দিলীপ গোয়ালা, ময়মনসিংহ সংবাদদাতা:
দায়িত্ব পালনের আড়ালে লাগামহীন দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন ফুলবাড়িয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান। গফরগাঁও, তারাকান্দা হয়ে বর্তমানে ফুলবাড়িয়ায় বদলি হলেও তার দুর্নীতির পরিধি যেন ক্রমশ বেড়েই চলেছে। একের পর এক অভিযোগের প্রমাণ মেলা এবং সংবাদপত্রে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। দৃশ্যত কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় চরম ভোগান্তি আর জ্বালাযন্ত্রণা পোহাতে হচ্ছে সাধারণ কৃষক, ডিলার ও ভুক্তভোগীদের।
সম্প্রতি চলতি মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ জবাব দেন এই কর্মকর্তা। নিজের দুর্নীতির কথা অকপটে স্বীকার করে তিনি দম্ভভরে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে অনেক নিউজ হয়েছে, আপনারাও বেশি করে নিউজ করুন। আমি বাংলাদেশের যতগুলো গুদাম আছে, সবগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে সংগ্রহের কাজ করছি।"
দুর্নীতির সাফাই গেয়ে তিনি আরও বলেন, "কোনো গুদামই ধোয়া তুলসী পাতা নয়। হালকা-পাতলা সবাই করে থাকে, তাই আমিও সমন্বয় করে চলছি।"
ঘুষ ও দুর্নীতির টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন সাইদুর রহমান। তিনি দাবি করেন, প্রতি মাসে সাংবাদিক ও দলীয় নেতাকর্মীদের ১ থেকে ৪ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হয়। টাকা না দিলেই তারা পত্রিকায় নিউজ করে দেয়। শুধু তাই নয়, ঊর্ধ্বতন মহলকেও `ম্যানেজ` করে চলতে হয় বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, "ওপর মহল পর্যন্ত আমাদের জ্বালা পোহাতে হয়। এসব টাকা কি আমি বাড়ির জমি বিক্রি করে এনে দেব?"
সরকারি একজন কর্মকর্তার মুখে এমন নির্লজ্জ কথা শুনে হতবাক হয়ে যান স্থানীয় কৃষক ও ডিলাররা। হয়রানির ভয়ে তারা নিরবে এসব অন্যায় মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এমন দুর্নীতিবাজ ও বেপরোয়া খাদ্য নিয়ন্ত্রক তারা আগে কখনো দেখেননি। একের পর এক গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও তার বিরুদ্ধে আইনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কেবল এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় বদলি করেই দায় সারছেন।
সাইদুর রহমানের এই খুঁটির জোর কোথায় এবং তার অনিয়ম-দুর্নীতির শেষ কোথায়—এখন সেটাই জানতে চায় ফুলবাড়িয়ার অসহায় জনগণ। এ বিষয়ে দূদকের একজন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমাদের তার বিষয়ে অভিযেগ এলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী হবো। উক্ত কর্মকর্তা বলেন, যতবড় শক্তিশালী দূর্ণীতিবাজ হোক আমরা কাউকে ছাড় দেবো না। অন্যদিকে সাইদুর রহমানের বিষয়ে সঠিক অনুসন্ধান করলে প্রয়োজনীয় দূর্নীতির তথ্য পাওয়া যাবে বলে দাবী ফুলবাড়িয়ার অসহায় জনগণ। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।এ বিষয়ে সাইদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান এবং বলেন, পরে কথা কথা বলবো।