সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   পাঁচমিশালী
গফরগাঁওয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির পাহাড়; কাজ না করেই বিল পরিশোধ, ফাঁকা কক্ষে জ্বলে লাইট, চলে ফ্যান
  Date : 04-10-2026
Share Button

দিলীপ গোয়ালা, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী (উপ-সহকারী প্রকৌশলী) মোঃ সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বে চরম অবহেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারদের সাথে আঁতাত করে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই বিল পরিশোধ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, কার্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি এবং অফিসে অহেতুক সরকারি বিদ্যুৎ অপচয়ের ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারি বরাদ্দকৃত স্কুলেই মূলত সেনিটেশন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজগুলোতে বড় ধরনের অনিয়ম করা হয়েছে। কাগজে-কলমে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক স্কুলে সেনিটেশনের কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। টিউবওয়েল স্থাপন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কাজও ঠিকঠাক করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারদের সাথে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে `সবকিছু ঠিক আছে` রিপোর্ট দেখিয়ে কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল ছাড় করে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে যেসব পাইপ, পানির ট্যাংক ও যাবতীয় সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিম্নমানের।

এসব অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গফরগাঁও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে দেখা যায়, কর্মকর্তা অফিসে উপস্থিত না থাকা সত্ত্বেও তাঁর কার্যালয়ের ভেতরে অনবরত লাইট ও ফ্যান চলছে। একদিকে সরকার সারা দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কঠোর নির্দেশনাসহ নানামুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে, অন্যদিকে সরকারি কর্মচারীদের এমন খামখেয়ালিপনায় বিদ্যুৎ অপচয়ের চিত্র দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেখানে আসা সাধারণ দর্শনার্থীরা।

অফিসের পিয়নকে কর্মকর্তার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, "স্যার অফিসে নেই, বাইরে গেছেন" অথবা "আজ অফিসে আসেননি।" স্থানীয়দের দাবি, অফিসে নতুন কোনো বরাদ্দ বা অর্থ এলে কেবল তখনই তাকে কার্যালয়ে দেখা যায়। বরাদ্দ না থাকলে তিনি ঠিকমতো অফিসে আসেন না এবং নিজের ব্যক্তিগত কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। পাশাপাশি সরকারি অনেক সরঞ্জাম ও সম্পদ অযত্ন-অবহেলায় ফেলে রেখে নষ্ট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।


এলাকাবাসীর প্রশ্ন— বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নিয়ম কি শুধু সাধারণ জনগণের জন্যই? নাকি দায়িত্বজ্ঞানহীন সরকারি কর্মকর্তারা এভাবে অনবরত বিদ্যুৎ ও সরকারি সম্পদের অপচয় চালিয়ে যাবে? গফরগাঁও উপজেলার সচেতন জনগণ অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি সম্পদ অপচয়কারী এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।



  
  সর্বশেষ
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারে ক্র্যাবের আল্টিমেটাম
প্রমত্তা পদ্মাপাড়ে গণমাধ্যমকর্মীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
৬ লাখ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com