শাহীন আবদুল বারী
গোয়েন্দা সংস্থা গুলোর কাছে আগ থেকেই খবর ছিলো যে, টাঙ্গাইল শহরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ ঝটিকা মিছিল করার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই মোতাবেক প্রশাসনকে উপর মহল থেকে সতর্ক বার্তা ও কড়া নজরদারি রাখতে বলা হয়। কিন্তু প্রশাসন একেবারেই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এর দায় কে নিবে? নাকি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রশাসনের দায়বদ্ধ ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা হবে।
রোববার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শহরের বিচ্চিরা রোড ১৫/২০ জন জটিকা মিছিল করে। এ সময় তারা শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাসবে স্লোগান দেয়। প্রায় ৫ মিনিটের মিছিলে সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির ছবি সহ ব্যানার ছিল। পুলিশের ধারণা ছোট মনির সমর্থকরা এই ঝটিকা মিছিল করে। মিছিলে অংশ নেয়া একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার নাম আশিকুর রহমান আশিক। আশিক টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। সদর থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
এদিকে ছাত্রলীগের মিছিলের প্রতিবাদে শহরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল যুব দলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলে তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়া হয়।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী ঝুঁটিকা মিছিল বের করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সেখান থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। মিছিলের ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে সনাক্ত করা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার করতে অভিযান চলছে। তবে, টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কর্মকান্ড নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা থাকলেও তিনি আছেন বহাল তবিয়তে।
বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিগত ১৭ বছরে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী পুলিশ বাহিনী কর্তৃক নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হলেও সেই স্মৃতি ভুলে গেছেন অনেকেই। এই ওসিকে শেল্টার দিচ্ছেন বিএনপির শীর্ষ দুই নেত। রুহুল আমিনের কামাইয়ের হাত শক্তিশালী বলে জেলার পুলিশ সুপারও তাকে অনেক প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন।
একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা যায়, টাঙ্গাইল শহরের প্রাণকেন্দ্র ভিক্টোরিয়া রোডে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এই ঝটিকা মিছিল বের করে। যা আগে থেকেই টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি রুহুল আমিনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানানো হয়েছিলো। এটি সরকারকে বেকায়দায় ফেলানোর জন্যই প্রশাসনের দায়সারা দায়িত্ব পালনের নমুনা। কারণ যেখানে মিছিল হয়েছিলো সেখান থেকে থানার দূরত্ব একেবারেই সামান্য।