নিজস্ব সংবাদদাতা:
মাদারীপুরে বঙ্গবন্ধু ‘ল’ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছ থেকে রেজুলশেন করিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট জামিনুর হোসেন মিঠু’র বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় থানায় সাধারণ জিডি করেছে খোদ কলেজের অধ্যক্ষ। বিষয়টিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা যায়, কলেজের সভাপতির পদ নিয়ে বেশকিছুদিন ধরে অ্যাডভোকেট গোলজার আহম্মেদ চিশতী ও অ্যাডভোকেট জামিনুর হোসেন মিঠু’র মধ্যে আইনী লড়াই চলছে। সভাপতির পদ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করলে গত ১৫ জুলাই গোলজার আহম্মেদ চিশতীর সভাপতির পদ তিনমাসের জন্য স্থগিত করা হয়। এই আদেশে কাগজে স্বাক্ষর হয় গত ২১ জুলাই। এই রিটের বিরুদ্ধে ১৬ জুলাই ঢাকার চেম্বার আদালতে সিভিল মিস পিটিশন দাখিল করেন গোলজার আহম্মেদ চিশতী। যার শুনানী ৩ আগস্ট হওয়ার কথা। কিন্তু নিজেকে বৈধ সভাপতি দাবি করে বঙ্গবন্ধু ‘ল’ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউল করিমের কাছ থেকে রেজুলশেন করিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ উঠেছে অ্যাডভোকেট জামিনুর হোসেন মিঠু’র বিরুদ্ধে। গত ১৭ ও ২৫ জুলাই দুটি রেজুলেশন করা হয়। এ ঘটনায় কলেজের ক্ষতি হতে পারে মর্মে উল্লেখ করে গত ২৬ জুলাই জামিনুর হোসেন মিঠু’র নাম উল্লেখ করে সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
সূত্র জানায়, গত ১৭ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বাসভবন হরিকুমারিয়া এলাকায় লোকজন নিয়ে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মাধ্যমে রেজুলেশন করে স্বাক্ষর করিয়ে নেন অ্যাডভোকেট জামিনুর হোসেন মিঠু। পরে ২৫ জুলাই ৩০-৪০জন লোক নিয়ে কলেজের ভেতরে বসে আরেকটি রেজুলেশন করিয়ে স্বাক্ষর নেন তিনি। যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমলোচনা শুরু হয়।
এদিকে সভাপতির পদ নিয়ে বিরোধের ঘটনায় গভর্নিং বডির সদস্য পদ থেকে গত ১৬ জুলাই পদত্যাগ করেন ইয়াসমিন আক্তার মনি ও বিদ্যুৎসাহী সদস্য মো. সাইফুর রহমান। পদত্যাগ করার পরও ১৭ ও ২৫ জুলাইয়ের রেজুলেশনে তাদের দুইজনের স্বাক্ষর দেখা গেছে। যা নিয়ে উঠেঠে প্রশ্ন।
ইয়াসমিন আক্তার মনি বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করার পর ‘ল’ কলেজে আর যাইনি। আর রেজুলেশন কাগজে স্বাক্ষর করার বিষয়ে আমি জানি না।’ মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমি ‘ল’ কলেজে আমার পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। এটি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করি। রেজুলেশনে স্বাক্ষরের ব্যাপারে আমি পরে কথা বলবো।’ এ ব্যাপারে অ্যাডভোকেট জামিনুর হোসেন মিঠু বলেন, ‘আমি কলেজের বৈধ সভাপতি। সেই হিসেবে আমি কলেজের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আলাদা আলাদা তারিখে দুটি রেজুলেশন করি। পুরো রেজুলেশন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজহাতে লিখেছেন। কলেজে বসেই স্বাক্ষর হয়। কাউকে জোর করে আমি স্বাক্ষর নেয়নি। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের করা হচ্ছে।’
বঙ্গবন্ধু ‘ল’ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি রেজুলেশন করতে চাই নি। প্রথম রেজুলেশন রাতে আমার বাসভবনে বসে হয়েছে। সেখানে লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করে নেন সভাপতি দাবি করা জামিনুর হোসেন মিঠু। একইভাবে কলেজের ভেতর অজ্ঞাত লোকজন নিয়ে দ্বিতীয়দফায় রেজুলেশন করতে বাধ্য করেন তিনি। আমার সাথে এমন অন্যায় কাজ করবে বুঝতে পারিনি। আমি বিষয়টি নিয়ে হতবাক। পরে বাধ্য হয়ে থানায় জিডি করেছি।’
অ্যাডভোকেট গোলজার আহম্মেদ চিশতী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ‘ল’ কলেজের সভাপতির পদ নিয়ে আইনীভাবে মোকাবেলা করা হচ্ছে। চেম্বার আদালতে সিভিল মিস পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। সেখান থেকে কোন ফলাফল না আসার আগে কেউ নিজেকে বৈধ সভাপতি বলে দাবি করা অন্যায়। আর জোরপূর্বক রেজুলেশন করাটাও অপরাধ।’
মাদারীপুর সদর মডেল থানার পরিদর্শক মো. মহসিন জানান, ‘জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়ার ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থানায় জিডি করেছেন। অপরদিকে জামিনুর হোসেন মিঠু, জোরকরে কোন স্বাক্ষর নেননি মর্মে আলাদা জিডি করেছে। দুটি জিডি’ই তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’