ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তার আশা আলোচনার মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বর্জনে রাজি হবে।’
আজ রবিবার প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন ইরান নিয়ে তার সর্বশেষ ভাবনা কি। ট্রাম্প প্রথমে এ নিয়ে কথা বলতে না চাইলেও পরে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছি আমরা। আমি আশা করি তারা এমন কিছু আলোচনা করুক, যা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য।’
এছাড়া সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের মন্তব্য নিয়েও তাকে প্রশ্ন করা হয়। প্রিন্স খালিদ যুক্তরাষ্ট্রে এক বৈঠকে গত শুক্রবার বলেন, ‘ট্রাম্প তার হুমকি অনুযায়ী এখন যদি ইরানে হামলা না চালান তাহলে ইরানের সরকার আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।’
এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকে এটি মনে করেন। অনেকে আবার মনে করেন না।’
ইরান গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করছে জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না এমন একটি সন্তোষজনক চুক্তি ইরান চাইলে করতে পারে। তাদের এটি করা উচিত। কিন্তু আমি জানি না তারা করবে কি না। তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করছে, গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই দুই পরাশক্তির সঙ্গে যৌথভাবে নৌ মহড়া চালাবে ইরান। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে সেই মহড়ায় ইরানের সঙ্গে যুক্ত হবে যুক্তরাষ্ট্রের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও রাশিয়া।
গতকাল শনিবার আনাদোলু এজেন্সি ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এছাড়া ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ‘ম্যারিটাইম সিকিউরিটি বেল্ট’ নামের এ যৌথ নৌ মহড়ার তিন দেশের নৌ ইউনিট অংশ নেবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহড়ায় ইরানের নিয়মিত নৌবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-এর নৌ বাহিনীর ইউনিটগুলোর পাশাপাশি চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনী অংশ নেবে।
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে উত্তর ভারত মহাসাগরে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
তাসনিম আরও জানায়, ২০১৯ সালে ইরানের নৌবাহিনীর উদ্যোগে ‘ম্যারিটাইম সিকিউরিটি বেল্ট’ মহড়ার সূচনা হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সাতবার যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মহড়াগুলো এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য— ‘একটি বিশাল নৌবহর’ ইরানের দিকে রয়েছে এবং তেহরানকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো হামলা চালায়, তবে তার জবাব হবে দ্রুত ও মারাত্মক।
একই সঙ্গে তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তেহরান কেবল তখনই আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, যখন তা হবে তাদের ভাষায় ন্যায্যতা, ভারসাম্যপূর্ণ এবং জোরপূর্বকহীন শর্তে।