☞ ২৫ এজেন্সির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
☞ বোয়েসেলের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চায় বায়রা
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খুলতে আলোচনা যখন এগোচ্ছে, ঠিক তখনই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে মাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে কেন্দ্র করে আবারও একটি ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) একদল সদস্য।
তাদের অভিযোগ, অতীতের বিতর্কিত অভিজ্ঞতার পরও যদি সীমিতসংখ্যক এজেন্সির হাতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়, তাহলে কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের ঝুঁকি আবারও বাড়তে পারে।
সম্ভাব্য সিন্ডিকেট ঠেকাতে সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর প্রস্তাবও দিয়েছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বায়রার সদস্যরা এসব দাবি তুলে ধরেন।
২৫ এজেন্সি ঘিরে নতুন বিতর্ক
বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি তারা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বিভিন্ন মহল ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারছেন, আবারও মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে কেন্দ্র করে একটি একচেটিয়া নিয়োগব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে।
তার দাবি, ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ৫০ লাখ রিঙ্গিত—বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৭ কোটি টাকা—দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীপ্রতি সর্বোচ্চ ৫ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত ‘সিন্ডিকেট ফি’ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়া কোনো অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
৪৯ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, প্রশ্ন থেকেই যায়
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সরকারি পদক্ষেপও। গত জুলাইয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অনিয়ম ও সিন্ডিকেট-সংক্রান্ত অভিযোগে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করে।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার পর এসব এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সিন্ডিকেট গঠন এবং কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম।
এর আগে ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যান। ওই সময়ে কর্মীপ্রতি প্রায় চার থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার নানা অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই ২০২৪ সালের ১ জুন বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়।
এখন সেই বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়ায় যদি আবারও সীমিতসংখ্যক এজেন্সিকে কেন্দ্র করে নিয়োগব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাহলে অতীতের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না—এমনটাই মনে করছেন বায়রার সংশ্লিষ্ট সদস্যরা।
হাজার কোটি টাকার অভিযোগ
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও কম গুরুতর নয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানো এবং সরকারি নির্ধারিত ব্যয়ের অতিরিক্ত প্রায় ৪৫.৪৫ বিলিয়ন টাকা আদায়ের অভিযোগের কথা উঠে এসেছে।
এই অঙ্কটি হাজার কোটি টাকারও বেশি। ফলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আর্থিক জবাবদিহির প্রশ্নটি এখন কেবল প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি বড় ধরনের জনস্বার্থের বিষয়ও।
‘পুরোনো সিন্ডিকেটের পুনরাবৃত্তি কেন?’
ফখরুল ইসলাম প্রশ্ন তুলেছেন, অতীতে যাদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ উঠেছিল, তাদের কেউ বা সংশ্লিষ্ট কোনো গোষ্ঠী নতুন কাঠামোর মাধ্যমে আবারও বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে কি না।
তার প্রশ্ন, অতীতের সিন্ডিকেট, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে যদি ৪৯টি এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে আবার কেন সীমিতসংখ্যক এজেন্সিকে কেন্দ্র করে বাজার পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে?
গণমাধ্যমে প্রকাশিত অতীতের বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সিন্ডিকেটে প্রবেশের জন্য বিপুল অর্থ এবং কর্মীপ্রতি অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ ছিল। বর্তমান অভিযোগগুলো সত্য হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার?
বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য মালয়েশিয়া। দেশটির শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী এবং সম্ভাব্য অভিবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
মালয়েশিয়া অনুমোদিত শ্রমিক-উৎস দেশগুলো থেকে বিদেশি কর্মী নেয়। উৎপাদন, নির্মাণ, কৃষি, প্ল্যান্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। তবে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার চাহিদা, কোটা অনুমোদন এবং মালয়েশিয়া সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াটি শুধু রিক্রুটিং এজেন্সিনির্ভর নয়। নিয়োগকর্তা থেকে শুরু করে কর্মী নির্বাচন, কোটা, অনুমোদন, মেডিকেল, ভিসা এবং অর্থ লেনদেন—প্রতিটি ধাপেই স্বচ্ছতা প্রয়োজন।
বায়রার পাঁচ দাবি
সংবাদ সম্মেলনে বায়রার সদস্যরা পাঁচটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন। এই দাবি সমূহ নিম্নরূপ:
প্রথমত, সকল বৈধ এজেন্সির সমান সুযোগ: বাংলাদেশের সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, সীমিতসংখ্যক এজেন্সির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ: ২৫, ৫০ বা ১০০টি এজেন্সির হাতে পুরো বাজার কেন্দ্রীভূত না করে প্রয়োজনে এজেন্সি নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ, প্রকাশ্য ও নিরপেক্ষ মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে।
তৃতীয়ত, বিতর্কিত ধারা পুনর্বিবেচনা: কোন বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠাবে—এ বিষয়ে একক কোনো পক্ষের সিদ্ধান্তের পরিবর্তে বাংলাদেশ সরকার, মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং নিয়োগকর্তাদের সমন্বিত ও স্বচ্ছ কাঠামো তৈরির দাবি জানানো হয়েছে।
চতুর্থত, বোয়েসেলের মাধ্যমে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু: মালয়েশিয়া যদি সীমিতসংখ্যক অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমে কর্মী নিতে চায়, তাহলে বোয়েসেলের সক্ষমতা বাড়িয়ে একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সব বৈধ এজেন্সিকে কাজের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পঞ্চমত, কম খরচে কর্মী পাঠানো: বিএমইটির মাধ্যমে স্বচ্ছ কর্মী ডাটাব্যাংক তৈরি, সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে গ্রহণ এবং শক্তিশালী সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে।
বোয়েসেলের ওয়ান-স্টপ মডেল কতটা কার্যকর?
সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন দেশে কর্মী নিয়োগ ও প্রেরণের অভিজ্ঞতা রয়েছে বোয়েসেলের। প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে চাকরির আবেদন এবং আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালেও মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন পদে নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বোয়েসেল।
এ কারণে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু হলে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিয়োগকর্তার চাহিদা, কর্মীর তথ্য, এজেন্সির ভূমিকা, সরকারি অনুমোদন, ফি এবং বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স ট্র্যাক করা সম্ভব হতে পারে।
তবে এই মডেলের সফলতা নির্ভর করবে বোয়েসেলের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, জনবল এবং মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর।
মালয়েশিয়াতেও রয়েছে কেন্দ্রীয় নজরদারি
বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার নিজস্ব ব্যবস্থাতেও কেন্দ্রীয় নজরদারি রয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়ান-স্টপ সেন্টারের মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা আবেদন, লেভি পরিশোধ, পরিদর্শনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এদিকে, ২০২৬ সালের এপ্রিলে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য নতুন কোনো কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে তখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; বিষয়টি বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও মূল্যায়নের পর্যায়ে ছিল।
মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকেও উৎস দেশে নিয়োগপ্রক্রিয়ার দুর্বলতা, শ্রমিকের ঋণগ্রস্ততা ও শোষণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
অর্থাৎ শুধু এজেন্সির সংখ্যা কমিয়ে দিলেই সিন্ডিকেট বন্ধ হবে না। নিয়োগের প্রতিটি ধাপে তথ্যের স্বচ্ছতা, অর্থের গতিপথ শনাক্ত করা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।
শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শ্রমিক
সিন্ডিকেট বা একচেটিয়া নিয়োগব্যবস্থার সবচেয়ে বড় বোঝা পড়তে পারে অভিবাসনপ্রত্যাশী শ্রমিকের ওপর।
মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা বাড়লে অভিবাসন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক শ্রমিককে সেই অর্থ জোগাড় করতে ঋণ নিতে হয়। ফলে বিদেশে যাওয়ার আগেই তারা ঋণের বোঝায় পড়ে যান মালয়েশিয়ার আগের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কর্মীপ্রতি কয়েক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও ছিল। বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বহু কর্মীর অর্থ আটকে থাকার ঘটনাও সামনে আসে।
তাই নতুন করে বাজার খোলার আগে তিনটি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হওয়া জরুরি—
কত টাকা নেওয়া হবে?
কে টাকা নেবে?
কোন মাধ্যমে টাকা নেওয়া হবে?
এই তিন জায়গায় স্বচ্ছতা না থাকলে অতীতের সংকট আবারও ফিরে আসতে পারে।
স্বচ্ছতাই হতে পারে নতুন পথ
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এটি সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। অতীতের বিতর্ক থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার একটি স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগব্যবস্থা তৈরি করা যায় কি না, সেটিই হবে মূল প্রশ্ন।
প্রতিটি বৈধ এজেন্সির যোগ্যতা যাচাই, নিয়োগকর্তার চাহিদা প্রকাশ, কর্মী নির্বাচনের মানদণ্ড নির্ধারণ, সরকারি নির্ধারিত ফি প্রকাশ, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ লেনদেন এবং প্রতিটি কর্মীর জন্য ডিজিটাল ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে।
লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্সির তথ্য ইতোমধ্যে সরকারি ব্যবস্থায় সংরক্ষিত রয়েছে। সেই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে মালয়েশিয়ার বাজারের জন্য একটি রিয়েল-টাইম পাবলিক ড্যাশবোর্ড চালু করা যেতে পারে।
সেখানে কোন এজেন্সি কতজন কর্মী পাঠাচ্ছে, কত টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং কোন কর্মীর আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে—এসব তথ্যের একটি অংশ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা সম্ভব হলে জবাবদিহি অনেকটাই বাড়বে।
সরকারের সামনে এখন বড় পরীক্ষা
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর আলোচনায় স বচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন শুধু ‘কতজন কর্মী যাবে’—তা নয়।
প্রশ্ন হলো—কারা কর্মী পাঠাবে, কীভাবে তাদের নির্বাচন করা হবে এবং কর্মীর কাছ থেকে কত টাকা নেওয়া হবে?
২৫টি এজেন্সির হাতে বাজার কেন্দ্রীভূত হলে নতুন করে সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠতে পারে। আবার কোনো মানদণ্ড ছাড়া শত শত এজেন্সিকে সুযোগ দিলে নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে।
সমাধান তাই হতে পারে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো—যোগ্যতার ভিত্তিতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা, কেন্দ্রীয় সরকারি নজরদারি এবং সম্পূর্ণ ডিজিটাল নিয়োগ ও অর্থ ব্যবস্থাপনা।
বায়রার প্রস্তাবিত বোয়েসেল ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেই কাঠামোর একটি সম্ভাব্য মডেল হতে পারে। তবে শুধু নতুন একটি সেবা চালু করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন হবে প্রকাশ্য নীতিমালা, নিরপেক্ষ এজেন্সি নির্বাচন, নিয়োগকর্তা যাচাই, ফি-সীমা, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ গ্রহণ এবং অভিযোগ তদন্তের কার্যকর ব্যবস্থা।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে এবার তাই আসল পরীক্ষা একটাই—
পুরোনো সিন্ডিকেট ভেঙে বাংলাদেশ কি সত্যিই একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শ্রমবাজার গড়ে তুলতে পারবে, নাকি শুধু সিন্ডিকেটের মুখটাই বদলাবে?