গাজায় মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবু সালমিয়া এবং নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের শিশু হাসপাতালের পরিচালক ডা. আহমদ আল-ফারা জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। তাদের চিকিৎসার জন্য কমপক্ষে ১০টি বিশেষায়িত হাসপাতাল জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন।
ডা. আল-ফারা জানান, তার হাসপাতালেই বর্তমানে ১২০ জন শিশু মারাত্মক অপুষ্টির শিকার হয়ে ভর্তি রয়েছে। তিনি বলেন, “এই শিশুদের জীবনে এর স্থায়ী প্রভাব পড়বে।” ডা. আবু সালমিয়া আরও জানান, শুধু শিশুরাই নয়—যেসব আহত মানুষ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তারাও অপুষ্টিতে ভুগছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অপুষ্টিতে আরও ৮ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। ইসরাইলি হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে অপুষ্টির কারণে, যার মধ্যে ১১৪ জন শিশু।
মানবিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। মিসর সীমান্তে আটকে থাকা হাজারো ত্রাণবাহী ট্রাক কয়েক মাস ধরে গাজায় ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে। মার্চ থেকে ইসরাইলের কঠোর অবরোধের কারণে এসব ত্রাণ ঢুকতে পারছে না। যদিও মে মাসের শেষ দিকে কিছু ট্রাক প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় তা অত্যন্ত অপ্রতুল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজার এই ভয়াবহ অপুষ্টিজনিত সংকট কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে এবং এ জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।