| |
| খুলনায় অনলাইন ক্যাসিনো ও হ্যাকিং চক্রের হোতা রাব্বি গ্রেপ্তার: নেপথ্যের ‘গডফাদার’দের নিয়ে তোলপাড় |
| |
| |
|
| |
| |
| নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা: খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলায় অনলাইন ক্যাসিনো ও সরকারি অর্থ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের মূল হোতা রাব্বি শেখকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তবে মূল হোতা রাব্বি গ্রেপ্তার হলেও তার সহযোগীরা এখনো অধরা রয়ে গেছে। অন্যদিকে, অপরাধী চক্রটিকে বাঁচাতে নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী মহলের নানামুখী তদবিরের বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বটিয়াঘাটা উপজেলার কেসমত শোলাকুড়া গ্রামের সাহাবুদ্দিন শেখের বড় ছেলে রাব্বি শেখ এবং তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বসে অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হ্যাক করে আসছিল। চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে একই এলাকার মাহাবুর শেখের ছেলে শফিকুল ও ইনামুল শেখের ছেলে মামুনের নাম উঠে এসেছে। অত্যন্ত অল্প সময়ের ব্যবধানে এই চক্রটি সাইবার অপরাধের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক ও কোটিপতি বনে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং বেসরকারি ব্র্যাক ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ঢাকা সিআইডির একটি চৌকস দল খুলনায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে রাব্বিকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে সে জেলহাজতে রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, এই চক্রটির দীর্ঘদিনের অপকর্মের পেছনে ঢাল হিসেবে কাজ করেছেন একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি। রাব্বি শেখ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে আইনি ও রাজনৈতিক বেড়াজাল থেকে ছাড়িয়ে নিতে নেপথ্যের গডফাদারদের ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ ও তদবির শুরু হয়।
সাবেক এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এই চক্রটিকে দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও কৌশলগত শেল্টার দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাব্বি গ্রেপ্তারের পর খুলনা থেকে শুরু করে ঢাকা সিআইডি হেডকোয়ার্টার পর্যন্ত যে তদবিরের তোড়জোড় চলছে, তার পেছনে এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বড় ভূমিকা রয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এছাড়া সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরাফাত শেখের বিরুদ্ধেও এই চক্রটিকে রাজনৈতিকভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার এবং ক্ষমতার দাপট দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরাফাত শেখ বলেন, "রাব্বি যে একজন ক্যাসিনো গডফাদার এবং ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময় ক্যাসিনো ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের অপরাধে আটক হয়েছিল—এটা সে শুনেছেন। সে আমার দূর সম্পর্কের আত্মীয় হওয়ার কারণে আমি তাকে ঢাকা থেকে জেলমুক্ত করার চেষ্টা করেছি মাত্র।" কিন্তু পরবর্তীতে আমি তার জেল খানায় থাকার জন্যে প্রয়োজনীয় কাপড় চোপড় ও খোরাকির জন্যে কিছু নগদ অর্থ প্রদান করে খুলনা ফিরে আসি।
এদিকে ক্যাসিনো গডফাদারকে বাঁচাতে দলীয় নেতার তদবিরের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু। এই ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট ও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,"অপরাধের সাথে কোনো আপস নেই। অপরাধী যদি আমার নিজের বাবাও হয়, তবুও তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীর পরিচয় শুধুই অপরাধী।" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই সাইবার অপরাধী ও ক্যাসিনো চক্রের কারণে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে। পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এই এলাকার মাদক ও ক্যাসিনোর গডফাদারদের দ্রুত নির্মূল করে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এখন সাধারণ মানুষের একমাত্র কাম্য।
|
| |
|
|
|
| |
|
|
প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান
, সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com
|
|
| |
|