* স্থিতাবস্থা আদেশের পরও ভবন নির্মাণের অভিযোগ;
* ভুয়া ওয়ারিশপত্রে নামজারির দাবিও
বিশেষ প্রতিনিধি, সিরাজদীখান (মুন্সীগঞ্জ): মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশের পরও বিরোধপূর্ণ জমিতে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উজ্জ্বল মোল্লা নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই জমি ভুয়া ওয়ারিশপত্রের মাধ্যমে নামজারি করানোর অভিযোগও করেছেন বিরোধী পক্ষের আবু বকর সিদ্দিক। বিষয়টি জানার পর নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন।
সিরাজদীখান উপজেলার চিত্রকোট ইউনিয়নের গিরিনগর গ্রামের সিএস ৯৪ নম্বর দাগের ২৮ শতক জমি নিয়ে আবু বকর সিদ্দিক ও উজ্জ্বল মোল্লার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। আবু বকর সিদ্দিকের দাবি, জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা এর দখলে রয়েছেন। অন্যদিকে উজ্জ্বল মোল্লারও ওই জমিতে স্বত্বের দাবি রয়েছে বলে জানা গেছে।
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। চলতি বছরের ২৭ অক্টোবর আদালত বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
আবু বকর সিদ্দিকের অভিযোগ, আদালতের ওই নির্দেশের পরও উজ্জ্বল মোল্লা ও তার লোকজন জমিতে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দাবি, গাছপালা কেটে সেখানে পাকা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে আদালতের নির্দেশ অমান্য হওয়ার পাশাপাশি জমির বর্তমান অবস্থাও পরিবর্তন হচ্ছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে পাকা ভবনের নির্মাণকাজ চলার দৃশ্য দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আলোচনা ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “আমাদের দখলে থাকা পৈতৃক জমি দখলের উদ্দেশ্যে উজ্জ্বল মোল্লা গাছপালা কেটে পাকা ভবন নির্মাণ করছেন। আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়ার পরও কাজ বন্ধ হয়নি। এতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় আছি।”
জমিটি নামজারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবু বকর সিদ্দিক। তার অভিযোগ, ভুয়া ওয়ারিশপত্র তৈরি করে সেটি ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে জমি নামজারি করানো হয়েছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে উজ্জ্বল মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি বিকালের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাব।” তবে পরে তার পক্ষ থেকে কোনো কাগজপত্র উপস্থাপন করা হয়নি।
এ বিষয়ে সিরাজদীখান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বারী বলেন, “বিষয়টি আগে আমাদের জানা ছিল না। জানার পরপরই ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা মান্য করতে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই আইনবিরোধী বা বেআইনি কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।
ভূমি প্রশাসনের এই পদক্ষেপের পর বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকে কি না এবং নামজারি সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা কী, তা নিয়ে এখন সংশ্লিষ্টদের নজর আদালত ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তবে এবিষয়ে জানতে উজ্জল মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা তিনি ফোন ধরেননি।