মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৪
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * ইসরাইলে হামালা বাধায় জর্ডানে বিক্ষোভ   * মধ্যপ্রাচ্যের আন্দোলন এড়াতে ম্যাখোঁ সবকিছু করবেন   * যানজটে কষ্টের বাড়িফেরা   * চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমানের মেয়ের লাশ হোটেলে   * শুদ্ধাচারে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য হলে ব্যবস্থা   * সেবা নিশ্চিত করতে পারলে ভোটের চিন্তা থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী   * আরইবি’র পিবিএস-৪ দরপত্রে একই ব্যাক্তির একাধিক প্রতিষ্ঠান ॥ অংশগ্রহণ করতে পারেনি দেশের অন্য কেউ   * ভাইদের দোয়ায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং   * বিএনপি নেতারা কেন স্ত্রীদের ভারতীয় শাড়ি পোড়াচ্ছেন না, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর   * নোয়াখালি টিটিসির অধ্যক্ষের কু-কীর্তি-২  

   রাজনীতি
রাজধানীজুড়ে গ্যাস আতঙ্ক .অন্যতম কারণ -গ্যাসের ব্যবহার কম হওয়ায় ছিল বাড়তি চাপ
  Date : 26-04-2023
Share Button


নিজস্ব প্রতিবেদক-
গত সোমবার রাত ১১টার পর রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় গ্যাসের তীব্র ঝাঁজালো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লেগে যেতে পারে, এ ভয়ে অনেকেই তাই সেই সময় চুলা জ্বালানো বন্ধ রাখেন। তাদের ভয় আতঙ্কে রূপ নেয়, যখন স্থানীয় মসজিদের মাইক থেকে এলাকাবাসীকে চুলো জ্বালাতে বারণ করা হয়। উপরন্তু রাজধানীতে সম্প্রতি একের পর এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দগদগে স্মৃতি। সব মিলিয়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, ভয়ে-আতঙ্কে অনেকে পুরো রাত কাটিয়েছেন নির্ঘুম। গতকাল এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে পৃথক বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে- সব কিছু ঠিক আছে। কাজেই আতঙ্কের কিছু নেই। কিন্তু কেন তবে গ্যাসের তীব্র ঝাঁজালো গন্ধ ভেসে এলো রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়? এমন প্রশ্নে তিতাস ও পেট্রোবাংলা বলছে- ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে মানুষের চাপ কম থাকায় গ্যাসের পাইপলাইনের লিকেজ চিহ্নিত করা হচ্ছিল। এ জন্য ‘ওডোর‌্যান্ট’ নামে ঝাঁজালো গন্ধের এক ধরনের রাসায়নিক প্রবেশ করানো হয়েছিল গ্যাসের পাইপলাইনে। এদিকে শিল্পকারখানাসহ আবাসিক গ্রাহকের গ্যাসের চাহিদা কম থাকলেও পাইপে গ্যাসের চাপ ছিল বেশি। ফলে পাইপের যেসব স্থানে লিকেজ আছে, সেসব স্থানে ওডোর‌্যান্ট ও গ্যাস মিলিয়ে তীব্র গন্ধ পাওয়া গেছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিতাসের এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, ঈদের বন্ধে জিটিসিএল থেকে তিতাসে গ্যাস সরবরাহ কম দিতে বলা হলেও সরবরাহ কমানো হয়নি। ফলে গ্যাসের চাপ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিউৎসাহী হয়ে মসজিদের মাইকে গ্যাস ব্যবহার করতে নিষেধ করা। তদুপরি রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আতঙ্কিত হওয়ার মতো নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়া।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাত ১১টার পর রাজধানীর মগবাজার, ইস্কাটন, রামপুরা, মহাখালী, পূর্ব রাজাবাজার, ক্রিসেন্ট রোড, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বাড্ডা ও হাজারীবাগ এলাকায় গ্যাসের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে মর্মে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিভিন্ন এলাকার মসজিদের মাইক থেকে গ্যাসের চুলা বা আগুন না জ্বালানোর পরার্মশও ভেসে আসে|
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ মোল্লা বলেন, লিকেজ চিহ্নিত করতে পাইপলাইনে কেমিক্যাল প্রয়োগ এবং গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মধ্য আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমাদের টেকনিক্যাল টিম গ্যাসের চাপ কমিয়ে এনে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেছে। জিটিসিএল থেকে গ্যাসের চাপ বেশি ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছুটা বেশি ছিল। সব সময় টেকনিক্যাল কারণে চাইলেও কম সরবরাহ করা যায় না। বিভিন্ন এলাকায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো নির্দেশনা তিতাস থেকে দেওয়া হয়নি। এসব কাজে আরও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এদিকে রাজধানীজুড়ে গ্যাসের আতঙ্কের বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) মো. কামরুজ্জামান আমাদের সময়কে বলেন, গ্যাস পাইপলাইনে ওডোর‌্যান্ট ব্যবহার করায় এবং গ্যাসে সরবরাহে চাপ বেশি থাকায় গন্ধ ছড়ায়। এটি তেমন কোনো ঘটনা নয়। মানুষ অকারণেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ঈদে গ্যাসের ব্যবহার কম থাকায় প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কম করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর পরও তিতাস এলাকায় গ্যাসের চাপ বেশি ছিল। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ লাইনে চাপ স্বাভাবিক রয়েছে এবং গ্যাসের সরবরাহ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে। এ নিয়ে জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে নির্বিঘ্নে গ্যাস ও চুলা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিনের পাঠানোর ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে তিতাস গ্যাসের ১৪টি ইমার্জেন্সি টিম এসব এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে। একই সঙ্গে যেসব ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশনের (ডিআরএস) মাধ্যমে ঢাকায় গ্যাস সরবরাহ করা হয়ে থাকে, সেসব ডিআরএস থেকে গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেওয়া হয়। এ কারণে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে শিল্পকারখানা বন্ধ থাকাসহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গ্যাসের ব্যবহার হ্রাস পাওয়ায় গ্যাস সরবরাহ লাইনে চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছিল।

