গত বিপিএলের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এই বিপিএলেও হলো। গত বিপিএলে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন খুলনা টাইগার্স দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার থেকে ছিটকে গিয়েছিল। এবারও একই চিত্রনাট্য। পার্থক্য শুধু গত বছর খুলনা টাইগার্সের হয়ে খেলা মিরাজ এবার খেলেছেন সিলেট টাইটানসের হয়ে। সিলেটের প্রধান কোচ সোহেল ইসলামের মতে এবার মানসিকভাবে স্বস্তিতে ছিলেন না মিরাজ।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) মিরপুরে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে এলিমিনেটর ম্যাচে ক্রিস ওকসের শেষ বলের ছক্কায় ৩ উইকেটের জয় পেয়েছিল সিলেট টাইটানস। তার পরের দিন গতকাল বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে খেলতে হয়েছে সিলেটকে। এবার রাজশাহীর কাছে ১২ রানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে সিলেট। প্লে অফের দুই ম্যাচে মিরাজের ব্যাট থেকে এসেছে ১৮ ও ৯ রান।
দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হারের পর সিলেটের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সিলেট কোচ সোহেল।
যে প্রত্যাশা ছিল মিরাজের কাছে, সেটা এবার কেন পারেননি—এই ব্যাখ্যায় সোহেল বলেন, ‘আপনি যখন একটা টুর্নামেন্ট শুরু করবেন এবং আপনি জানেন যে টানা দুই দিন আমাদের খেলা ছিল। তেমন চিন্তা করারও সুযোগ ছিল না। অধিনায়কত্বের চাপ তো ছিলই। সব মিলিয়ে আমাদের কাছে মনে হয় মানসিকভাবেও মিরাজ শান্তিতে ছিল না।’
২০২৫ বিপিএলে মিরাজের নেতৃত্বে ১৪ ম্যাচ খেলেছিল খুলনা টাইগার্স। ২৭.৩ গড় ও ১৩২.৯৫ স্ট্রাইকরেটে সেবার অধিনায়ক মিরাজ করেছিলেন ৩৫৫ রান। ৭.৭১ ইকোনমিতে নিয়েছিলেন ১৩ উইকেট। এবারের বিপিএলে তার ধারেকাছেও যেতে পারেননি তিনি। সিলেটের হয়ে ১২ ম্যাচে ৯ ইকোনমিতে নিয়েছেন ৬ উইকেট। রান করেছেন ঠিক ১০০। গড় ও স্ট্রাইকরেট ১২.৫ ও ৯০.৯০।
মাঠের পারফরম্যান্সই নয়। ১৫ জানুয়ারি কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের ডাকে সাড়া দিয়ে সেদিন বিপিএল বয়কট করেছিলেন মিরাজ, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্তরা। এরপর মিরপুরে খেলতে নেমে দর্শকদের কাছ থেকে দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছে।
মিরাজের এ বছরের বিপিএলের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে সোহেল বলেন, ‘যেটা সত্যি কথা যে মিরাজ গত বছর যেভাবে পারফর্ম করেছে, এ বছরটা আসলে সেভাবে করেনি। আমার কাছে মনে হয় যে শুরু করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।পারফরম্যান্সের পেছনে শুধু স্কিল কাজ করে ব্যাপারটা সেটাও না। তার (মিরাজ) কী মানসিক অবস্থা, দল কেমন খেলছে, এগুলোও আসলে প্রভাব ফেলে না। বিভিন্ন ধরনের ইস্যু ছিল। আপনারা জানেন।’
টস জিতে গতকাল আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সিলেট টাইটানসের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। পুরো ২০ ওভার খেলে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান করেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। যেখানে শেষ ৮ বলে ৪ উইকেট হারিয়ে ৮ রান করতে পেরেছে রাজশাহী। প্রথমবার বিপিএল খেলতে আসা উইলিয়ামসনের ব্যাটে এসেছে ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৫ রান। জয়ের লক্ষ্যে নামা সিলেট টাইটানস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৩ রানে আটকে যায় সিলেট। ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৮ রান আসে ইমনের ব্যাট থেকে। রাজশাহীর বিনুরা ফার্নান্দো ৪ ওভারে ১৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচসেরা।