ভাদ্র-আশ্বিন জুড়ে প্রকৃতির মায়াবী রূপ। বর্ষার অঝোর ধারা থেমে গেছে। মেঘের ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে ঝকঝকে নীল আকাশ। নদীর পাড়ে, মাঠের ধারে দুলছে সাদা কাশফুল। ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশে আবার এসেছে শরৎ - ঋতুর রানি।
আকাশে-বাতাসে শরতের ছোঁয়া। ভাদ্রের শুরু মানেই শরতের আগমনী বার্তা। সকালে ঘাসের উপর শিশির, দুপুরে রোদের ঝিলিক আর বিকেলে হালকা বাতাস আর বৃষ্টি,সে এখন অতিথির মতো আসে।
নদীর জল টলটলে, স্বচ্ছ। পদ্মা-মেঘনা-যমুনার চরে এখন শুধু কাশবন। গ্রামের পথে শিউলি ফুলের গন্ধ। শরৎ মানেই প্রকৃতির মেকআপ - সবুজের উপর সাদার কাজ।
কাশফুল শরতের প্রতীক।শরতের কথা বললেই চোখে ভাসে কাশফুল। নদীর পাড়, রেললাইন, ফাঁকা মাঠ - সবখানে সাদা ঢেউ।
কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন, "আমি দেখি চারপাশে কাশফুলের নরম মাথা দোল খায়"। এই কাশফুল শুধু সৌন্দর্য না, এটি গ্রাম বাংলার অর্থনীতিরও অংশ। কাশ দিয়ে তৈরি হয় ঝাড়ু, ছাউনি।
শহরের ছেলেমেয়েরা এখন কাশবনে গিয়ে ছবি তোলে। ইনস্টাগ্রামে শরতের ফটোশুটের ট্রেন্ডই আলাদা।
শরৎ মানেই উৎসব। এই সময়েই আসে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে ওঠে ঢাকের বাদ্যি। নতুন জামা, মিষ্টি, আড্ডা - সব মিলিয়ে শরৎ হয়ে ওঠে আনন্দের মাস। আবার কৃষকের ঘরেও শরৎ স্বস্তি আনে। আমন ধানের চারা বড় হয়। বর্ষার পানি নেমে গিয়ে মাঠ ফসলি হয়ে ওঠে।
বাংলা সাহিত্য শরৎ ছাড়া অসম্পূর্ণ। রবীন্দ্রনাথের "আজি শরত তপনে প্রভাত স্বপনে", নজরুলের "শরৎ এলো পুষ্পডালি হাতে" - শরৎ কবিদের সবচেয়ে প্রিয় ঋতু। শরৎ মানেই বিরহ, মানেই মিলন। এটি রূপের ঋতু, কিন্তু বিষাদেরও। কারণ শরতের পরেই আসে হেমন্ত, তারপর শীত।
গ্রামে শরৎ মানে পুকুরে শাপলা, মাঠে ঘুড়ি ওড়ানো, সন্ধ্যায় ঝিঁঝিঁর ডাক।
শহরে শরৎ মানে অফিস ফেরার পথে নীল আকাশ দেখা, ছাদে বসে চা খাওয়া, শিউলি কুড়ানো।
জলবায়ুর পরিবর্তনে এখন শরৎ আগের মতো অতটা দীর্ঘ না। মাঝে মাঝে অসময়ে বৃষ্টি হয়। তবুও প্রকৃতি নিজের নিয়মে রং বদলায়।
শরৎ আসে চুপিচুপি। হইচই করে না। শুধু আকাশটাকে নীল করে দেয়, মাঠে কাশফুল ফোটায়, মনে একটা উদাস করা ভালো লাগা দিয়ে যায়।বর্ষার কাদা ধুয়ে, শীতের কুয়াশার আগে - এই কয়েকটা দিনই হলো প্রকৃতির সবচেয়ে পরিপাটি সময়।
সালাহউদ্দিন মিঠু
New layer...