ময়মনসিংহ সংবাদদাতা:
নিজেদের করা ভুলে সখিনা খাতুনের জমি অধিগ্রহণে জটিলতায় আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে ময়মনসিংহ জেলার ডিসি মোঃ সাইফুর রহমান। ভুল করে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করার পর একাধিকবার তা প্রমাণিত হলেও ভুক্তভোগী পরিবার মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ডিসি’র দুয়ারে ঘুরে হয়রাণির শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
কয়েক মাস আগে জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান সকিনা খাতুনের ওয়ারিশদের তদন্ত রিপোর্ট আসার পর জমির ধরন অনুযায়ী প্রাপ্য সঠিক হারে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী সরেজমিন তদন্ত রিপোর্ট গত মার্চের ০২ তারিখে জমির ধরন নাল আসলেও অজ্ঞাত কারণে দায় ঠেলা ধাক্কার চক্করে পড়ে তারা। যা নিয়ে জেলা প্রশাসক প্রশ্নবোধক আলোচনার পর্যায়ে আসেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজর ও হস্তক্ষেপ পর্যন্ত যাবে কিনা তাও জেলা প্রশাসকের উপর নির্ভর করছে বলে ধারনা করছে অনেকে।
তথ্যমতে, এলএ কেস নম্বর ০৬/২০২২-২৩ ময়মনসিংহের গোবিন্দপুর মৌজার বিআরএস ৪২২৬ নং দাগের মৌজার সখিনা খাতুনের নাল জমির ধরন ভুল করে ডোবা দেখিয়ে প্রাক্কলন দেওয়ার লিস্ট তৈরি হয়। রহস্যজনক কারণে নাল জমির শ্রেণী পরিবর্তণ হয়ে ডোবা দেখানোর কারণে এদের অধিগ্রহণে প্রাপ্য অর্থ বহুগুণ কমে যায়। সকিনা খাতুনের পরিবার দিশেহারা ও হতাশ হয়ে বিষয়টি সংশোধন করে প্রাপ্য অর্থ পেতে প্রায় তিন বছর ধরে ডিসি অফিস, এলএ শাখাসহ বিভিন্ন দফতরে ঘুরছে।
ময়মনসিংহের নতুন জেলা প্রশাসক আসার পর বিষয়টি তাঁর কছে গেলে তদন্ত করে রিপোর্ট অনুযায়ী জমির অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ঠ বিভাগকে নির্দেশনা দেবার পর সরেজমিন রিপোর্ট আসার তিন মাস অতিক্রান্ত হলেও এনিয়ে ডিসি নিশ্চুপ। এছাড়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রেভিনিউ), এলএ শাখা অন্যান্য বিভাগে হয়রানিমূলক প্রস্তাবনায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমানকে ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমানের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে তাঁর নির্দেশনা মতে পাওয়া সখিনা খাতুনের জমির সরেজমিন রিপোর্টের কপি পাঠিয়ে জানতে চাইলে তিনি তাঁর কাছে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিনিধি কাউকে আসতে বলেন। বুধবার ১লা এপ্রিল তারিখে তাঁর কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে গেলেও তিনি এ নিয়ে কথা বলেননি ও দেখা করেননি। তবে এডিসি (রেভিনিউ) ভুল স্বীকার করে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ডিসি সাহেব যা বলেন তাই আমরা করবো। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, এই ভুল তাদের নয়। কেনো তারা এর জন্য জেলা প্রশাসকের দফতরে বছরের পর বছর ঘুরবে। এই দায় কার। ভুক্তভোগীরা জানান, ডিসি সাহেব আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করলে আমরা প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলন করবো। প্রধানমন্ত্রীর কাছে মানবিক সহায়তার জন্য হস্তক্ষেপ কামনা করবো।