| |
| উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাশিদুল হাসানের সম্পদের পাহাড় (পর্ব ১) |
| |
| |
|
| |
| |
| মোঃ আলমগীর হোসেন:
নারায়ণগঞ্জ ভিটিকান্দী সড়ক উপ-বিভাগের প্রকৌশলী রাশিদুল হাসানের সম্পদের পাহাড় দেখলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে। দুর্নীতির দায়ে অসংখ্য সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী সাজা ভোগ করলেও বহাল তবিয়তে আছে রাশিদুল হাসান। এ যেন শাকের করাত। আসতেও কাটে যাইতেও কাটে। গত স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের আমলে যেভাবে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন এখনো সেভাবেই বেড়াচ্ছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরে। যেখানে সড়কের কাজ সেখানে রাশিদুল। যেন দেখার কেউ নেই। সরকার যায় সরকার আসে কিন্তু বহাল তবিয়তে রয়ে যায় দুর্নীতিবাজরা। বাংলাদেশে যে কয়টি সরকারি খাত দুর্নীতির শীর্ষে রয়েছে তারমধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হলো সড়ক ও জনপথ। এ প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ কর্মকর্তা কর্মচারীরা দুর্নীতিতে এতটাই বেপরোয়া যে, দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন সমীক্ষায় সেটা বারবার উঠেও এসেছে। বিষয়টা এমন যে মানসম্মান গেলে দেশের যাচ্ছে, কষ্ট করলে জনগণ করছে, তাতে আমার কি। দিন শেষে আমার পকেটতো ভারি হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকেই অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে বিদেশে অট্টালিকা তৈরি করেছে এবং চাকরির মেয়াদ থাকাকালীন ছুটিতে গিয়ে আর দেশে ফিরে আসে নাই এমন নজিরও আছে। আবার এমনও দেখা গেছে দুর্নীতি আড়াল করার অপকৌশল হিসেবে অনেক সরকারি কর্মকর্তা/ কর্মচারী নিজের নামে সম্পদ না করে আত্মীয় স্বজনসহ নামে বেনামে সম্পদ করে সেগুলো চাকরির মেয়াদ শেষে ফেরৎ নিচ্ছে। তেমনই একজনের সন্ধান পাওয়া গেছে দৈনিক বর্তমান দিনের বিশেষ অনুসন্ধানে। তার নাম রাশেদুল হাসান। বাবার নাম-মোঃ আবু রায়হান, পদবী- উপ-সহকারী প্রকৌশলী, তার বর্তমান কর্মস্থল নারায়নগঞ্জ সওজ উপবিভাগ-১। এর আগে তিনি গাজীপুরের টংগীতে ছিলেন। রাশেদুলের বাবার সাথে কথা বলে জানা গেছে তিনি বিভিন্ন অফিসে চুক্তি ভিত্তিক ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতেন, বর্তমানে অবসরে। জানা গেছে গাজীপুর থেকেই রাশেদুল আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপটি হাতে পেয়েছেন। খুবই নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা রাসেদুল প্রথমে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন এরপর ২০১৬/১৭ সালের শুরুর দিকে সৌভাগ্যক্রমে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে চাকরি মেলে। আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। নিজ আখের গুছিয়ে শনির আখড়া এলাকায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি। দৈনিক বর্তমান দিনের অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তার ২টি পাঁচতলা ভবন যার একটি স্ত্রীর নামে অন্যটি নিজ নামে ক্রয় করেছেন মর্মে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমান বাজার মূল্য আনুমানিক ১০ কোটি টাকা। এছাড়াও একাধিক ফ্লাটের সন্ধান পাওয়া গেছে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী রাশেদ ও তার স্ত্রী একই ঠিকানা ব্যবহার করেছে। যার একটি, নাম- নার্গিস আক্তার মীম, পিতা-নাছির উদ্দীন হাওলার, মাতা-শাহনাজ পারভীন। বাসা/হোল্ডিং নম্বর-ছ৬৬/২, উত্তর বাড্ডা, গুলশান, ঢাকা-১২১২ ও অন্যটি গ্রাম: বেতমোর, পোস্ট: লেমুয়া বাজার, উপজেলা: পাথরঘাটা, জেলা: বরগুনা, বিভাগ-বরিশাল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে উত্তর বাড্ডার যে ঠিকানা ব্যাবহার করেছে তা সম্পুর্ন ভূয়া তবে রাশেদের স্ত্রীর গ্রামের বাড়ী সঠিক। প্রশ্ন হলো রাশেদের শনির আখড়া এলাকায় স্থায়ী একাধিক বাড়ী থাকতে কেন সে বাড্ডার মিথ্যা ঠিকানা ব্যবহার করলো। এসকল বিষয়ে নার্গিস আক্তার মীম ও রাশেদের সাথে সরেজমিন কথা হলে তারা জানান উত্তর বাড্ডার বাড়িটা মিমের পৈতৃক ভিটা, যেটা বিক্রি করে রাশেদের স্ত্রীর নামে বাড়ী কিনেছেন অথচ তার গ্রামের বাড়ী বরগুনায় গিয়ে জানা যায় ঢাকাতে তার বাবা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সামান্য বেতনে চাকরি করতেন। কোন অবস্থাতেই ঢাকা শহরে বাড়ী করার মতো পরিবেশ তার ছিলোনা। নার্গিসের স্থায়ী ঠিকানায় বসবাসকারী স্থানীয় মানুষের ভাষ্যমতে তার পিতা একজন নওমুসলিম। গ্রামে তার তেমন কোন সম্পদ নেই একটি বাড়ী ছিলো সেটা বিক্রি করে বর্তমানে ভাড়া বাসায় থাকেন।
|
| |
|
|
|
| |
|
|
প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান
, সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com
|
|
| |
|