ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলা স্থগিত এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে স্বস্তি ফেরেনি; বরং তেলের দাম ও শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল, ২০২৬) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এপি (AP)-র এক প্রতিবেদনে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ধারণা করা হয়েছিল তেলের দাম কমবে, কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে তার উল্টো:
-
ব্রেন্ট ক্রুড: দিনের শুরুতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৯৫ ডলারের নিচে থাকলেও, দিন শেষে তা ৩.১ শতাংশ বেড়ে ৯৮.৪৮ ডলারে পৌঁছায়। এক পর্যায়ে এটি প্রায় ১০০ ডলার স্পর্শ করেছিল।
-
অবরোধের প্রভাব: বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতি থাকলেও ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকার ঘোষণায় সরবরাহ সংকট কাটার সম্ভাবনা এখনই নেই, যা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে পতন
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই ওয়াল স্ট্রিটে অস্থিরতা শুরু হয়:
-
ডো জোনস: ইনডেক্সটি এক পর্যায়ে ৪০০ পয়েন্ট বাড়লেও দিনের শেষে ২৯৩ পয়েন্ট (০.৬%) কমে লেনদেন শেষ করে।
-
এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসদাক: উভয় সূচকই এদিন ০.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
-
বিশ্লেষণ: বাজার বিশ্লেষকদের মতে, "চুক্তি না হলে বোমা হামলা" এবং "মেয়াদ আর বাড়বে না"—ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান বাজারে অনিশ্চয়তা জিইয়ে রেখেছে।
যুদ্ধবিরতির নতুন সমীকরণ
পাকিস্তানের অনুরোধে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কেবল ইরানকে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য। তবে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন সামরিক অবরোধ আগের মতোই কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে। আজ বুধবার এই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে মেয়াদ বাড়ানো হয়।