বুধবার, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   অপরাধ-দূর্নীতি
একাধিক অভিযোগেও থামছে না শরীয়তপুরের খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ুন কবীরের দৌরাত্ম্য
  Date : 01-09-2026
Share Button

⊕ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত
⊕ চেক জালিয়াতি
⊕ অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাৎ
⊕ দায়িত্ব পালনে গাফিলতি

মো. হুমায়ুন কবির:

শরীয়তপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ উঠলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে। অনিয়ম, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও কর্মস্থলে বেপরোয়া আচরণের অভিযোগের পাশাপাশি ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্য দিবালোকে একজন আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবেও তার নাম এসেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় হুমায়ুন কবির একদিকে যেমন বেপরোয়া হয়ে উঠছেন তেমনি তার ক্ষমতার দম্ভ ও দৌরাত্ম্য আরও বেড়েছে।

আইনজীবীর উপর হামলার অভিযোগে মামলা

সম্প্রতি রাজধানীর আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্য দিবালোকে ঢাকা বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোহাইমিনুল ইসলাম খানকে মারধরের অভিযোগে শরীয়তপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ুন কবীরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

গত ২৭ আগষ্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুরে বাদী মো. মোহাইমিনুল ইসলাম খান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালতে মামলার আবেদন করেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সংশ্লিষ্ট আদালত অভিযোগটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোতোয়ালি থানায় এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন। পরে কোতোয়ালি থানা মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে।

মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলো- শরীয়তপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ুন কবির, তার কন্যা উম্মে হাফসা তন্বী, মো. আশরাফুল আলম খান, মাহাবুব আলম খান, শাহাদাত হোসেন, জিদান, মো. মোহিবুল্লাহ, রায়হান, খালেদ সাইফুল্লা নাঈম ও আরমান হোসেন।  মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২৫শে আগস্ট (মঙ্গলবার) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে যৌতুক নিরোধ আইনের একটি মামলায় আসামিপক্ষের হয়ে শুনানি শেষে মক্কেলদের সঙ্গে নিয়ে নিজ চেম্বারে ফেরার সময় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত সংলগ্ন হাজতখানার সামনে তার ওপর হামলা চালানো হয়।

বাদীর অভিযোগ, প্রথম চার আসামির মদদে ভাড়াটে লোকজন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা তার মাথা, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি ও লাথি মারে। চিৎকার শুনে আদালত প্রাঙ্গণে থাকা আইনজীবী ও সাধারণ লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এদিকে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় হামলাকারীদের মধ্যে ছয়জনকে হাতেনাতে আটক করে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে মূল অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আরও ২০ থেকে ২৫ জন ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির মূল ভবনের তৃতীয় তলায় প্রবেশ করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে উপস্থিত আইনজীবীদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং দম্ভোক্তি করেন। এসময় ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খান ছাত্রদলের ক্যাডার পরিচয় পাওয়ার পর আটককৃতদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।

হামলার ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী জনৈক হারুন রশীদ এই প্রতিবেদককে বলেন, হামলাকারীরা আইনজীবী ও তার মক্কেলদের উপর অতর্কিতে হামলা করে তাদের বেধড়কভাবে মারধর করে এবং আইনজীবীর পোশাক ছিঁড়ে ফেলেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এবং আইনজীবীরা এগিয়ে এলে বহিরাগত কিছু লোক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। আর কয়েকজনকে আটক করেন আইনজীবীরা।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, যৌতুক সংক্রান্ত একটি মামলার আসামি আবির ইবনে হারুনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেয়ায় অ্যাডভোকেট মো. মোহাইমিনুল ইসলাম খানকে মারধর করেন উক্ত মামলার বাদিনী উম্মে হাফসা তন্বীর বাবা হুমায়ুন কবির ও মামা মো. আশরাফুল আলম খান।

উল্লেখ্য, আসামী আবির ইবনে হারুন এবং যৌতুক মামলার বাদিনী উম্মে হাফসা তন্বী সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। কিছুদিন আগে স্ত্রী তন্বী`র কাছে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেছিলেন স্বামী হারূন। যৌতুকের টাকা না দিলে বাদিনীকে বাসায় নেবে না বলেও সে হুমকি দেয়। এনিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে প্রায়শই স্ত্রীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, শারিরীক ও মানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল আসামি হারুনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বাদিনী তন্বী।

