মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   আন্তর্জাতিক
ব্রিটিশ ঘাঁটি থেকে সব মার্কিন বোমারু বিমান উধাও
  Date : 05-10-2026
Share Button

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা চরম উত্তেজনার আবহেই যুক্তরাজ্যের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে নিজেদের সব ধরনের বোমারু বিমান হঠাৎ প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

রোববার (৪ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি জানান, ঘাঁটিতে অবস্থানরত সবকটি বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নিজ নিজ স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আকস্মিক এই প্রত্যাহারের পেছনে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ প্রকাশ না করলেও ধারণা করা হচ্ছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বরের একটি বড় নিরাপত্তা বিপর্যয়ের জের ধরেই এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত।

ওই দিন গ্লুচেস্টারশায়ারের রাজকীয় ওই বিমানঘাঁটির একদম কাছে তিনটি ‘সন্দেহজনক যান’ ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয় পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছিল।
প্রাথমিকভাবে ঘাঁটির কাছে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
আটকদের সবাই যুক্তরাজ্যের নাগরিক ও লন্ডনের বাসিন্দা। পরে এই তালিকায় যুক্ত হন ষষ্ঠ এক ব্যক্তি, যিনি যুক্তরাজ্য ও ইরানের দ্বৈত নাগরিক। তবে আশ্চর্যজনকভাবে জামিনে তাদের সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। হোয়াইটহলের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো অস্বীকার করেনি যে, আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ও রহস্যজনক ঘটনার প্রতিক্রিয়াতেই ওয়াশিংটন তড়িঘড়ি করে নিজেদের যুদ্ধবিমানগুলো সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিমান প্রত্যাহারের বিষয়টি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং অভিযানিক ঝুঁকি এড়াতে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেয় এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে তা অবহিত করে।

এদিকে ঘটনার গভীরতা উস্কে দিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানান, ঘাঁটি সংলগ্ন ওই সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে ইরানের সরাসরি ভূমিকা থাকার ‘জোরালো আলামত ও ইঙ্গিত’ রয়েছে। যদিও ঘটনার সঙ্গে যে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার দাবি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে তেহরান।
প্রাথমিকভাবে বিএসপি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে ওই পাঁচ তরুণকে ভোররাতে গ্রেপ্তার করা হলেও পুলিশের ভাষায় ‘তদন্তমূলক কৌশলের’ অংশ হিসেবে তাদের জামিনে মুক্ত করা হয়। এরপর লন্ডনে গ্রেপ্তার হওয়া ২৫ বছর বয়সী ষষ্ঠ ইরানি বংশোদ্ভূত নাগরিককেও শনিবার সন্ত্রাস দমন পুলিশ জামিনে মুক্তি দেয়।

ব্রিটিশ পুলিশের এই পদক্ষেপে চরম বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাজ্য সন্দেহভাজনদের জামিনে মুক্তি দেওয়ায় আমি ব্যক্তিগতভাবে মারাত্মক অবাক হয়েছি। আমরা তাদের যাবতীয় তথ্য জানি, আমাদের এখতিয়ারে থাকলে আমরা কিছুতেই তাদের ছেড়ে দিতাম না।’ একই সুর তুলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই চক্রান্তের পেছনে ‘স্পষ্টতই কোনো শক্তিশালী বিদেশি শক্তির হাত রয়েছে’। সংবেদনশীল তথ্য হওয়ার কারণে বিস্তারিত না বললেও এটি যে একটি বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র, তা পরিষ্কার করেন তিনি।

উল্লেখযোগ্য যে, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মার্কিন বিমান বাহিনী আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটিকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের অগ্রবর্তী সামরিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনায় ওয়াশিংটনের অনুরোধে লন্ডন সায় দেওয়ার পর থেকে এই ঘাঁটি থেকেই মার্কিন বি-৫২ সহ অন্যান্য বোমারু বিমান মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমার উদ্দেশ্যে উড়াল দিত। এই প্রেক্ষাপটে গত জুলাই মাসে তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছিল, ইরানের ভূখণ্ড কিংবা স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত যে কোনো বিদেশি সামরিক ঘাঁটি আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।



  
  সর্বশেষ
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারে ক্র্যাবের আল্টিমেটাম
প্রমত্তা পদ্মাপাড়ে গণমাধ্যমকর্মীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
৬ লাখ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ
রিকশাচালকের ছেলে শতকোটি টাকার মালিক: কার ছত্রছায়ায় সোহেলের এই উত্থান?

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com