রাজধানীর হাতিরঝিলে নির্মাণাধীন ভবনের অরক্ষিত লিফটের গর্তে শিশু তাসনিমের মৃত্যুর ঘটনাটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল একটি পরিকল্পিত পৈশাচিক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড।
আজ সোমবার (২০ জুলাই) সিএমএম আদালতে চাঞ্চল্যকর এই মামলার শুনানিতে পোস্টমর্টেম (মেডিকেল) রিপোর্ট উপস্থাপনের পর এই ভয়ংকর সত্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে এবং পরবর্তীতে প্রমাণ (ডিএনএ) নিশ্চিহ্ন করতে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই রিপোর্ট সামনে আসার পর মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত গ্রেফতারকৃত আসামির আরও ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডকে শুরু থেকেই ‘দুর্ঘটনা’ বলে চালিয়ে দিতে একটি প্রভাবশালী মহল নির্লজ্জ ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব, আলামত নষ্ট, পুলিশের তদন্তকে প্রভাবিত করা এবং উল্টো সন্তানহারা শোকাহত মা-বাবার নামেই চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান করা হয়।
প্রশ্ন: মালিকপক্ষের কেউ কি জড়িত? আজকের মেডিকেল রিপোর্টের পর জনমনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি দানা বেঁধেছে—একজন সাধারণ নির্মাণ শ্রমিককে বাঁচাতে কেন ভবন মালিকপক্ষ এত মরিয়া হয়ে উঠবে? কেন তারা সিসিটিভি গায়েব করবে, ক্রাইম সিন নষ্ট করবে, পুলিশের তদন্তকে প্রভাবিত করবে এবং নিহতের পরিবারের নামে মিথ্যা চুরির মামলা দেবে? এত বড় অপকর্ম, এত টাকার ছড়াছড়ি এবং এত প্রভাবশালী মহলের দৌড়ঝাঁপ কি শুধুই একজন নিরীহ শ্রমিককে বাঁচানোর জন্য? নাকি এই জঘন্য ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সাথে খোদ মালিকপক্ষের কেউ বা তাদের কোনো ঘনিষ্ঠজন সরাসরি জড়িত?
আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য: শিশু তাসনিম হত্যার এই মামলাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অপচেষ্টার নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের মুখোশ খুলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভবন মালিক শাখাওয়াত হোসেন নয়ন, তার বোন আফরোজা খানম, আবুল কালাম, হানিফ সওদাগর, খসরু ভূঁইয়া, আলম ও তার স্ত্রী—এই সংঘবদ্ধ চক্রটি কীভাবে একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলাকে ‘সাধারণ মৃত্যু’ এবং নিহতের পরিবারকে ‘চাঁদাবাজ’ বানানোর অপচেষ্টা চালিয়েছে, তার রোমহর্ষক ও দালিলিক প্রমাণ আমাদের হাতে এসেছে।
খুব শিগগিরই এই প্রভাবশালীদের নেপথ্যের অপকর্ম, পুলিশের সাথে তাদের অশুভ আঁতাত এবং মামলাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার প্রতিটি ছকের বিস্তারিত তথ্য প্রামাণ্যচিত্রসহ ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হবে। বিচারের আশায় থাকা এক অসহায় মা-বাবার চোখের পানি এবং শিশু তাসনিমের রক্তের সাথে যারা বেঈমানি করেছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।