শাহীন আব্দুল বারী
চলমান চীন সফরের মধ্যেই আজ এক দুর্দান্ত মাস্টারস্ট্রোক খেললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আশিক চৌধুরীর মাধ্যমে খোদ বেইজিংয়েই আয়োজন করে ফেললেন ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ কনফারেন্স। চীনের অন্তত ১২৫টিরও বেশি শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা (CEO) উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের এই ইনভেস্টমেন্ট সামিটে।
তাদের সামনে আশিক চৌধুরী দীর্ঘ প্রেজেন্টেশন দিলেন। তুলে ধরলেন, এই মুহুর্তে বাংলাদেশ কেন বিনিয়োগ করার মতো উপযোগী এক দেশ। সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের নতুন প্রকল্পগুলো সম্পর্কে জানানো হয়, সরকারের সুযোগ-সুবিধার কথাও তুলে ধরা হয় তাদের সামনে। আগামী কয়েক বছরে চীন সরকারের অর্থায়নে বাংলাদেশে যে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে, সেই বিষয়ে আলোকপাত করা হয় ব্যবসায়ী প্রধানদের সামনে।
প্রফেসর ইউনূসের সময়েও দেশে আয়োজিত প্রথমবারের মতো ইনভেস্টমেন্ট সামিটে দুর্দান্ত এক প্রেজেন্টেশন রেখেছিলেন বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী কিন্তু সেই সময়ে তেমন প্রত্যাশিত কোনও ফল আসে নাই। বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কনভিন্স হলেও আস্থা রাখতে পারছিলো না। তখন দেশে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছিলো সেটা বিনিয়োগবান্ধব ছিলো না তার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলে গেলে নতুন যে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসবে তখন তাদের বিনিয়োগের কী হবে; সেটাও ছিলো একটা বড় ইস্যু। মূলত এই কারণেই সেই সম্মেলন ব্যর্থ হয়েছিলো।
বর্তমানে বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক সরকার জনগণের ম্যানডেট নিয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। এখন সরকার যদি সচেষ্ট হয় এবং আবার যদি চেষ্টা করে তাহলে বিনিয়োগ আসতেও পারে; এমন ভাবনা থেকেই এই কনফারেন্স আয়োজন করে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী ও আশিক চৌধুরী।
এদিকে, এই সামিটের পরপরই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন শীর্ষ অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট ইন টংইউয়ে। এরপর বসলেন চীনের শীর্ষস্থানীয় টেক্সটাইল ও পোশাক তৈরিকারক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান চুন এর সাথে। এই বৈঠক শেষ হতেই আরেকটি বৈঠকের শিডিউল করে ফেলা হয়, গ্লোবালি অপারেট করা চীনের মেগা রিচ ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেডের পার্টনার কেভিন উ’য়ের সাথে। অর্থাৎ, আজকের দিনে একের পর এক শীর্ষ চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শিডিউল চলছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
তারা আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে জানতে চাচ্ছেন, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রকল্পগুলো সম্পর্কে, কাজের অগ্রগতি নিয়ে, তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ সুবিধাসমূহ এবং সরকারের পরবর্তী কয়েক বছরের পরিকল্পনা সম্পর্কে। সর্বোপরি চীনের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ করার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
তারেক রহমান তাদেরকে আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মোংলায় দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে চলমান কাজ সম্পর্কে অবহিত করেন এবং সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত কাজের সম্পর্কে জানান। পরবর্তী কর্মপরিকল্পনাগুলো তুলে ধরলেন, সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস, নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ জোরদারে সরকারের পদক্ষেপগুলোও জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিনেই বিনিয়োগকারীরা হুমড়ি খেয়ে চলে আসবে না বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে, কিন্তু তারেক রহমান বিদেশের মাটিতে ইনভেস্টমেন্ট অফিস চালু করার যে সাহসী উদ্যোগ নিলেন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠক এবং সবাইকে নিয়ে কনফারেন্স আয়োজন করলেন সেটা নিঃসন্দেহে এক দুর্দান্ত পলিটিক্যাল মাস্টারস্ট্রোক। এর মধ্যে দিয়েই আগামীতে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের এক নতুন দুয়ার খুলে যেতে পারে।