নেহাল আহমেদ
প্রতিবছর আমরা দাবী করে আসছি মোট বাজেটের ১ শতাংশ সাংস্কৃতি খাতে বরাদ্ধ রাখা হোক। আবার এটাও দেখিছি সাংস্কৃতি খাতে যে টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয় তার সুষ্ঠু ব্যবহার হয়না। দলীয় আক্নীয করণের কাজে এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে টাকা ব্যবহার করা হয়।যার কারনে ১ শতাংষ বাজেট রাখলেই যে সাংস্কৃতির উন্নয়ন হবে এবং আশা রাখা যায় না।
একটি জাতির আত্মপরিচয়, ইতিহাস ও সৃজনশীলতার প্রধান ভিত্তি হলো তার সংস্কৃতি। তাই কোনো দেশের বাজেটে সংস্কৃতি খাতের গুরুত্ব কেবল অর্থনৈতিক হিসাবের বিষয় নয়; এটি জাতির ভবিষ্যৎ চিন্তা ও মূল্যবোধেরও প্রতিফলন। সেই বিবেচনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সংস্কৃতি খাতকে নতুনভাবে আলোচনায় এনেছে।
এবারের বাজেটে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ৮২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের ৭৫৩ কোটি টাকার তুলনায় বেশি। পাশাপাশি ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক, কারণ আধুনিক বিশ্বে সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের বিষয় নয়; এটি কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
তবে বাজেটকে প্রকৃত অর্থে সংস্কৃতিবান্ধব বলতে হলে শুধু বরাদ্দের পরিমাণ নয়, বরং অর্থের ব্যবহারও বিবেচনায় নিতে হবে। দেশের বহু জেলা ও উপজেলায় সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। অনেক গ্রন্থাগার, মিলনায়তন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। লোকসংস্কৃতির শিল্পীরা এখনও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করেন। স্থানীয় ইতিহাস সংরক্ষণ, গবেষণা কার্যক্রম এবং জেলা পর্যায়ে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও উদ্যোগ সীমিত।
বিশেষ করে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকজ ঐতিহ্য, আঞ্চলিক ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য আরও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। যদি বাজেটের অর্থ স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া যায়, নতুন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায় এবং তরুণদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো যায়, তাহলে এই বাজেট বাস্তব অর্থেই সংস্কৃতিবান্ধব হয়ে উঠবে।
সর্বোপরি বলা যায়, এবারের বাজেট সংস্কৃতি খাতের জন্য আশাব্যঞ্জক কিছু বার্তা বহন করছে। বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির জন্য বিশেষ তহবিল গঠন ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। সংস্কৃতিকে যদি জাতীয় উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে এই বাজেট বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।