বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে হারের পরপরই আবেগ সামলাতে না পেরে সংবাদমাধ্যমের সামনে সিলেট টাইটান্সের উপদেষ্টার দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দেন ফাহিম আল চৌধুরি। তবে ঘটনার এখানেই শেষ নয়। রাতেই সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে তিনি ম্যাচ ঘিরে তোলেন ভয়াবহ অভিযোগ।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে সিলেট টাইটান্সকে ১২ রানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে পরাজয়ের মধ্য দিয়েই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় সিলেট।
টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি সময়ে সিলেট টাইটান্সের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন ফাহিম আল চৌধুরি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মন্তব্য ও আচরণে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। সামাজিক মাধ্যমে তার বক্তব্য ও এলিমিনেটর ম্যাচ জয়ের পর আবেগঘন উদযাপন নিয়েও তৈরি হয় বিতর্ক।
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হারের পরপরই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে মাঠ ছাড়েন ফাহিম। পরে গাড়ির ভেতর থেকেই ফেসবুক লাইভে এসে ম্যাচ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি।
ফেসবুক লাইভে ফাহিম আল চৌধুরি বলেন, “প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় সিলেটবাসী, আমি আপনাদেরকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাচ্ছি। আজকের ম্যাচটি ভীষণভাবে কলুষিত হয়েছে। আমার কাছে নির্ভরযোগ্য ও প্রমাণাতীত তথ্য এসেছে— ম্যাচের ভেতরে থাকা একজন ব্যক্তি নিজেকে বিক্রি করেছে। সে আমাদের সঙ্গে মিথ্যা বলেছে, সিলেটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, সিলেটের মানুষের আবেগের সঙ্গে সে নিষ্ঠুরভাবে বেইমানি করেছে।”
লাইভে ফাহিম বলেন, “এই হারটা ছিল পুরো একটা বেইমানির সঙ্গে হার। যারা ম্যাচটা দেখেছেন, তারা অনেকেই বুঝে গেছেন আমি কী বলতে চাচ্ছি। এই হারটা আমাদের হার ছিল না, এটা ছিল সম্পূর্ণ কম্প্রোমাইজড। এটা ফিক্সিং ছিল।”
তিনি জানান, বিষয়টি এখানেই শেষ করবেন না এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফাহিম আল চৌধুরি বিপিএল নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এই বিপিএল–টিপিএল সবকিছুই যে একটা বেইমানি, একটা জুয়ার ব্যবসা, এটা আমি আগে থেকেই জানতাম। কিন্তু আজ আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে, তাতে খেলোয়াড়রা সবাই ডিমোরালাইজড।”
লাইভের শেষ দিকে তিনি বলেন, “মানুষটা ভুল জায়গায় হাত দিয়েছে। সে সিলেটের আবেগের সঙ্গে হাত দিয়েছে। পুরো সিলেটের মানুষকে কান্না করানো হয়েছে। আমি তাকে এত সহজভাবে ছাড় দেব না।”
সর্বশেষ লাইভটি ফাহিম আল চৌধুরির ফেসবুকে পাওয়া যাচ্ছে না।