বুধবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   অপরাধ-দূর্নীতি
বাউবিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া (প্রথম পর্ব-১)
  Date : 27-01-2026
Share Button

 

* অভিযোগের তীর বর্তমান ভিসি ও ট্রেজারারকে ঘিরে

* নিয়োগ-পদোন্নতি ও ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতি ও অনিয়ম অভিযোগের পাহাড়

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন:
পতিত সরকারের সময় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যোগ্য উপাচার্য নিয়োগ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে আগের মতোই অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অন্যান্য পদে নিয়োগে স্বজনপ্রীতি এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক অবস্থার কোন উন্নতি হচ্ছে না। দুর্নীতি বিশ্ববিদ্যালয়কে গ্রাস করে নিলেও উপাচার্য উদাসীনতার সহিত দেখেও না দেখার, জেনেও না জানার ভান করছেন। তাকে দুর্নীতির বিষয়ে অবগত করা হলেও তিনি যেনো তা দেখতে ও শুনতে নারাজ। অনিয়ম ও অভিযোগগুলো নিম্নরূপ
১.পদ শূন্য হওয়ার আগেই রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা
২.রেজিস্ট্রার ও সেকশন অফিসার পদে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত কমিয়ে নিজস্ব লোককে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
৩. সম্প্রতি রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পরিক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।বাউবির সাবেক রেজিস্টারের আস্থাভাজন নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় রেজিষ্টার ছিলেন ড.হারুন-অর-রশিদ। এই ড. হারুন রশিদ কে বড় অংকের আর্থিক লেনদেনর বিনিময়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় রেজিষ্টার পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে। কিন্তু এই ড. হারুন ছিল ফ্যাসিবাদের দোসর। 

৪. পরিচয় গোপন করে বাউবির এক কর্মকর্তার সূত্র থেকে জানা যায় এই রেজিষ্টার পদে লিখিত পরীক্ষা নিযেছে ২০.০১.২০২৬ তারিখে এবং এই মাসে মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা নিবে ও নিয়োগ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে এবং নির্বাচন আগেই এই পদে নিয়োগ দেওয়া সম্পন্ন করিবে।
৫.ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ও নিয়োগ কার্যক্রম সম্পাদন
৬.নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও বদলী করা হয়েছে।
৭.একই আওয়ামীলীগ পরিবার হতে চারজন কে নিয়োগ দেওয়া । একজন কর্মচারী মেয়ে হয়ে। বিগত ভাইস চ্যান্সেলরের সময় তার বড় মেয়ে কে কম্পিউটার ওপারেটর পদে নিয়োগ দেন।এর পরে এই সময়ে তার ছোট মেয়ে ও মেয়ে জামাই ২ জন কে একই পদে মেডিকেল আফিসার পদে চাকুরীতে নিয়োগ দেন। এক সাথে স্বামী ও স্ত্রী একই পদে নিয়োগ পাওয়া।এ যেন নজির বিহিন। তাও আবার প্রাইভেট ইউভাসিটি ইন্টার্নী ছাড়া ডাক্তার। ৮.একই দিনে ভাইভা নেওয়ার পর সন্ধ্যায় বোর্ড অব গভর্নরস মিটিংএ অনুমোদন ও রাতেই নিয়োগ পত্র প্রদান এবং পরদিন সকালে যোগদান। যা থেকে দুর্নীতি স্পস্ট প্রমানিত হয়।
৯.সংগীতা মোর্শেদ, যুগ্ম পরিচালক, আওয়ামী চেতনার লোক। ৫ আগস্টের পত তার স্বামী পলাতক, ও সকারের সচিব। তাকেও পুনর্বাসন করা হয়েছে।
জানা যায় ফ্যাসিস্টদের দোসর প্রকৌশলী শাহরিয়ার শাহান এর বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে রেজিস্ট্রার নিয়োগের বিষয়টি রফাদফা হয়। এই ভাগ বাটোয়ারায় ভিসি, ট্রেজারার, সাবেক রেজিস্ট্রার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলীর মধ্যে সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোঃ হারুন-অর-রশিদ পূর্বে মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার ছিলেন। সেখানে তিনি ছিলেন আওয়ামী পন্থি কর্মকর্তা পরিষদের নেতা। বাড়ী টাঙ্গাইল জেলায় হওয়ায় সাবেক কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ভোলার সুপারিশে ২০২৩ সালে ২৩ নভেম্বর নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্টার পদে যোগ দেন। অর্থের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টদের সহযোগীদের নিয়োগ দিয়ে উপাচার্য ও ট্রেজারার বাউবিতে পতিত ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করছেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট মহল।

