মোঃ মিরাজ হোসেন, বরগুনা প্রতিনিধি
বরগুনা পৌরসভার নাগরিক সেবা বাড়াতে নেওয়া প্রায় ৪০ কোটি ১৫ লাখ টাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বছরের পর বছর ধরে অসম্পূর্ণ পড়ে আছে। কোথাও ভবন নির্মাণ শেষ না হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, আবার কোথাও অবকাঠামো তৈরি হলেও চালু হয়নি সেবা। ফলে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, আটকে থাকা তিনটি প্রকল্প হলো — ৭ কোটি ২ লাখ টাকার টাউন হল, ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্প এবং ১৬ কোটি টাকার বর্জ্য শোধনাগার।
৭ কোটি ২ লাখ টাকার টাউন হল এখন পরিত্যক্ত
২০১৮ সালের মার্চে বরগুনা শহরের সিরাজউদ্দীন সড়কে ৫০০ আসনবিশিষ্ট টাউন হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সভা-সেমিনারের জন্য এই হলটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ২ লাখ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী ২০২০ সালের মার্চে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরিফ অ্যান্ড আসিফ কনস্ট্রাকশনের মালিক আবুল হোসেন খান বলেন, ২০২২ সালের দিকে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ করার পর বরাদ্দের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় হওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে নির্মাণাধীন ভবনের দরজা-জানালা খুলে নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মাছুম বিল্লাহ বলেন, কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও তিনি কাজ শেষ করেননি। ঠিকাদার ইতিমধ্যে প্রায় চার কোটি টাকা বিল তুলে নিয়েছেন।
১৭ কোটি ১২ লাখ টাকার পানির ট্যাংক অচল
পৌরবাসীর পানি সংকট নিরসনে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি উচ্চ জলাধার নির্মাণ শুরু হয়। একটি জেলা পরিষদের সামনে, অন্যটি কলেজ রোড এলাকায়। ২০২০ সালের নভেম্বরে চালু হওয়ার কথা থাকলেও আনুষঙ্গিক কাজ বাকি থাকায় এখনও সরবরাহ শুরু হয়নি।
নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, ‘কয়েক বছর আগে পানির ট্যাংক নির্মাণ হলেও সেখান থেকে নাগরিকরা পানি পাচ্ছেন না। জনগণের অর্থে নির্মিত প্রকল্প দ্রুত চালু না হলে এসব অবকাঠামোই একসময় অকার্যকর হয়ে পড়বে।’
১৬ কোটি টাকার বর্জ্য শোধনাগারও অচল
আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) যৌথ অর্থায়নে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বরগুনা সদর ইউনিয়নের হেউলিবুনিয়ায় একটি বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করা হয়। ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হলেও জনবল সংকটে তা আজও সচল হয়নি। ফলে শহরের বিভিন্ন স্থানে খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে।
পৌর প্রশাসক সজল চন্দ্র শীল বলেন, জনবল ও আনুষঙ্গিক বরাদ্দ না থাকায় প্রকল্পগুলো চালু করা যায়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পৌরবাসীর দাবি অসম্পূর্ণ প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় অর্থ ও জনবল নিশ্চিত করে জনগণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামোগুলো নাগরিক সেবায় যুক্ত করা হোক।