ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মাঝেও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। জাতিসংঘের আগামী সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় এ স্বীকৃতি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে ক্যানবেরা।
সোমবার (১১ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সহিংসতার চক্র ভাঙতে এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই শান্তি আনতে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই মানবতার সর্বোত্তম আশা।”
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেন, “এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য হতাশার মধ্যে থেকেও নতুন করে আশা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে হামাসের কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ভূমিকা থাকবে না।
অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্তকে ‘সমন্বিত বৈশ্বিক শান্তি প্রচেষ্টার অংশ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স এবং নিউজিল্যান্ডসহ একাধিক পশ্চিমা দেশের সাম্প্রতিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যারা এখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে একে “লজ্জাজনক” এবং “শান্তির পথে প্রতিবন্ধক” বলে উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দল ও জায়োনিস্ট ফেডারেশনও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘হামাসকে উৎসাহিত করতে পারে’ বলে মন্তব্য করেছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ইতোমধ্যেই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও পশ্চিমা বিশ্বের বহু প্রভাবশালী দেশ এতদিন এই সিদ্ধান্ত থেকে বিরত ছিল। অস্ট্রেলিয়ার এই ঘোষণাকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।