মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   পাঁচমিশালী
অভিযোগের পাহাড় বাগেরহাটের নতুন ডিসিখাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা দেলোয়ারের বিরুদ্ধে, ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা
  Date : 21-09-2026
Share Button

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ময়মনসিংহ সিএসডি গুদাম, নেত্রকোনার বারহাট্টা এবং নান্দাইল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপকর্মের নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন। উপরন্তু, একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিয়েও তিনি পেয়েছেন পদোন্নতি। বর্তমানে বাগেরহাট জেলায় ডিস্ট্রিক্ট কন্ট্রোলার অব ফুড (ডিসি ফুড) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। হাতে-নাতে নানা দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পদোন্নতি দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও সাধারণ জনগণ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ময়মনসিংহ সিএসডি (সিভিল সাপ্লাই ডিপো) গুদামে ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বড় ধরনের চাল পাচার চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েন দেলোয়ার হোসেন। গুদাম থেকে ভালো মানের চাল বাইরে পাচার করে নিম্নমানের চাল রেখে দেওয়া এবং কাগজ-কলমে সব ঠিকঠাক দেখানোর অভিযোগ উঠে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, গোপন সিসিটিভি ক্যামেরায় তাঁর অনিয়ম ও অনৈতিক নানা কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও অজানা কারণে পার পেয়ে যান তিনি। এমনকি সিএসডি গুদামে কর্মরত নারী কর্মীরাও তাঁর অসদাচরণ থেকে রেহাই পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে নেত্রকোনার বারহাট্টা ও ময়মনসিংহের নান্দাইলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও একই ধরণের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটে। খাদ্য বরাদ্দের বিশাল ঘাটতি রেখে কাগজ-কলমে ভুয়া হিসাব দেখিয়ে সরকারি চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠে তাঁর বিরুদ্ধে। নান্দাইলের স্থানীয় কৃষক, মিলার ও ডিলারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দেলোয়ার হোসেনের চরম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ ছিলেন তাঁরা। নান্দাইলের কয়েকজন রাইস মিল মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নান্দাইলে অনেক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু দেলোয়ার হোসেনের মতো বেপরোয়া দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আর দেখেনি কেউ। কৃষক, মিলার কিংবা ডিলার—কারো কাছ থেকেই সুবিধা নেওয়া ছাড়া কাজ করতেন না তিনি।"

জানা যায়, নান্দাইলে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর দুর্নীতির বিষয়টি ব্যাপকভাবে জানাজানি হলে স্থানীয় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক কিংবা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি; বরং রহস্যজনক কারণে তাঁকে বাগেরহাট জেলায় পদোন্নতি দিয়ে বদলি করা হয়।

সরকারি চাল পাচার, কাগজ-কলমে ভুয়া তথ্য প্রদান এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও শাস্তি না পেয়ে পদোন্নতি মেলায় চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা যদি শাস্তির মুখোমুখি না হয়ে উচ্চপদে আসীন হন, তবে প্রশাসনে স্বচ্ছতা কীভাবে বজায় থাকবে—এমন প্রশ্ন এখন ভুক্তভোগীদের।

দেলোয়ার হোসেনের বিগত কর্মস্থলের সমস্ত অপকর্ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ জনগণ, স্থানীয় মিলার ও ভুক্তভোগীরা।

এবিষয়ে মতামত জানতে দেলোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি রসিভি করেননি, অভিযোগের বিষয় দিয়ে মতামতের জন্য ম্যাসেজ দিলেও তিনি কোনো মতামত জানাননি।  



  
  সর্বশেষ
৬ লাখ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ
রাজবাড়ীতে নারী উদ্যোক্তাকে লাঞ্ছিত করায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান ঢাকা জেলা প্রশাসকের
নিরাপত্তা ও পর্যটনের ভবিষ্যৎ রক্ষায় কক্সবাজারকে মানব পাচার ও অপরাধমুক্ত করতে হবে

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com