রাজধানীর পাইপলাইন ৪০ বছরের পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ
ঢাকায় যে গ্যাস বিতরণ ও সঞ্চালন লাইন- এগুলো প্রায় ৪০ বছরের পুরনো। অনেক পাইপলাইন মাটির ৭ থেকে ১০ ফুট নিচে চলে গেছে। ফলে পাইপলাইনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রায়ই গ্যাসের লিকেজ থেকে দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে তিতাস সূত্রে জানা যায়, পুরনো গ্যাস পাইপলাইন পরিবর্তন করার জন্য ইতোমধ্যে তিতাস গ্যাস একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। সেটি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। ১৯৬৭ সালে ঢাকায় পাইপলাইন নির্মাণের কাজ শুরু করে তিতাস। নগরীতে এই পাইপলাইন সম্প্রসারণ হয় ১৯৮০ সালের পর। সেসব পাইপলাইনের মেয়াদ ছিল ৩০ বছর। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার ১০ বছর পরও ওই পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক কারণেই গ্যাস সরবরাহের লাইনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জরাজীর্ণ পাইপলাইন ও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক নিয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল আলম বলেন, প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে, কিন্তু দায় নিচ্ছে না কেউ। তিতাসের পাইপলাইন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। মানুষ ঝুঁকির মধ্যেই আছে। তিনি বলেন, দ্রুত উচিত ঝুঁকিপূর্ণ পাইপলাইন চিহ্নিত করে সেগুলো পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।



  
  সর্বশেষ
সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে উদীচীর অনুষ্ঠান দুঃখজনক : তথ্য প্রতিমন্ত্রী
চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমানের মেয়ের লাশ হোটেলে
শুদ্ধাচারে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য হলে ব্যবস্থা
বিদেশি ঋণ :ভাত দিয়ে ভাত খাওয়ার মত

প্রধান সম্পাদক: এনায়েত ফেরদৌস , অনলাইন সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত ) কামরুজ্জামান মিল্টন |
নির্বাহী সম্পাদক: এস এম আবুল হাসান
সম্পাদক জাকির হোসেন কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত ও বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২/২, ইডেন কমপ্লেক্স (৪র্থ তলা) সার্কুলার রোড, ঢাকা ১০০০। ফোন: ০১৭২৭২০৮১৩৮, ০১৪০২০৩৮১৮৭ , ০১৫৫৮০১১২৭৫, ই-মেইল:bortomandin@gmail.com