নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরে এক নারী সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার বেলা সোয়া বারোটার দিকে গাজীপুর মহানগর গাছা থানাধীন বসুরা গ্রামে তার নিজ বাড়িতে সাংবাদিক ফাতেমা আক্তার ও তার ছোট বোন উম্মেহানি ও ছোটভাই আহাদের উপর এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে ঘটনার ছয়মাস আগে থেকেই সাংবাদিক ফাতেমা আক্তারের বাড়ির উঠানের জমি বিক্রি করতে তার ছোট ভাই, নিজের নাম লিখতে না পারা গাফফার কে নানারকম লোভনীয় প্রস্তাব করে আসছিলো এলাকার জমির দালালচক্রের কয়েকজন সদস্য,শফিক, রিফাত, সবুজ, হানিফ, সেলিম, মোস্তফা কামাল সহ আরো বেশ কয়েকজন।
তারা গাফফার কে বুঝিয়েছে যে পূর্বপুরুষের অনেক অনেক জমির অংশ থেকে প্রায় চৌদ্দ বিঘা জমি বের করা যাবে এবং এই কাজে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করতে হবে। তাই নিজের থাকার ঘর টুকু বিক্রি করে হলেও পূর্বপুরুষের জমি বের করতে পারলে এমন ঘর বাড়ি কয়েকটা করা যাবে।
সারে ছয়লাখ টাকা লাভে উল্লেখ্য দালালরা গাফফারের জমির সাথে সাংবাদিক ফাতেমার মালিকানা জমির কিছু অংশও জালিয়াতি করে মালিকানা দলিল ভূয়া প্রমাণ করার চেষ্টা করে গোপনে জমি রেজিস্ট্রি করার অপচেষ্টা চালিয়েছে এবং রেজিস্ট্রি করে এসে জোরপূর্বক সাংবাদিক ফাতেমার জমি দখল সহ পাশে থাকা ফাতেমাও তার অন্য ভাই-বোনদের মালিকানা জমির উপর দিয়ে উঠানের মধ্য দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা তৈরি করার জন্য খুঁটি পুঁতে দিলে ফাতেমা আক্তার ন্যায়সঙ্গত প্রতিবাদ করলে গাফফার এবং তাহার সহযোগি জমির দালাল শফিক, রিফাত, সবুজ, হানিফ, সেলিম, মোস্তফা কামাল সহ তাহাদের সহযোগিরা সবাই মিলে ফাতেমা আক্তার কে হত্যার হুমকি দেয় এবং বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলে।
ফাতেমা আক্তার ভয়ে ভীত হয়ে উপায় অন্তর না পেয়ে তার নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুক আইডিতে নিজের প্রাণনাশের আশঙ্কা প্রকাশ করে দায়ীদের নাম উল্লেখ করে ২১ সেপ্টেম্বর একটি পোস্ট করেন।
ফাতেমা আক্তার জানান, পোস্ট টি দেখে অভিযুক্ত দালালচক্রের সদস্যরা আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিক ফাতেমা আক্তার কে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শফিক, রিফাত,সবুজ, হানিফ, সেলিম, মোস্তফা কামাল সহ তাদের সহযোগিরা ফাতেমা আক্তারের ছোট ভাই গাফফার কে কুপরামর্শ দেয় যে, ফাতেমা আক্তার কে বাড়ি থেকে বের না করলে এই জমি বিক্রি করা অসম্ভব এবং ফাতেমা আক্তারের কাছে জমিটা বিক্রি করলেও ফাতেমা আক্তার রেজিস্ট্রি করার সময় জালিয়াতি করে ভবিষ্যতে সম্পত্তির অংশ যাতে গাফফার না পায় সেই কাজ (না দাবি দলিল) করবে ।
তাই এই জমিটা ফাতেমা আক্তারের কাছে বিক্রি না করে অন্যত্র বিক্রি করলে ভবিষ্যতে এই জমি থেকে আরো জমি বের করা যাবে বলে কুপরামর্শ দিয়ে জমিটা অন্যত্র বিক্রি করে সারে ছয় লাখ টাকা দালালি খেতে ফাতেমা আক্তার কে বাড়ি থেকে বের করতে হবে এবং প্রয়োজনে হত্যা করতে হবে বলে কুমরামর্শ দেয়।
এই কুপরামর্শ এবং পরিকল্পনায় প্রভাবিত হয়ে নাম লিখতে না পারা গাফফার অভিযুক্ত দালালদের নির্দেশে এবং প্ররোচনা ও সহযোগিতায় ২৬ সেপ্টেম্বর অনুমান সকাল নয়টার দিকে ফাতেমা আক্তার কর্মস্থলে চলে গেলে তাহার ঘর থেকে মুল্যবান কাগজপত্র ও কাপড়চোপড় চুরি করে নিয়ে যায় এবং বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং পানির ট্যাংক ভেঙ্গে দেওয়া হয়।
কর্মস্থল থেকে ফিরে এসে ঘরে ঢুকে ফাতেমা আক্তার এই বিষয়ে জানতে পেরে গাফফার কে জিজ্ঞেস করলে গাফফার ঘটনা সম্পর্কে অস্বীকার করে বলে, সে এই বিষয়ে কিছুই জানেনা।
প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশীদের কাছ থেকে গাফফার ও শফিক সহ তাহাদের সহযোগিগন কর্তৃক এই চুরি হয়েছে বলে জানতে পেরে ২৭ সেপ্টেম্বর ফাতেমা আক্তার গাছা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
