আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে জাহাজে হামলার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ইয়েমেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের কাছে রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে দুটি জাহাজে হামলার খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা ইউকেএমটিও।
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালির ভেতরে ও কাছাকাছি এলাকায় অন্তত তিনটি জাহাজে আগুন লেগেছে। এর মধ্যে দুটি জাহাজ নৌমাইনে আঘাত পেয়েছিল বলে জানানো হয়।
ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর এক সপ্তাহে জাহাজে হামলার এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা।
গত ১১ অক্টোবর এক দিনেই অন্তত ছয়টি জাহাজে হামলা চালানো হয়। গত ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সামুদ্রিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নথিভুক্ত ঘটনার সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৪৯টিতে দাঁড়িয়েছে।
হামলার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও কমেছে। ৮ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে এ পথ দিয়ে মাত্র ৪২টি জাহাজ চলাচল করেছে। আগের সপ্তাহে এ সংখ্যা ছিল ৬০। চলাচলকারী জাহাজগুলোর অধিকাংশই পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পরিবহন করছিল।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় তেল ও অন্যান্য জ্বালানিপণ্যের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ পথে নিরাপত্তাঝুঁকি দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সমুদ্রপথে বাণিজ্যে তার প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। দেশটির সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অবরোধ পুনরায় চালু করার পর থেকে অন্তত ১৩৮টি জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে হামলার ঘটনা বৃদ্ধি এবং জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার মধ্যে এ অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সূত্র: আল-জাজিরা