মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   সারাবাংলা
সুনামগঞ্জে ২য় দফার স্বল্পমেয়াদী বন্যায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ
  Date : 03-07-2024
Share Button

তামভীর আহমদ স্বপন, সিলেট ব্যুরো অফিস:

সিলেট বিভাগের বেশকয়েকটি অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে বিশেষ করে সুনামগঞ্জে দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। সুরমা, কালনী, কুশিয়ারা, যাদুকাটা নদীসহ সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

জেলার ধর্মপাশা থেকে মধ্যনগর উপজেলাগামী একমাত্র পাকা সড়কটি এখনও পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। মধ্যনগর থেকে মহেষখলাগামী দোয়ারাবাজার এবং তাহিরপুর থেকে সুনামগঞ্জগামী পৃথক ৩টি পাকা রাস্তায় যান চলাচল এখনও বন্ধ। জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজার থেকে সুনামগঞ্জগামী রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ থাকায় নৌকা চলাচল শুরু হয়েছে।
সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর থেকে ডলুরাগামী রাস্তাটির সৈয়দপুর পয়েন্টে ডুবে যাওয়ায় উত্তর সুরমা এলাকার সঙ্গে শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বুধবার সকাল ৯টার দিকে সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার এবং ছাতক পয়েন্টে ৯০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের পশ্চিম ইব্রাহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম আলী বলেন, এবার ১৭ জুন প্রথম দফা বন্যায় বসতঘর ডুবে গেলে বোনের বাড়ীতে আশ্রয় নেই। ৩দিন আগে ঘরে ফিরে এসেছিলাম। কিন্তু গত ১ জুলাই (সোমবার) আবারো বসতঘরে পানি উঠলে ২য় বার বসতভিটে ছেড়ে এসেছি। গত দুই দিনের বৃষ্টিপাতে হাওরসহ সব জায়গায় পানি বেড়েছে। ১৩ দিনের ব্যবধানে আবারও ২য় দফা বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্থ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, মঙ্গলবার বৃষ্টিপাত হয়নি বিধায় জেলা সদরের পানি কমতে শুরু করেছে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় (প্রতিবেশী রাস্ট্রের) মেঘালয়ে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানবাধিকার কর্মী আলহাজ্ব এম মুখলেছুর রহমান খান বলেন, ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক শুধু সুনামগঞ্জের জন্য নয়, নেত্রকোনা জেলার জন্যও কাল হয়ে দাড়িয়েছে। সুনামগঞ্জের সুরমা কালনী ও কুশিয়ারা নদীর পানি এখন ভৈরবের দিকে প্রবাহিত হতে না পেরে নেত্রকোনা জেলার ধনু, সোমেশ্বরী ও বৌলাই নদী দিয়ে নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ জেলা প্লাবিত করছে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, আমরা ১ম দফা বন্যা শুরুর পর থেকে যে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো চালু করেছিলাম সেই আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এখনও চালু আছে। ভানবাসীদেরকে আমরা পুরোদমে ত্রাণসেবা দিয়ে যাচ্ছি। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বাসস’কে বলেন, গত ১ জুলাই থেকে আমরা ২য় দফা স্বল্পমেয়াদি বন্যার মুখোমুখি হয়েছি। তবে আগামী ৩দিন চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাত বন্ধ থাকলে বন্যার পানি অতিথি পানির মতই ভাটির দিকে চলে যাবে। সুতরাং ২য় দফার এই বন্যায় আতংকিত হওয়ার কিছুই নেই।

পানি উন্নয়নবোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, উজানে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাহাড়ি ঢল নেই। এদিকে সুরমা ৫ টি পয়েন্টের মধ্যে নদীর ৪ টি পয়েন্টে বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৪ মিলিমিটার ও সুনামগঞ্জে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানে বৃষ্টি না হলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। তবে গভীর হাওড়াঞ্চলের পানি ধীরে কমছে। শনিবার থেকে গভীর হাওর এলাকার পানি দ্রুত সরে যাবে বলে তিনি জানান।

তা/ব/দি-সিসুগ, ৩.০৭.২৪



  
  সর্বশেষ
ডিজিটাল শব্দের আগমন: বাংলা ভাষার বিবর্তনের নতুন অধ্যায়
ডিজিটাল শব্দের আগমন: বাংলা ভাষার বিবর্তনের নতুন অধ্যায়
‘জুলাই ব্যবসা ও মামলা বাণিজ্যে’ রাজি না হওয়ায় সাইবার বুলিং ও মারাত্মক চরিত্রহননের শিকার আহত জুলাই যোদ্ধা
জুয়া সিন্ডিকেটের লাগামহীন দৌরাত্ম্য: পুলিশ সেজে অনুসন্ধানী সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি!

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com