শাহীন আব্দুল বারী
বয়স ৯০ ছুঁইছুঁই। স্বামীকে হারিয়েছেন বহু বছর আগে। বয়সের ভারে শরীর আর আগের মতো সাড়া দেয় না। হাঁটাচলাও প্রায় বন্ধ। এমন অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে মানবেতন জীবনযাপন করছিলেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কোনাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা জয়গুন বেগম।
তার এই দুর্দশার খবর স্থানীয় একজনের মাধ্যমে জানতে পারেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিষয়টি জানার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়াকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার (২২ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ইউএনও সরেজমিনে জয়গুন বেগমের বাড়িতে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থা ও পারিবারিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, জয়গুন বেগম ওই এলাকার বাসিন্দা মৃত রাজ আলীর স্ত্রী। চার ছেলে ও তিন মেয়ের জননী তিনি। সন্তানদের সবারই আলাদা সংসার। ছেলেরাও এখন বয়স্ক এবং আর্থিকভাবেও অস্বচ্ছল। সীমিত আয়ের কারণে মায়ের চিকিৎসা ও দেখভালের দায়িত্ব নিয়মিতভাবে পালন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া সম্প্রতি জয়গুন বেগমের বড় ছেলে স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী অবস্থায় আছেন।
পরিবারের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং দুই প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন ইউএনও। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বৃদ্ধা জয়গুন বেগম এবং তিনি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর জন্য দোয়া করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া বলেন, ওই বৃদ্ধা নারীর বিষয়ে আগে অবগত ছিলাম না। মাননীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় অসহায় এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে। জয়গুন বেগম বর্তমানে বিধবা ভাতা পাচ্ছেন। যেকোনো প্রয়োজন হলে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এই বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সুখ-দুঃখের খবর রাখা আমার দায়িত্ব। কোনো অসহায় মানুষ যেন চিকিৎসা, খাদ্য বা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটি নিশ্চিত করতে আমি সবসময় চেষ্টা করে যাচ্ছি। এছাড়া প্রশাসনকেও মানবিকভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।