচ্ছে
অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com