খুলনায় আইনজীবী সমিতির এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শুক্রবার (৮ মে, ২০২৬) বিচার বিভাগের সংস্কার এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন ও বিচারালয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রীর দেওয়া প্রধান বক্তব্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. জুলাই সনদ বাস্তবায়ন
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই সনদ’ পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তবে এক্ষেত্রে একটি বিশেষ সতর্কতা রয়েছে:
-
নোট অব ডিসেন্ট: যেসব বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাদ দিয়ে বাকি অংশগুলো কার্যকর করা হবে।
-
জনমতের প্রাধান্য: পিআর (PR) পদ্ধতি এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মতামতকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
২. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ‘বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি’
বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন:
-
অতীতের সমালোচনা: তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি খাইরুল হকের উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতে অনেকেই ‘বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির’ সাথে জড়িয়ে পড়েছিলেন, যার খেসারত সাধারণ মানুষকে দিতে হয়েছে।
-
হস্তক্ষেপমুক্ত বিচারব্যবস্থা: বিচারকদের নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে সরকারের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই। বিচারকরা যেন ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিত করছে।
৩. আগামীর লক্ষ্য
আইনমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকার বর্তমানে যে সংস্কারের পথে হাঁটছে, তা আগামী দিনে দেশের মানুষের জন্য শান্তি, স্বস্তি ও স্বপ্নের পথ দেখাবে। বিচার বিভাগের মান-সম্মান রক্ষা এবং একে দুর্নীতিমুক্ত করাকে তিনি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে অভিহিত করেন