৬ হাজার শসা, ২৩০০ টি করলা ও ২৬০ টি লাউয়ের বীজ নষ্ট
নেহাল আহমেদ; রাজবাড়ী
রাজবাড়ীতে পূর্বশত্রুতার জেরে রাতের অন্ধকারে সোহেল মন্ডল নামে এক কৃষকের সবজি ক্ষেত বিনষ্ঠের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী কৃষক।
বুধবার (২৪ জুন) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের খন্দকারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ওই দিনই ৬ জনের নাম উল্লেখ করে রাজবাড়ী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক। তিনি একই গ্রামের বিলায়েত মন্ডলের ছেলে।
অভিযুক্তরা হলেন, সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে রোমান (২৬),হাকিম মোল্লার ছেলে মোহন মোল্লা (৪২), ছালামের ছেলে বিপুল (৪০), জমির শিকদারের ছেলে জহুরুল শিকদার ওরফে গেদা (৪৬), হাকিম মোল্লার ছেলে বাশি মোল্লা (৩৫) ও জিল্লু খন্দকারের ছেলে রুবেল খন্দকার (৩৫)
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, দেড় মাস আগে মোছা. মুনমুন নামে এক নারীর কাছ থেকে পুকুরসহ পৌনে দুই একর জমি তিন বছরের জন্য ইজারা নিয়েছিলেন সোহেল মন্ডল। ইজারা নেওয়ার পর পুকুরে মাছের চাষ শুরু করেছেন। পুকুরের মাছ ও সবজির নিরাপত্তার জন্য পাড়ের চারপাশে নেটজাল দিয়ে বেড়া দিয়েছিলেন তিনি। এরপর পুকুরপাড় দিয়ে ২০ থেকে ২৫ দিন আগে ৬ হাজার শসা, ২ হাজার ৩০০ টি করলা, ও ২৬০ টি লাউয়ের বীজ বপন করেন তিনি। বীজগুলো অঙ্কুরিত হয়ে বড় হওয়া শুরু করেছিল। গত বুধবার দিবাগত রাতে পুকুর পাড়ের চারপাশের বেড়ার নেট কেটে কয়েক খন্ড করে এবং একইসাথে পাড়ের সকল সবজির চারা উত্তোলন করে পুকুরে ফেলে গেছেন অভিযুক্তরা।
সোহেল মন্ডল বলেন, “আমি যখন এই পুকুর ইজারা নেই তখন রোমান, মোহন মোল্লারাও ইজারা নিতে চেয়েছিল। আমি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে জমির ইজারা পাই। তারপর থেকেই তারা আমাকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলো। এই জমি ও পুকুরে কিভাবে চাষাবাদ করি তাও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। তারা ছাড়া আমার আর কোন শত্রু নেই। গত রাতে তারা আমার প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি করেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বাগমারা-ধাওয়াপাড়া সড়কের বাগমারা থেকে একটু আগালেই সামনে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের পেছনেই মাঠ। মাঠের মধ্যে একটি বড় পুকুর। পুকুর পাড়ের চারপাশে নেট জালের কাটা বেড়া বাতাসে দোল খাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পাড়ের চারপাশে উঠানো চারাগুলো কুড়াচ্ছেন।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জনি খান। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। একটি সম্ভাবনাময় সবজির বাগান বিনষ্ট করা হয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এর সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার সর্বোচ্চ সহযোগীতার আশ্বাস দেন তিনি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ `দৈনিক বর্তমান দিন`কে বলেন, “সোহেল মন্ডল নামে এক ব্যক্তি একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”