বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   বিজ্ঞান প্রযুক্তি
প্রযুক্তির অপব্যবহার, সাইবার অপরাধ ও তথ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে বাড়ছে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ
  Date : 31-07-2026
Share Button

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অন্ধকার দিক

একসময় যে কবি নিজের অন্তরের গভীর অনুভূতি, কল্পনা ও জীবনবোধ থেকে কবিতা লিখতেন, আজ তার অনেকেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নিচ্ছেন। যে শিক্ষার্থী একসময় শিক্ষকের কাছ থেকে জ্ঞান ও প্রেরণা গ্রহণ করত, আজ তার একটি বড় অংশ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার দিকে ঝুঁকছে। ছবি আঁকা, ভবনের নকশা তৈরি, গবেষণাপত্র লেখা—সব ক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, এই নির্ভরতা কি মানুষের নিজস্ব সৃজনশীলতা ও চিন্তাশক্তিকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিচ্ছে?

প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা মানবসভ্যতার ইতিহাসে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগুনের আবিষ্কার, বিদ্যুৎ, শিল্পযন্ত্র থেকে শুরু করে কম্পিউটার—প্রতিটি আবিষ্কার মানুষের জীবনকে সহজ করেছে। একবিংশ শতাব্দীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই ধারার সর্বশেষ সংযোজন। এটি চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞান বিশ্লেষণে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। কিন্তু এই শক্তিশালী প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

বর্তমান বিশ্বে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নথি কম্পিউটারভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। এসব তথ্য ও ব্যবস্থার নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে একটি দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন ও জনজীবনে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপরাধীরা আরও পরিকল্পিত প্রতারণা, তথ্য চুরি ও সাইবার হামলার চেষ্টা করতে পারে।

তথ্যের জগতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন সংকট তৈরি করেছে। মিথ্যা ছবি, ভিডিও ও কণ্ঠস্বর তৈরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা এখন আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যক্তির সম্মানহানি, আর্থিক প্রতারণা, সামাজিক বিভ্রান্তি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। ভবিষ্যতে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয় আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সামরিক ক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। যদি কোনো অস্ত্রব্যবস্থা মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। ভুল সিদ্ধান্তের কারণে নিরীহ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই প্রযুক্তির ব্যবহারে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বড় পরিবর্তন আনছে। অনেক প্রচলিত কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় কিছু পেশায় সংকট তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন কর্মক্ষেত্রও সৃষ্টি হবে। তবে পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা না করা হলে সমাজে বৈষম্য বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইনের ক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, মিথ্যা তথ্য প্রচার, অন্যের সৃষ্টিকর্মের অপব্যবহার এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের দায় নির্ধারণ—এসব বিষয়ে নতুন আইন ও নীতিমালার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

অনেক বিজ্ঞানী সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে অত্যন্ত উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তা মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে এটি এখনো ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বিষয়। বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের তৈরি নিয়ম, তথ্য ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে পারমাণবিক অস্ত্রের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা না গেলেও পারমাণবিক অস্ত্রের ধ্বংস তাৎক্ষণিক ও দৃশ্যমান। অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি ধীরে ধীরে মানুষের চিন্তা, তথ্যব্যবস্থা, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

মানবসভ্যতা প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। কিন্তু প্রযুক্তি যেন মানুষের সৃজনশীলতা, স্বাধীন চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধকে গ্রাস না করে—সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবকল্যাণের শক্তি হবে, নাকি ভবিষ্যতের সংকটের কারণ হবে—তা নির্ভর করবে মানুষের প্রজ্ঞা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর।

লেখক একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক, কলামিস্ট, নীতি বিশ্লেষক ও উন্নয়নকর্মী

লেখক


  
  সর্বশেষ
৬ লাখ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ
রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তাকে লাঞ্ছিত করায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান ঢাকা জেলা প্রশাসকের
নিরাপত্তা ও পর্যটনের ভবিষ্যৎ রক্ষায় কক্সবাজারকে মানব পাচার ও অপরাধমুক্ত করতে হবে

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com