আজ ৫ মে, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের সেই রক্তক্ষয়ী ঘটনার ১৩ বছর পূর্ণ হলো। এই দিনটিকে ‘ভয়াল ও বেদনাবিধুর’ হিসেবে অভিহিত করে নিজের ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ ও আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ বিচার ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ন্যায়বিচারের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
মামুনুল হকের স্ট্যাটাসের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
ব্যক্তিগত স্মৃতি ও সেই রাতের বর্ণনা
মাওলানা মামুনুল হক ২০১৩ সালের সেই দিনটির প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন:
-
দায়িত্ব ও যাত্রা: ৫ মে সকালে তিনি গাবতলী পয়েন্টে নায়েবে আমিরের দায়িত্বে ছিলেন। পরে শাপলা চত্বরে জমায়েতের ঘোষণা এলে বিশাল মিছিল নিয়ে সেখানে পৌঁছান।
-
জনসমুদ্র ও দমন-পীড়ন: তিনি বর্ণনা করেন যে, মানুষের অনিঃশেষ যাত্রা দেখে ‘ফ্যাসিবাদী শক্তি’ হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। গুলিস্তান, জিরো পয়েন্ট, পল্টন ও বিজয়নগর এলাকা সেদিন রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল।
-
মঞ্চের সেই মুহূর্ত: সন্ধ্যায় যখন খুনের শিকার লাশগুলো মঞ্চের সামনে আসতে থাকে, তখন নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে জনতার উদ্দেশে তাঁর দেওয়া সেই আবেগঘন বক্তব্যের কথা স্মরণ করেন তিনি।
-
অপারেশন শাপলা চত্বর: রাত ২টার পর হঠাৎ ব্ল্যাকআউট (বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন) করে চারদিক থেকে চালানো মুহুর্মুহু হামলার ভয়াবহ স্মৃতি তিনি তুলে ধরেন।
বর্তমান উদ্যোগ ও ‘শাপলা স্মৃতি সংসদ’
দীর্ঘদিন প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে শহীদদের নিয়ে কাজ করা সম্ভব না হলেও, ২০২৪ পরবর্তী সময়ে (ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান উত্তর) নতুন উদ্যোগের কথা জানান তিনি:
-
তথ্যাদি সংরক্ষণ: ‘শাপলা স্মৃতি সংসদ’-এর মাধ্যমে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং শহীদদের সঠিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
-
কর্মসূচির বৈচিত্র্য: এবার হেফাজতে ইসলাম ছাড়াও ছাত্র মজলিস, ছাত্র শিবির, ইনকিলাব মঞ্চ, এমনকি ডাকসু, রাকসু ও এনসিপি-র মতো সংগঠনগুলোও শাপলার স্মৃতি ধারণ করে কর্মসূচি দিচ্ছে, যা তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার
মামুনুল হক তাঁর লেখায় স্পষ্ট করে বলেছেন:
"জাতীয় স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে দায় পূর্ণ হবে না। শাপলার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন আমাদের অঙ্গীকার। সত্য প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচারের সংগ্রাম চলমান থাকবে।"