জাপানের টোকিওতে অবস্থিত আফগানিস্তান দূতাবাসের সকল কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দেশটিতে নিযুক্ত আফগান রাষ্ট্রদূত শিদা মোহাম্মদ আবদালি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবদালি তার বিদায়ী বার্তায় উল্লেখ করেন যে, তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে টোকিও ত্যাগ করছেন এবং শনিবার থেকেই দূতাবাসের দরজা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যমটির অবসান ঘটল। ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকে বিশ্বজুড়ে দেশটির কূটনৈতিক মিশনগুলো যে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, জাপানের এই ঘটনাটি তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আফগান দূতাবাসটি বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত জাপানে বসবাসরত আফগান নাগরিকদের জন্য পাসপোর্ট ইস্যু, ভিসা প্রদান এবং বিভিন্ন কনস্যুলার সেবা প্রদানের একমাত্র নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান ছিল। এছাড়া এটি দুই দেশের সরকারের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করত। তবে ২০২১ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাবেক সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত কূটনীতিকরা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে চরম চাপের মুখে পড়েন।
অনেক দেশে আফগান মিশনের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হলেও টোকিওতে শেষ পর্যন্ত কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হয়নি। এর ফলে জাপানে অবস্থানরত আফগান নাগরিকরা এখন থেকে জরুরি আইনি ও কূটনৈতিক সেবা পাওয়া নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
জাপান সরকার এখন পর্যন্ত আফগানিস্তানের তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করেনি। টোকিও মূলত মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রগুলোতেই কাবুলের সঙ্গে সীমিত আকারে যোগাযোগ বজায় রেখে আসছিল। তবে দূতাবাসের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখন আরও জটিল হয়ে উঠল।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে বিশ্বের ডজনেরও বেশি দেশে আফগানিস্তানের কূটনৈতিক মিশনগুলো হয় বন্ধ হয়ে গেছে নতুবা তাদের কার্যক্রম অত্যন্ত সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে। এর পেছনে অর্থায়ন সংকট এবং নতুন সরকারকে স্বীকৃতি না দেওয়ার মতো আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক কারণগুলো প্রধান ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আফগান কূটনীতিকদের অনেকেই রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন অথবা তাদের মিশনের দায়িত্ব ত্যাগ করেছেন। টোকিওতে দূতাবাস বন্ধের এই সিদ্ধান্ত প্রবাসী আফগানদের জন্য বড় ধরনের এক মানবিক ও প্রশাসনিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত কাবুলের নতুন সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্যতা না পাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিদেশে অবস্থিত আফগান মিশনগুলোর এই অচলাবস্থা কাটবে না। জাপানে দূতাবাসের এই পরিসমাপ্তি মূলত আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার চিত্রটিকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
সূত্র: খামা প্রেস