তাছাড়া কিছুদিন পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু পদে কর্মকর্তা, কর্মচারী পদে সরাসরি নিয়োগ ও পদন্নোতি প্রদান করা হয়। তবে সরাসরি কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদে চূড়ান্ত মনোনীতদের তালিকা প্রকাশের পর পরই অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পদন্নোতির বেলাতেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে এটা নজির বিহীন যে, একই পরিবারের চার জন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। সর্বশেষ নিয়োগে বাউবি’র আওয়ামী ঘরনার ওই পরিবারের একজন কর্মচারীর মেয়ে ও মেয়ের জামাই বড় অংকের টাকার বিনিময়ে মেডিক্যাল অফিসার পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছেন। বাউবি’র মূল ক্যাম্পাসের বাউন্ডারি লাগোয়া তাদের বাড়ি। মজার বিষয় হচ্ছে বাউবির পিছন দিকে ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতেও তাদের জমি অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে। অর্থাৎ যে টাকা তিনি বিনিয়োগ করেছেন সে টাকার দ্বিগুন জমি অধিগ্রহণের ফলে তিনি ফেরত পাচ্ছেন। যেনো কই এর তেলে কই ভাজলেন। তাছাড়া প্রত্যেকটি পদের বিপরীতে লক্ষাধিক টাকার বানিজ্য হয়েছে। উপাচার্যের একান্ত আস্থা ভাজন হিসেবে পরিচিত ক্যামেরাম্যান পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রাপ্ত মেয়র তালুকদার নিয়োগ বানিজ্যর বিষয়টি তত্ত্বাবধান করেছেন। তার ভয়ে তটস্ত পুরো বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি যে কাওকে যেখানে খুশি সেখানে বদলী করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, পরিচালকরাও তাকে সমীহ করে চলেন। নিয়োগ দুর্নীতির বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলেই জানলেও কেও বদলী বা সাসপেন্ড হওয়ার ভয়ে মুখ খুলছে না। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, বাউবি’তে বিকালে মৌখিক পরীক্ষার পর সন্ধ্যায় বোর্ড ও গভর্নরস এর মিটিং এ তা অনুমোদন করা হয় এবং একই দিন রাতে নিয়োগ পত্র তৈরি করে নিয়োগপ্রাপ্তদের পরদিন সকালে যোগদান করতে বলা হয়। জানা যায় কোন পদে কাকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে তা আগে হতেই নির্ধারণ করা ছিলো। পরীক্ষা একটি আই ওয়াশ মাত্র। শিক্ষক পদের জন্ত চল্লিশ লক্ষ, কর্মকর্তা পদের জন্য বিশ লক্ষ ও কর্মচারী পদের জন্য পনেরো লক্ষ টাকার লেনদেন হয়েছে বলে শোনা যায়। উল্লেখ্য, ঢাকা সিটি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি থাকা অবস্থায় ড. ওবায়েদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দশ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছিলো। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ফল স্বরূপ ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বাউবি’র উপাচার্যের চেয়ার অলংকৃত করেছেন। বাউবি’তে দীর্ঘদিন যাবত ঝুলে থাকা বহুল আকাঙ্ক্ষার গৃহঋণের বন্দোবস্ত করেছেন। তিনি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বাউবি’তে সংগঠিত বৈষম্য নিরসনের অফিস আদেশ জারি করেন। এতে বৈষম্যের শিকার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়। তবে হতাশার বিষয় হচ্ছে বিগত এক বছরে তিনি তা নিরসনের প্রকৃত কোনো চেষ্টাই করেন নি। যার ফলে বৈষম্য নিরসনের নামে বাউবি’র শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে প্রহসন করা হচ্ছে বলে অনেকে ই জানান।

