* নথিতে নামজারি বাতিল হলেও নেওয়া হয়নি ব্যবস্থা
* তথ্য চাইতে গিয়ে লাঞ্ছিত হবার অভিযোগ সাংবাদিক
* নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন
* কিশোর গ্যাং বাহিনী গড়ে তোলার অভিযোগ
দিলীপ গোয়ালা, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে নানা অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। নামজারি বাতিল হওয়ার মতো গুরুতর ঘটনা ঘটলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে সাংবাদিক লাঞ্ছনা ও ক্যাডার দিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর ভূমি অফিসে নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘুষ ছাড়া নামজারি (খারিজ) কিংবা জমি সংক্রান্ত অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ এগোয় না। সেখানে একটি দালালচক্র গড়ে তোলা হয়েছে, যাদের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতে বাধ্য হন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা। চাহিদামতো অর্থ না দিলে ফাইল আটকে রেখে মাসের পর মাস ঘোরানো হয়।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, আবুল কালাম আজাদ তাঁর আগের কর্মস্থলে থাকাকালে নথিতে জমির প্রকৃত অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া হোল্ডিং তৈরি করে এক ব্যক্তির নামে নামজারি মঞ্জুর করান। পরবর্তীতে জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হলে তৎকালীন কর্তৃপক্ষ উক্ত নামজারি বাতিল ঘোষণা করে। তবে অপরাধ স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও কালামের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এরই মধ্যে এশিয়ান টেলিভিশনের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি মো. আবুল মনসুরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানাগেছে । এক বয়স্ক নারীর কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে নায়েব কালামের বক্তব্য নিতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হন। এ সময় সাংবাদিককে ‘দড়ি দিয়ে বাঁধার’ নির্দেশ দেন এবং তাঁর কার্যালয়ের পিয়নসহ অনুসারীরা ওই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করে ফোনটি ভেঙে ফেলে। ঘটনার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নায়েব কালামের বিরুদ্ধে অফিসে বহিরাগত ক্যাডার বাহিনী নিয়ে মহড়া দেওয়া এবং নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ এনেছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
তবে গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশের পরেও কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি জেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ভুক্তভোগীদের মাঝে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে আবুল কালাম আজাদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন এবং খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে এসিল্যান্ডকে এবিষয়ে মতামত জানতে ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি। তবে দূদকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তার বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।