শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   ধর্ম
মহররম আমাদের কি শিক্ষা দেয়
  Date : 26-06-2026
Share Button

হিজরি বছরের শুরু হয় মহররম দিয়ে। আর এই মাসের দশ তারিখ, আশুরা, মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে সবচেয়ে তাৎপর্যময় দিনগুলোর একটি। মহরম শুধু ক্যালেন্ডারের একটি পাতা নয়, এটি একটি পাঠশালা। প্রতি বছর এই মাস ফিরে এসে আমাদের বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ে এবং তিনটি বড় শিক্ষা দিয়ে যায়।

প্রথম শিক্ষা হলো সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর শিক্ষা। কারবালা প্রান্তরের ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সংখ্যা দিয়ে ন্যায়-অন্যায় বিচার হয় না। ইমাম হুসাইন রা. এর সঙ্গে ছিলেন মাত্র বাহাত্তর জন। বিপরীতে ইয়াজিদের বাহিনী ছিল হাজার হাজার। বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটি ছিল একপেশে লড়াই। কিন্তু হুসাইন রা. জানতেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা মানেই সত্য নয়। ক্ষমতার দাপটে অন্যায়কে মেনে নেওয়া মানেই বেঁচে থাকা নয়। তিনি মরুভূমির প্রচণ্ড গরম, তিন দিনের পিপাসা, পরিবারের শাহাদাত সব মেনে নিয়েছেন, তবু বাতিলের কাছে মাথা নত করেননি। মহরম আমাদের শেখায়, জীবনে এমন সময় আসবেই যখন তোমাকে একা দাঁড়াতে হবে। অফিসে, সমাজে, রাষ্ট্রে যখন অন্যায় হবে, তখন অধিকাংশ মানুষ চুপ থাকলেও তোমার বিবেক যেন জেগে থাকে। হুসাইনি চেতনা মানে ভিড়ের সাথে তাল মেলানো নয়, সত্যের সাথে তাল মেলানো।

দ্বিতীয় শিক্ষা হলো ত্যাগ ও সবরের শিক্ষা। আমরা আরাম, পদ, সম্পদ হারানোর ভয়ে প্রতিদিন আপস করি। অথচ কারবালা দেখায়, আদর্শের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগও ছোট হয়ে যায়। ছয় মাসের শিশু আলী আসগর পানির জন্য কেঁদেছে, কিন্তু হুসাইন রা. যুদ্ধ বন্ধ করে পানি চাননি। কারণ তিনি জানতেন, একবার আপস করলে ইতিহাস বিকৃত হয়ে যাবে। মহরম আমাদের শেখায় ধৈর্য মানে দুর্বলতা নয়। ধৈর্য মানে লক্ষ্যে অটল থাকা। আজকের ভোগবাদী দুনিয়ায় আমরা তাৎক্ষণিক ফল চাই। কিন্তু হুসাইন রা. এর সবর আমাদের বলে, বীজ মাটির নিচে পচে গেলেই গাছ হয়। ত্যাগ ছাড়া বিজয় আসে না।

তৃতীয় শিক্ষা হলো মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা। আশুরার দিনে নবী মুসা আ. ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। তাই রাসূল সা. এই দিনে রোজা রেখে শুকরিয়া আদায় করেছেন। একই দিনে ইমাম হুসাইন রা. শহিদ হয়েছেন। একই তারিখে মুক্তি ও শাহাদাত পাশাপাশি। এর মাধ্যমে ইসলাম বোঝায়, ঈমানদারের জীবনে আনন্দ-বেদনা, বিজয়-কুরবানি সবই আছে। তাই আশুরায় আমরা রোজা রাখি, গরিবকে খাওয়াই, ইয়াতিমের পাশে দাঁড়াই। কারণ হুসাইন রা. এর পরিবার কারবালায় না খেয়ে ছিল। তাদের স্মরণ করতে গিয়ে আমরা নিজেদের খাবার ভাগ করে দিই। মহরম সমাজকে স্বার্থপরতা থেকে বের করে সহমর্মিতার দিকে নিয়ে যায়।

মহরমের শিক্ষা শুধু মুসলমানের জন্য নয়। যেকোনো বিবেকবান মানুষের জন্য প্রযোজ্য। গান্ধী, নেলসন ম্যান্ডেলা, এমনকি মুক্তিযুদ্ধের শহিদরাও হুসাইনি চেতনা ধারণ করেছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীনতা, স্বাধীনতার জন্য জীবন দেওয়া, মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা—এগুলো সার্বজনীন মূল্যবোধ।

আজ যখন চারদিকে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, তখন মহরম আমাদের জিজ্ঞেস করে, তুমি কার দলে? ইয়াজিদের দলে নাকি হুসাইনের দলে? উত্তর দেওয়ার জন্য তরবারি ধরতে হবে না। দরকার শুধু সৎ সাহস। অফিসের ফাইল আটকে ঘুষ চাইলে না বলা, রাস্তায় দুর্বলকে মার খেতে দেখলে প্রতিবাদ করা, নিজের স্বার্থের জন্য মিথ্যা না বলা—এগুলোই আজকের কারবালা।

মহরম চলে যায়, কিন্তু শিক্ষা রেখে যায়। বছরের প্রতিটি দিন যেন আমরা হুসাইনি আদর্শ বুকে লালন করি। তাহলেই মহরমের আগমন সার্থক হবে। নইলে শুধু মাতম আর বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ থাকবে, জীবন বদলাবে না। আর জীবন না বদলালে কারবালার শাহাদাতের ঋণ শোধ হবে না।

সালাহউদ্দিন মিঠু....



  
  সর্বশেষ
চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর দুর্দান্ত মাস্টারস্ট্রোক
দুবাই-ঢাকা স্বর্ণ সিন্ডিকেটের আড়ালে হাজার কোটি টাকার জুয়া ও হুন্ডি: গ্রেপ্তার ৫, নেপথ্যে মাফিয়া রাজত্ব
রাজবাড়ীর এক ল্যাম্পলাইটার: চার শতাধিক মানুষের চোখে আলো ফিরিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল বাসার খান
ঠাকুরগাঁওয়ে বিতর্কিত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দারুল আলমকে শোকজ, বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com