২৮ সেপ্টেম্বর গাছা থানা পুলিশের এস আই নাজিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং তদন্তকালে উপস্থিত থাকা এলাকাবাসীদের সাহায্যে অল্পকিছু কাপড় ও স্কুল কলেজের অরিজিনাল সার্টিফিকেট উদ্ধার করা হয়েছে।
নিজের নিরাপত্তা সংকটের কারণে পাঁচদিন এককাপড়ে পাড়া প্রতিবেশীর বাড়িতে পর পুলিশ এবং এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের নিরাপদে বাড়িতে বাস করতে পারার আশ্বাসে ৩০ সেপ্টেম্বর বেলা সোয়া বারোটার দিকে ফাতেমা তার বাচ্চাদের নিয়ে ছোট বোন উম্মেহানি ও ছোটভাই আহাদকে নিয়ে ঘরে ঢুকতে গেলে দেখা যায় ঘরের দরজায় অভিযুক্ত গাফফার তালা ঝুলিয়ে রেখেছে।তালা খোলার জন্য গাফফারের মোবাইল ফোনে কল দিলে সে তার অন্যান্য সহযোগী দের নিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফাতেমার উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে রামদা ও লোহার রড লাঠিসোটা এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে এবং পিটিয়ে তিনজনকেই গুরুতরভাবে আহত করে। ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে ফাতেমা ও তা ভাই-বোন কে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে।
খবর পেয়ে গাছা থানা পুলিশের এস আই নাজিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে গিয়ে তদন্ত করেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে ফাতেমা আক্তার দেখতে পান যে তার বাসার ভিতরে চুরি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
পরে এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায় এই ঘটনার সাথে জড়িত আছে অভিযুক্ত গাফফার ও শফিক তাদের সহযোগীদের নিয়ে তিনরাতে এই লুটপাট ও চুরি করেছে।
হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন সাংবাদিক ফাতেমার বাসায় প্রতিরাতেই তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে লুটপাট ও চুরি করে ঘরে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং মুল্যবান দামি স্বর্ণালংকার ও সমস্ত তৈজসপত্র ব্যাংক চেক বই ও জমিল দলিলপত্র কাগজপত্র কাপড়চোপড় বৈদ্যুতিক তার সহ ঘরের সম্পুর্ন কিছু চুরি ও লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
সাংবাদিক ফাতেমা জানিয়েছেন বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় গেলে পুলিশ প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে অভিযুক্ত গাফফার কে গ্রেফতার করে হাজতে প্রেরণ করে।
এস আই নাজিম উদ্দিন অভিযুক্ত গাফফার কে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিদেরকেও অতিদ্রুত গ্রেফতার করে সত্য উদঘাটন পূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে ফাতেমাকে নিশ্চিত করেছেন।
কিন্তু হঠাৎ করে আকস্মিক ভাবে এই ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজিম উদ্দিন কে পরিবর্তন করে গাফফার কে গ্রেফতারের এক ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্ত শফিক, রিফাত, সবুজ, হানিফ,সেলিম,মোস্তফা কামাল সহ কয়েকজন থানায় গিয়ে আপোষ মিমাংসার নামে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নানাভাবে পুলিশ কে প্রভাবিত করে দুপুর দেড়টায় গ্রেফতারকৃত গাফফার কে রাত দেড়টায় ছাড়িয়ে নিয়ে আসে বলে খবর পাওয়া যায়।
সাংবাদিক ফাতেমা আক্তরকে হামলার ঘটনার অভিযোগে দীর্ঘ সময় ধরে বারবার পুলিশের তদন্ত ও মামলা নিতে গরিমসি। অব্যাহত আপোষের চাপকে উপেক্ষা করে অবশেষে মামলা নিলো গাছা থানা । ভুক্তভোগী সাংবাদিক ফাতেমা সাংবাদিকদেরকে জানিয়েছেন,পুরো ঘটনাটি ছিলো পূর্ব পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্য হাসিলের এক ঘৃন্য প্রচেষ্টা।
