নিউজ ডেস্ক:
জাতীয় শুটিং ফেডারেশনের গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও বিভিন্ন অভিযোগের বিপরীতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ফেডারেশনের নতুন নেতৃত্ব। এনএসসি কর্তৃক ঘোষিত নতুন এডহক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সংবাদমাধ্যমে জেনারেল সেক্রেটারি সাকিফ শামীমসহ বর্তমান নেতৃত্বকে জড়িয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
ফেডারেশনের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদ্যমান পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক অভিযোগসমূহ নিয়ে নতুন নেতৃত্বের বক্তব্য ও সার্বিক বিশ্লেষণের বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
মূল অভিযোগ ও প্রশাসনিক বাস্তবতা-
তদন্তাধীনদের পুনর্বাসনের দাবি ভিত্তিহীন: প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে, অনিয়মের অভিযোগে তদন্তাধীন ব্যক্তিদের উপকমিটিতে যুক্ত করে সাধারণ সম্পাদক সাকিফ শামীম তাঁদের ‘পুনর্বাসন’ করেছেন। তবে প্রশাসনিক সময়ক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—তদন্ত প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার বহু আগেই বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে নতুন উপকমিটিগুলো গঠিত হয়েছিল। উপকমিটি গঠনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা দণ্ড ছিল না।
সদস্যপদ ও অস্ত্র হিসাবের প্রশাসনিক ভিন্নতা: উপকমিটির কয়েকজন সদস্যের নিজস্ব ক্লাবগুলোর আমদানিকৃত গোলাবারুদের হিসাবে গরমিলের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ক্লাবগুলোর অস্ত্র ও গোলাবারুদ উত্তোলন, ব্যবহার এবং মজুদের মূল দায় জেলা প্রশাসন (ডিএসবি/ডিসি অফিস) ও ক্লাব কর্তৃপক্ষের। উপকমিটির সাংগঠনিক পদের সঙ্গে ক্লাবের স্বতন্ত্র প্রশাসনিক হিসাবরক্ষণের কোনো প্রত্যক্ষ আইনি সম্পর্ক নেই।
পূর্বের অনিয়মের দায় বর্তমান নেতৃত্বের নয়: ২০২০ সাল থেকে শুরু হওয়া গোলাবারুদের নানা অনিয়ম ও হিসাবহীনতার দায় বর্তমান নেতৃত্বের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু বর্তমান এডহক কমিটি ও নতুন সাধারণ সম্পাদক সাকিফ শামীম দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ১৮ জুলাই ২০২৬-এ (মাত্র দুই মাসও পূর্ণ হয়নি)। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব গোলাবারুদ গুনে আনুষ্ঠানিকভাবে সিলগালা করে রাখা হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা স্বীকার ও তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস
অতীতের অনিয়মের ক্ষেত্রে নিজেদের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা না থাকলেও কাঠামোগত ঘাটতির কথা অস্বীকার করেনি বর্তমান কমিটি।
গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনায় অতীতে যে ঘাটতি ছিল, আমরা তা স্বীকার করি এবং সংশোধনে কাজ করছি। এই ঘাটতিকে কোনো একক ব্যক্তির ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা হিসেবে দেখা এবং সমাধান করা প্রয়োজন। আমরা এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তকে স্বাগত জানাই এবং তাতে সম্পূর্ণ সহযোগিতা দিয়ে যাব।”— সাকিফ শামীম, সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় শুটিং ফেডারেশন।
গোলাবারুদের স্বচ্ছতা ও সঠিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংবাদমাধ্যমের অনুমানের চেয়ে আনুষ্ঠানিক নথিপত্র যাচাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছে নতুন কমিটি। কোন ক্লাব কতটুকু গোলাবারুদ এনবিআর বা জেলা প্রশাসনের অনুমোদনে উত্তোলন করেছে, ক্লাবের নিজস্ব স্টক রেজিস্টারের অবস্থা কী এবং বাস্তবেই হিসাব যাচাইয়ের দায়িত্বে কারা ছিলেন—এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর একমাত্র পূর্ণাঙ্গ তদন্তেই প্রকাশ পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছে ফেডারেশন নেতৃত্ব।