বাদী অ্যাডভোকেট মো. মোহাইমিনুল ইসলাম খান বলেন, মূল অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির অযথাই আমাকে মেরেছেন। লোকমুখে শুনেছি যে তিনি নাকি শরীয়তপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে কর্মরত আছেন। নিজের ক্ষমতা জাহির করতে এবং ক্রোধের বশবর্তী হয়ে আমার উপর এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় একজন আইনজীবীর ওপর  এই ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করার জোর দাবি জানাই। একইসঙ্গে আমি দ্রুত আইনজীবী সুরক্ষা আইন চাই।

৪৪ লাখ টাকার চাল ও চেক জালিয়াতির অভিযোগ

শরীযতপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ুন কবির ও শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া এলএসডির (খাদ্য গুদামের) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ নেওয়ান আলম (দিনা)-র বিরুদ্ধে সরকারের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্রমতে, সদর উপজেলার আংগারিয়া বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ী মতিউর রহমান খানের মালিকানাধীন খান রাইস মিলের নামে আমন চাল সংগ্রহ দেখিয়ে বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি গুদামের প্রায় ৪৪ লাখ টাকা মূল্যের ৪০০ বস্তা চাল পাচার এবং চেক জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের (ওসিএলএসডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ আলমের বিরুদ্ধে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের  ১২ জানুয়ারি মিল মালিক মতিউর রহমান খানের সোনালী ব্যাংক শরীয়তপুর শাখার হিসাব নাম্বার থেকে দেওয়া একটি ম্যাসেজের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন তার হিসাব নম্বর থেকে একটি চেক ইস্যু করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

পরবর্তীতে সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজারের সাথে যোগাযোগ করে তিনি জানাতে পারেন, তার হারিয়ে যাওয়া একটি চেকের (হারানো চেকের জিডি নাম্বার পালং মডেল থানা ৯৭০) মাধ্যমে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ আলম (দিনা) তার লোক দিয়ে টাকা উত্তোলন করেছেন।

গ্রাহককে ফোন না দিয়ে বা অনুমতি না নিয়ে কেন চেকের টাকা প্রদান করা হয়েছে এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর সোনালী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখার ম্যানেজার দিতে পারেনি বলে লিখিত অভিযোগে দাবী করেছেন মতিউর রহমান খান।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম

উক্ত লিখিত অভিযোগে খান রাইস মিলের মালিক মতিউর রহমান খান আরও উল্লেখ করেছেন, শরীয়তপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ুন কবির ও শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ আলম (দিনা) যোগসাজস করে তার অজান্তে তার সহি স্বাক্ষর নকল করে খান রাইস মিলের নামে পে-অর্ডার করেছে। টিআর কাবিখার চাল কিনে তা দিয়ে সংগ্রহ সমন্বয় করেছে। আবেদনের অনুলিপি সংবাদিকদের মাঝে বিতরণ করে এই বিষয়ে ন্যায় বিচার দাবী করেন মতিউর রহমান খান।

এর কয়েকদিন পরে স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী এক বিএনপির নেতার মাধ্যমে খান রাইস মিলের মালিক মতিউর রহমান খানের সাথে টাকার বিনিময়ে সমঝোতার একটি অডিও স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে ছড়িয়ে পরে। যাতে পুরো ঘটনা স্বীকার করে ধান ও চাল সংগ্রহের লাভের টাকার ভাগবাটোয়ারা করতে শুনা যায়।

রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার

উক্ত অডিওতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলতে শুনা যায়, তার তো (মতিউর রহমান খান) মিলই নাই। এরপর গুদামের এক স্টাফ মীমাংসা করতে আসা নেতাকে বিষয়টি সুরাহা করে দেয়ার অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধে ওই নেতা কিভাবে মীমাংসা করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেন। সেক্ষেত্রে ব্যাংকে গিয়ে মতিউর রহমান খানকে ওই চেকে স্বাক্ষর করে দেয়ার শর্ত দেওয়া হয়।

ফাঁস হওয়া উক্ত অডিওতে কিভাবে এবং কাদের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে, কার ফোনে কোন সিন্ডিকেট গুদামে ধান প্রদান করেছে, লাভের টাকা কিভাবে বন্টন করা হয়েছে সেসব বিস্তারিতই শোনা যায়।