তিনি বলেন ঘটনার গভীরে না গিয়ে একটি সিন্ডিকেটের সাজানো নাটকের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়। যা অতি সূক্ষ্ম এবং পরিকল্পিত।
বাদির এজাহার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানাযায়, সাংবাদিক ফাতেমা আক্তার নিজের এলাকায় অসহায় দরিদ্র পরিবারকে এবং বিভিন্ন সময়ে রোগাক্রান্ত ব্যাক্তিদের সরকারি বিভিন্ন সংস্থা থেকে সাহায্য পেতে পরামর্শ ও সহায়তা করে থাকেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি একজন মানবাধিকার কর্মী। তিনি নিজ এলাকায় কোন অন্যায় অনিয়ম হলে সাহসীকতার সাথে প্রতিবাদ করেন। বছর খানেক আগে ফাতেমা আক্তারের মামার জমি জোরপূর্বক দখল করতে তার নানার আপন ভাইয়ের ছেলের ছেলে সম্পর্কে (ভাই) মোঃ শফিকুল ইসলামের সাথে বাকবিতন্ডা হয়।
ফাতেমার পরামর্শে তার মামা নিজের জমিতে একটি ঘর নির্মাণ করে রাখে। ঘটনা ভিন্ন দিকে গরিয়ে নিয়ে কৌশলে ফাতেমাকে ঘায়েল করতে তার পরিবারকে টার্গেট করা হয়। আর এই পরিকল্পনায় অংশগ্রহণ করেন শফিকের সাথে জমি ব্যবসার সহযোগী রিফাত, সবুজ,হানিফ, সেলিম,মোস্তফা কামাল সহ আরো বেশ কয়েকজন।
ফাতেমার চার ভইবোনদের মধ্যে সহজ সরল গাফফারকে তারা বেশি গুরুত্ব দিয়ে টার্গেট করে।পরিকল্পনাকারীরা গাফফারকে পরামর্শ দেয় যে তার বাপ দাদার অনেক অনেক সম্পত্তির মধ্য থেকে চৌদ্দ বিঘা সম্পত্তি এজমালি পড়ে আছে যা অন্যদের ভোগদখলে রয়েছে। যা উদ্ধারে তারা সহযোগিতা করবে। আর এজন্য নগদ টাকার প্রয়োজন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী চক্রটি গাফফারকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে জমির বিষয়ে আলোচনা করে এবং তার বাড়িতে জমি বিক্রির পরামর্শ ও ক্রেতা জোগার করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। পরিকল্পনাকারীরা আগে থেকেই জানতো বাড়ি ভিটায় গাফফারের কিছু জমি আছে। আর জমি বিক্রির ঘটনাকে ভিন্ন দিকে মোড় ঘুরানো সম্ভব।
পরিকল্পনা অনুযায়ী গাফফারকে তুলনামূলক বেশি দামে জমি বিক্রির পরামর্শ দেওয়া হয়। তারা এও জানতো বাহিরের কেউ এখানে জমি নিতে আসবেনা এবং ফাতেমার জমির উপর দিয়ে রাস্তা তৈরি করতে হবে।
আর এখানেই গাফফার কে দিয়ে ফাতেমাকে ঘায়েল করে বাড়িঘর ছাড়া করা এবং প্রানে শেষ করা সম্ভব হবে। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী উপরোক্ত ঘটনার পর ফাতেমা গাছা থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে চক্রান্তকারীরা তাদের আর্থিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দিতে শুরু করে ঘৃন্য খেলা ও চক্রান্ত।
তারা নানাভাবে পুলিশ প্রশাসন কে মামলা না নিতে চাপ প্রয়োগ করে এবং নিলেও তাদের নাম বাদ দিতে আর্থিক লেনদেন সহ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুলিশ কে ভুল পথে পরিচালিত করার অপচেষ্টা করে গেছে।
তারা বারবার আপোষ মিমাংসার নামে মামলা করা থেকে বিরত রাখতে ফাতেমা এবং পুলিশ প্রশাসন কে নানাভাবে চাপ ও হুমকি অব্যাহত রেখেছে।
দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার সহ মামলা দায়ের করা হলে প্রকাশ্যে ফাতেমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি ও তারা ক্রমাগত দিয়ে এসেছে।ফাতেমার সহকর্মী সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বের হতে থাকা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজেও অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে হুমকি ধামকি দেওয়ার প্রমান মিলেছে।
অভিযুক্তদের নানা প্রভাবের কারনে অভিযুক্ত কয়েকজনের নাম বাদ দিয়ে অবশেষে ঘটনার ১২দিন পর গাছা থানায় মামলা নিয়েছে পুলিশ। মামলা নাম্বার ২২/২০২৬ ।
আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে চুরি কৃতি মালামাল উদ্ধার সহ চুরি লুটপাট ও হত্যা চেষ্টার ঘটনায় জড়িত পরিকল্পনা কারি সকলকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ফাতেমা সহ সাংবাদিক সমাজ ও এলাকাবাসী।