নিজস্ব সংবাদদাতা:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চাঁবিপ্রবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘৩৬শে জুলাই’ উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা, শহীদদের স্মরণে দোয়া মাহফিল এবং বিভিন্ন স্মারক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭:৩০ ঘটিকায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং সকাল ১০:৩০ ঘটকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিজয় র্যালি বের করা হয়। র্যালি শেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশন হয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার রুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আতিকুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য জনাব শেখ ফরিদ আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লোকমান হোসেন, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্লাহ সেলিম।
আলোচনা সভায় চাঁবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লোকমান হোসেন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা শুধু স্মরণে রাখলেই হবে না, বরং সেই চেতনা ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক একাডেমিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে। একটি আধুনিক, মানবিক ও জ্ঞানভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে জুলাইয়ের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আতিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের গণতান্ত্রিক চেতনা, আত্মত্যাগ ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। এই চেতনাকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সম্প্রসারণ, গবেষণার উৎকর্ষ, উদ্ভাবনী কার্যক্রম এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশ গঠনে চাঁবিপ্রবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শিক্ষা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় সচেষ্ট থাকবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।