ক্যাম্পাসে আলোচনায় রয়েছে “একদিন নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করা গেলে কেনো এক বছরে বৈষম্য নিরসন করা যায় না; নাকি এতেও ঘুষ দিতে হবে”। বাউবি’র উপাচার্য মহোদয় বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক। সে আলোকে তিনি প্রচার প্রচারণাও চালিয়েছেন। ব্যাপক নির্বাচনী ব্যয়ের ভাড় বহন করার লক্ষ্যে তিনি বাউবিকে একটি দুর্নীতিবাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিনত করেছেন বলে অনেকে মনে করেন। বাউবির কিছু কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন যে,নিয়োগ বানিজ্য, টেন্ডার বানিজ্য, এফডিআর এর লভ্যাংশ তছরুপের অর্থ তিনি তার নির্বাচনী ফান্ডে জমা করেন। তার নির্বাচনী ফান্ড তদারকি করতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ক্যামেরাম্যান মেয়র তালুকদার। তালুকদার বাগেরহাট-৪ আসনের বাসিন্দা ও বাগেরহাটের সাবেক যুবদল নেতা। নিয়ম বহির্ভূতভাবে ও বাগেরহাটে কোনো স্টাডি সেন্টার বা পরীক্ষা পরিদর্শনের নাম করে উপাচার্য মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ী ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ী ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক দৈন্য দুর্দশার মাঝেও তিন কোটি টাকা দিয়ে সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিজের ও তার আস্থাশীল ট্রেজারারের জন্য দুটি বিলাসবহুল বাড়ি গাড়ি ক্রয় করেছেন। কতিথ আছে অর্থ তছরুপ করার জন্য সেকেন্ড হ্যান্ড, মরিচাধরা গাড়ীকে নতুন বলে ক্রয় করা হয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে উপাচার্য মহোদয় তার পূর্বের ও নতুন ক্রয়কৃত দুটি গাড়ী নিয়েই নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সক্ষমতা না থাকলেও ব্যাপক ঢাউস আকারের এক বাজেট তিনি অনুমোদন করেছেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় বাউবি’র সকল কার্যক্রম হতে তাদের নিস্ক্রিয় করা রাখা হয়েছে। উপাচার্য নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করলেও জামাতপন্থি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনাঠাসা করে রেখেছেন। পক্ষান্তরে, আওয়ামী কর্মকর্তাদের কাছে টেনে নিয়ে দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। যে সাম্রাজ্যের রাজা তিনি আর মেয়র তালুকদার হচ্ছেন তার উজিরে আজম এবং ট্রেজারার শামীম হচ্ছেন প্রধান সেনাপতি। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান দুর্নীতি, অনিয়ম, অপশাসনের বিরুদ্ধে এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতিবাজ ট্রেজারার শামীমের অপসারণ চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে মানববন্ধন করা হয়।



  
  সর্বশেষ
নির্বাচন ভন্ডুল করার সম্ভাবনা নেই, যেসব জঙ্গি-সন্ত্রাসী ছিল পালিয়ে গেছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
২০২৫ সালে ৫৪৩ কোটি টাকারও বেশি বিমা দাবি নিষ্পত্তি করল গার্ডিয়ান
আওয়ামী লীগের কখনোই রাজনৈতিক চরিত্র ছিল না: সালাহউদ্দিন আহমদ
নির্বাচনে জিততে পারবে না জামায়াত: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com