এরপর প্রভাবশালী ঐ বিএনপি নেতা সালিসি বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে অভয় দিয়ে বলেন, আমরা নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে ফেললে এসব অভিযোগের কিছুই হবে না। সাংবাদিকদের নিউজে কি হয়। গুদামে কোন সাংবাদিককে ঢুকতে দিবে না। এমন সব কথোপকথনও হয়েছে ওই অডিওতে।

তদন্তে গাফিলতি

এদিকে, স্থানীয় এক সাংবাদিক আংগারিয়া এলএসডিতে নীতিমালা বর্হিভূতভাবে ধান সংগ্রহের বিরুদ্ধে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে লিখিত আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে খাদ্য সচিবের নির্দেশে ঢাকা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুন ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

উক্ত তদন্ত কমিটিতে মাদারীপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে আহবায়ক আর ফরিদপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) ও শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতি: দা:)-কে সদস্য করা হয়। তবে বিপত্তি বাধে শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অতি: দা:) আব্দুর রাজ্জাককে নিয়ে। আব্দুর রাজ্জাক শরীয়তপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং যেই সময়কার ধান ও চাল সংগ্রহ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে সেই সংগ্রহের সময়ও ওই উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের দাবী, স্বচ্ছ তদন্ত হলে আব্দুর রাজ্জাককেও অপরাধীর কাঠগরায় দাড় করাতে হবে। গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুজনে যৌথভাবে সকল কেনাকাটা করে থাকেন এবং দুজনের যৌথ স্বাক্ষরেই কেনাকাটা সম্পন্ন হয়। যাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করা হবে তাদেরই একজনকে তদন্ত কমিটিতে রাখায় ”শস্যের মাঝেই ভুত” দেখছেন স্থানীয়রা। আঞ্চলিক কর্মকর্তা সুরাইয়া খাতুন দায় এড়াতে এবং অভিযুক্তদের রক্ষা করতেই এমন তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বলে ধারনা করছেন তারা।

স্থানীয় মিলার ও সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে নামমাত্র তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বদলি করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তাদের প্রশ্ন, সরকারি খাদ্য গুদামের বিপুল পরিমাণ চাল কীভাবে পাচার হলো এবং চেক জালিয়াতির মতো ঘটনা কীভাবে ঘটল—এই বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে হুমায়ুন কবীরের তদারকি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়েছিল কি না।

সম্পৃক্ততা অস্বীকার হুমায়ুন কবীরের

চেক জালিয়াতি ও খাদ্য গুদামের দুর্নীতির সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন হুমায়ুন কবীর। তার বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট অনিয়মের বিষয়ে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগকারীদের বক্তব্য, জেলা খাদ্য বিভাগের প্রধান হিসেবে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম তদারকি ও অনিয়ম প্রতিরোধে তার প্রশাসনিক দায়িত্ব রয়েছে। ফলে গুদামে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি কীভাবে তদন্ত ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আসা উচিত।

অভিযোগের পর অভিযোগ, প্রশ্ন জবাবদিহি নিয়ে

একদিকে খাদ্য গুদামে সরকারি চাল পাচার ও চেক জালিয়াতির অভিযোগ, অন্যদিকে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় ফৌজদারি মামলা—সব মিলিয়ে হুমায়ুন কবীরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

সচেতন মহলের দাবি, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে অপরাধী হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে অভিযোগগুলো গুরুতর হলে সেগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নজরদারি ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করা দরকার।

তাদের মতে, সরকারি খাদ্যব্যবস্থাপনার মতো স্পর্শকাতর একটি প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ উপেক্ষা করা হলে এর প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর নয়, পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপরই পড়ে। ফলে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এখন সেটিই দেখার বিষয়।



  
  সর্বশেষ
রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তাকে লাঞ্ছিত করায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান ঢাকা জেলা প্রশাসকের
নিরাপত্তা ও পর্যটনের ভবিষ্যৎ রক্ষায় কক্সবাজারকে মানব পাচার ও অপরাধমুক্ত করতে হবে
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে ফের সিন্ডিকেটের শঙ্কা

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com