বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   বিশেষ সংবাদ
জুয়া সিন্ডিকেটের লাগামহীন দৌরাত্ম্য: পুলিশ সেজে অনুসন্ধানী সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি!
  Date : 09-07-2026
Share Button

দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়ার সাইটগুলোর মাধ্যমে দেশ থেকে হাজার কোটি টাকা পাচারের আড়ালে সক্রিয় রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট ও ব্যক্তিগত নম্বর ব্যবহার করে সাধারণ জুয়াড়িদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করছে এই চক্র।

 সম্প্রতি এরকম একটি জুয়া সিন্ডিকেটের অবৈধ লেনদেনের অনুসন্ধানে গিয়ে চরম হুমকি, গালিগালাজ এবং পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভীতি প্রদর্শনের শিকার হয়েছেন আমাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদক আব্দুর রহিম।

ব্যবসার আড়ালে জুয়া: অনুসন্ধানে দেখা যায়, 1xbet, Betwinner, Mostbet-সহ দুই শতাধিক বহুল আলোচিত আন্তর্জাতিক বেটিং সাইটগুলো এদেশে কার্যক্রম সচল রাখতে স্থানীয় ছোট-বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট বা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টকে ট্রানজেকশন গেটওয়ে হিসেবে ব্যবহার করছে। এমনই একটি সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠান পুরান ঢাকার বংশালের `মেসার্স সৌরভ স্টিল কর্পোরেশন`। এই লোহা ও স্টিল ব্যবসার আড়ালে জুয়া কার্যক্রমের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য ও নথিপত্র অনুসন্ধানী টিমের হাতে আসে।

নথিপত্র ও প্রমাণ বিশ্লেষণ: অনুসন্ধানের স্বার্থে গ্রাহক সেজে গত ২৯ মে, ২০২৬ ইং তারিখে গৌরব ইসলামের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে (০১৬*******৩) যোগাযোগ করা হয়। প্রত্যুত্তরে তিনি নিজের ব্যবসার বিবরণ, হোল্ডিং ঠিকানা ও মেসার্স সৌরভ স্টিল কর্পোরেশনের ভিজিটিং কার্ডের ছবি পাঠিয়ে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করেন।

পরবর্তীতে গত ১৪ জুন, ২০২৬ ইং তারিখে জুয়ার চক্রের সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য চাওয়া হয়। বার্তাটি দেখার পরও তিনি কোনো লিখিত উত্তর দেননি। পরদিন ১৫ জুন এবং ১৭ জুন কল করা হলেও সাংবাদিকের সাথে কোনো কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ গত ০১ জুলাই, ২০২৬ ইং (বুধবার) বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের স্বার্থে দুপুর ১:৩৯ মিনিটে বিবাদীর মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোনে জুয়ার সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতার কথা মৌখিকভাবে অস্বীকার করেন। দুপুর ২:১৭ মিনিটে (১ মিনিট মেয়াদী) এবং এবং ২:১৯ মিনিটে (৫ মিনিট মেয়াদী) ওনার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর (০১৬*******৩) থেকে সাংবাদিক আব্দুর রহিমকে টার্গেট করে পাল্টা ভিডিও কল করা হয়।

ভিডিও কলে গালিগালাজ ও পুলিশ সেজে হুমকি: ভিডিও কল রিসিভ করা মাত্রই গৌরব ইসলাম কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও নোংরা ভাষায় সাংবাদিক ও তাঁর সহকর্মীদের অকথ্য গালিগালাজ শুরু করেন। সাংবাদিককে উল্টো মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ও থানায় জিডি করে রেখেছেন বলে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি শারীরিকভাবে আক্রমণ ও প্রাণনাশের সরাসরি হুমকি দেন।

নিজেকে আইনের হাত থেকে বাঁচাতে ও ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে একপর্যায়ে তিনি নিজেকে "বংশাল থানার সাব-ইন্সপেক্টর (SI)" হিসেবে পরিচয় দেন। তবে ওনার এই পুলিশ সেজে কথা বলার এবং গালিগালাজের সম্পূর্ণ অডিও ও ভিডিও রেকর্ড ডিজিটাল প্রমাণ হিসেবে আমাদের তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষিত রয়েছে।

পল্টন থানায় জিডি, তদন্তে পুলিশ: এই ঘটনার পর প্রতিবেদকের নিরাপত্তার স্বার্থে পল্টন মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন ভুক্তভোগী ক্রাইম রিপোর্টার আব্দুর রহিম। জিডি দায়েরের পর পল্টন মডেল থানা পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, একজন পেশাদার সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া এবং পুলিশের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ভীতি প্রদর্শন করা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। আসামিকে আইনের আওতায় আনতে এবং অবৈধ জুয়া চক্রের উৎস খুঁজে বের করতে পুলিশ দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের হুন্ডি ও জুয়া চক্রের কারণে দেশের অর্থনীতি যেমন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হচ্ছে। জুয়া সিন্ডিকেটের পেছনে থাকা রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সংবাদ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।



  
  সর্বশেষ
জুয়া সিন্ডিকেটের লাগামহীন দৌরাত্ম্য: পুলিশ সেজে অনুসন্ধানী সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি!
কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে কৃষকদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
দুবাইয়ে ৩ মাফিয়া, বাংলাদেশে আরিফুর: আইটি চাকরির ফাঁদে নারী শিক্ষার্থী, জুয়া ও হুন্ডির মাধ্যমে পাচার হাজার কোটি টাকা
চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর দুর্দান্ত মাস্টারস্ট্রোক

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com