চগ্রামে আমানত ফিরে পাওয়ার দাবিতে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকরা ‘রোডমার্চ’ কর্মসূচি পালন করেছেন। বুধবার (১৬ই জুন) দুপুরে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন-চট্টগ্রাম বিভাগ’ এর ব্যানারে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়।
এর আগে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সহসভাপতি শারমিন আক্তার প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলন শেষে রোডমার্চ কর্মসূচি শুরু হয়।
আমানতকারীদের চার দফা দাবির মধ্যে আছে হেয়ার কাট নীতি (মুনাফা কেটে রাখা) বাতিল করে আমানতকারীদের পূর্ণ অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর লেনদেন দ্রুত স্বাভাবিক করা, এফডিআর, ডিপিএস এবং অন্যান্য আমানতের অর্থ চুক্তি অনুযায়ী গ্রাহকদের পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং পূর্বঘোষিত ও চুক্তিভিত্তিক মুনাফার হার বহাল রাখা।
সংবাদ সম্মেলনে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, দুই বছর ধরে আমরা আমাদের কষ্টার্জিত টাকা তুলতে পারছি না। অনেক পরিবার আজ চরম মানবিক সংকটের মধ্যে আছে। সন্তানের লেখাপড়ার খরচ, অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসা, নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়- সবকিছু সামলাতে গিয়ে মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েছে। অনেকেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানিয়েছি।কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাইনি। ১০ এপ্রিল ব্যাংক রেজ্যুলুশন অধ্যাদেশ জারি হলেও সেখানে সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি, বরং নানা ধরনের সীমাবদ্ধতামূলক নীতির কারণে আমানতকারীরা আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না। আমরা আমাদের নিজের টাকা চাই।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সাধারণ আমানতকারী।আমাদের কোনো দলীয় শক্তি নেই, কোনো রাজনৈতিক শক্তি নেই। আমাদের একমাত্র ভরসা দেশের জনগণের নির্বাচিত সরকার। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, আসন্ন বাজেট ও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে আমানতকারীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হোক। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে এই সংকটের সমাধান করা হোক।