বিএনপি সরকারের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরণ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার (৩ মে, ২০২৬) সকালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপি আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি সংস্কার ও গণভোট’ বিষয়ক এক জাতীয় কনভেনশনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রধান পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সরকারের ‘মুড সুইং’ ও সিদ্ধান্তের ধোঁয়াশা
-
অস্পষ্টতা: হাসনাত আবদুল্লাহ বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে ‘মুড সুইং’ (মেজাজ পরিবর্তন) হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, সরকার আসলে কী চায় বা দিনশেষে সিদ্ধান্ত কে নিচ্ছেন, তা বোঝা যাচ্ছে না।
-
হাসিনা আমলের তুলনা: তিনি শেখ হাসিনার শাসনকালের উদাহরণ টেনে বলেন, তখন অন্তত বোঝা যেত যে সব সিদ্ধান্ত হাসিনাই নিতেন। কিন্তু বর্তমানে সরকারের ভেতর অনেকগুলো পক্ষ বা ‘সো মেনি গভমেন্ট’ কাজ করছে বলে তার মনে হচ্ছে।
২. ‘ফ্রিঞ্জ এলিমেন্ট’ ও জন-আকাঙ্ক্ষা
-
ভুল বোঝানোর শঙ্কা: তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, খুব শীঘ্রই হয়তো বলা হবে প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বোঝানো হচ্ছে।
-
বিচ্যুতি: সরকারের ভেতর থাকা কিছু সুবিধাবাদী বা ‘ফ্রিঞ্জ এলিমেন্ট’ জন-আকাঙ্ক্ষা এবং রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য থেকে সরকারকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
৩. সংস্কার কার্যক্রম স্থবিরতার অভিযোগ
হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, সরকার গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে:
-
প্রতিষ্ঠানসমূহ: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সচিবালয়ে বড় পরিবর্তন এবং পুলিশ সংস্কার কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো গতি হারিয়েছে।
-
নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা: তিনি মনে করেন, সরকার মনে করছে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ না করলে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যাবে না, যা একটি নেতিবাচক লক্ষণ।
৪. বিকেন্দ্রীকরণের তাগিদ
তিনি সতর্ক করে বলেন, শেখ হাসিনার সময় ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীভূত ছিল, যা তাকে রক্ষা করতে পারেনি। তাই বর্তমান সরকার যদি সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় বা মনে করে সবকিছুর সমাধান একজনকে করতে হবে, তবে তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে না।