বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   বিশেষ সংবাদ
ঠাকুরগাঁওয়ে বিতর্কিত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দারুল আলমকে শোকজ, বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ
  Date : 24-06-2026
Share Button

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. দারুল আলমের বিরুদ্ধে অফিসের শৃঙ্খলা ভঙ্গ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টির অভিযোগে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন পরিপত্র ও জারিকৃত আদেশের নথিপত্রের সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত কর্মকর্তা মো: দারুল আলম ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে আপত্তিকর আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, তার এহেন আচরণের ফলে সভার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং অফিসের শৃঙ্খলা ও কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই ঘটনায় ঠাকুরগাঁও জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে সেদিনই (২০ মে) তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সেই বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

পরবর্তীতে, দারুল আলম গত ১ জুন লিখিত জবাব জমা দেন। জবাবে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট বৈঠকে তিনি কোনো অসদাচরণ করেননি এবং ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক বিভিন্ন কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

তবে তার ব্যাখ্যা পর্যালোচনার পর রংপুর বিভাগের পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে ২৫ জুন আরেকটি পত্র জারি করা হয়। ওই পত্রে দারুল আলমের জবাব সন্তোষজনক নয় বলে উল্লেখ করে বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সরকারি বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, দারুল আলমের বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিকাশ কুমার দাস এই প্রতিবেদককে বলেন, অতীতে বহুবার দারুলের বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। গণমাধ্যমে অনেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তার কারণে অনেক সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে সবাইকে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, যখনই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উচ্চমহলে চিঠি দেয়া হয়েছে তখনই কোনও এক রহস্যজনক কারণে সেই চিঠিগুলো উধাও হয়ে গেছে। এবারও যদি তেমনটা ঘটে তাহলে দারুল আলম আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। তাই সার্বিক বিবেচনায় এবার তার ব্যাপারে কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

এই ঘটনায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের দিকে সংশ্লিষ্টদের নজর রয়েছে।

উল্লেখ্য, মাগুরা জেলায় ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকাকালীন দারুল আলম অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পদবাণিজ্যে রীতিমতো আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে উঠেছিলেন। সেসময় দুর্নীতি ও ভ্রমণভাতা জালিয়াতির অভিযোগে দুদক তার নথিপত্র জব্দ করলেও পরবর্তীতে দৃশ্য কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহন না করায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন দারুল আলম। নামে-বেনামে নানা সম্পত্তিসহ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া দারুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ কর্ম কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে জমেছে অভিযোগের পাহাড়। কিন্তু এরপরও বহাল আছেন তিনি। তবে, সাম্প্রতিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে এবার তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি উঠেছে সর্বমহলে।

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান দারুল আলম চাকরিতে যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই নানা দুর্নীতিতে জড়িয়ে টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন।। সেই টাকার প্রতাপেই স্বল্প সময়ে ঢাকার মিরপুর ও কল্যানপুরে কিনেছেন একাধিক ফ্ল্যাট। স্ত্রী ও মায়ের নামে ব্যাংক ও পোস্ট অফিসে টাকা রেখেছেন ফিক্সড ডিপোজিটে। তার বেনামে অনেক সম্পত্তি থাকলেও প্রকাশিত সম্পত্তির মধ্যে মাগুরা পিটিআইর সামনে গ্যাডো ক্লিনিকের ৭ শতক জমির আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা। পারনান্দুয়ালীর ১১ শতক জমির আনুমানিক মূল্য ৪০ লাখ টাকা। দলিলে তিনি এসব জমির দাম দেখিয়েছেন অনেক কম।

দারুল আলমের চারিত্রিক স্খলন নিয়েও আছে বিস্তর অভিযোগ। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগীয় কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি মাগুরায় ওপেন সিক্রেট ছিলো। একাধিকবার এই ধরনের সম্পর্কে জড়িয়ে ধরা পড়লেও ভুক্তভোগীর মানসম্মান ও সামাজিক কারণে কেউ মুখ খোলেন না। এর বাইরেও অনেককে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

বিতর্কিত কর্মকর্তা মো: দারুল আলমের বিরুদ্ধে আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে একটি প্রতিবেদনে তুলে ধরা অসম্ভব।মাগুরায় কর্মরত থাকাকালীন সময়ে দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার নানা অপকর্ম নিয়ে `দ্য ফিন্যান্স টুডে` একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ । এর ফলশ্রুতিতেই দুদকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থা দারুলের ব্যাপারে অনুসন্ধান শুরু করে এবং সংশ্লিষতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছিলো কর্তৃপক্ষ।



  
  সর্বশেষ
রাজবাড়ীর এক ল্যাম্পলাইটার: চার শতাধিক মানুষের চোখে আলো ফিরিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল বাসার খান
এসেট প্রকল্পে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়ম নিয়ে বিশ্বব্যাংকে লিখিত অভিযোগ
গোপালগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর ঘিরে প্রবাসী শ্রমিকরা আনন্দিত

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com