প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে ভর করে ২০২৫ সালে বার্ষিক আয়ে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। রোববার (১৮ জানুয়ারি) এক ব্লগ পোস্টে কোম্পানির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা সারাহ ফ্রায়ার জানিয়েছেন, গত এক বছরে ওপেনএআইয়ের আয় ২০০০ কোটি ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে।
২০২৪ সালে এই আয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৬০০ কোটি ডলার, যা এক বছরের ব্যবধানে তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। মূলত কম্পিউটিং সক্ষমতা বা প্রসেসিং পাওয়ারের ব্যাপক বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়েই কোম্পানিটির রাজস্ব এই উচ্চতায় পৌঁছেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই অর্থনৈতিক সাফল্যের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।
সারাহ ফ্রায়ার আরও উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৪ সালে ওপেনএআইয়ের কম্পিউটিং সক্ষমতা ছিল শূন্য দশমিক ছয় গিগাওয়াট, যা ২০২৫ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে এক দশমিক নয় গিগাওয়াটে। মাইক্রোসফটের সমর্থনপুষ্ট এই কোম্পানিটির সাপ্তাহিক ও দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যাও প্রতিনিয়ত নতুন রেকর্ড গড়ছে।
প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিশাল খরচ সামাল দিতে এবং আয়ের নতুন উৎস তৈরি করতে কোম্পানিটি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ব্যবহারকারীর জন্য চ্যাটজিপিটিতে বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। বর্তমানে লেখা, ছবি, কণ্ঠস্বর ও কোডিং নিয়ে কাজ করলেও আগামীতে কোম্পানিটি বিরতিহীনভাবে কাজ করতে সক্ষম ‘এআই এজেন্ট’ ও ‘ওয়ার্কফ্লো অটোমেশন’ প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে। আর্থিক সাফল্যের পাশাপাশি হার্ডওয়্যার জগতেও পা রাখতে যাচ্ছে ওপেনএআই। কোম্পানির নীতি নির্ধারণ বিভাগের প্রধান ক্রিস লেহ্যান জানিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে তারা নিজেদের তৈরি প্রথম ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা যন্ত্র বাজারে উন্মোচনের পরিকল্পনা করছেন।
২০২৬ সালের জন্য ওপেনএআইয়ের মূল লক্ষ্য হবে স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান এবং বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাস্তবমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি স্রেফ একটি সফ্টওয়্যার কোম্পানি থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হওয়ার পথে রয়েছে।
ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কৌশল হিসেবে ওপেনএআই তাদের আর্থিক হিসাব বা ব্যালেন্স শিট ‘হালকা’ রাখার নীতি গ্রহণ করেছে। সারাহ ফ্রায়ার জানিয়েছেন, তারা সবকিছুর মালিক হওয়ার চেয়ে বিভিন্ন হার্ডওয়্যার সরবরাহকারী ও অংশীদারদের সঙ্গে নমনীয় চুক্তির মাধ্যমে কাজ করাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।
এই কৌশলের ফলে কোম্পানির ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হবে না এবং দ্রুত নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে মনোনিবেশ করা সম্ভব হবে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওপেনএআইয়ের এই অগ্রযাত্রা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক বাজারে তাদের আধিপত্য আরও সুসংহত করবে।
সূত্র: রয়টার্স