বুধবার, মে ২৯, ২০২৪
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম : * আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই: শেখ হাসিনা   * ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কলকাতা যাচ্ছেন আজিমের কন্যা ডরিন   * নিউইয়র্কের রাস্তায় দেশের পতাকা হাতে মৌসুমী   * বিদেশে বেনজীর ও স্ত্রী-সন্তানদের সম্পদ আছে কিনা খোঁজ নিচ্ছে দুদক   * আজিজ, বেনজীর ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী নিয়ে যা বলছে যুক্তরাষ্ট্র   * নিউ ইয়র্কে সেরা পুলিশ অফিসারের একজন বাংলাদেশি অর্পণ সিনহা, কুড়াচ্ছেন প্রশংসা   * আনোয়ারুল আজিম আনারকে নিয়ে ঘন ঘন প্রেস ব্রিফিং বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ   * পানির দাম ১০ শতাংশ বাড়ালো ঢাকা ওয়াসা   * বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত   * সুষ্ঠু ও মনোরম পরিবেশে জনগণ ভোট দিচ্ছে: নিক্সন চৌধুরী  

   অপরাধ-দূর্নীতি
ডিজিটাল হুন্ডিতে ৪০০ কোটি টাকা পাচার, গ্রেফতার ৫
  Date : 29-03-2024
Share Button


অনলাইন ডেস্ক

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস ব্যবহার করে ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বুধবার রাতে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজি মোহাম্মদ আলী মিয়া। গ্রেফতার হওয়া পাঁচ জন হলেন—নাসিম আহমেদ, ফজলে রাব্বি সুমন, কামরুজ্জামান, জহির উদ্দিন ও খায়রুল ইসলাম পিয়াস। তাদের কাছ থেকে ছয়টি মোবাইল ফোন সেট, ১৮টি সিমকার্ড, একটি ল্যাপটপ, ছয়টি মডেম ও নগদ ২৮ লাখ ৫১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা ‘জেট রোবটিক অ্যাপ’-এর মাধ্যমে অভিনব কৌশলে ৪০০ কোটি টাকা পাচার করেছে। তারা চট্টগ্রামের তাসমিয়া অ্যাসোসিয়েট নামে একটি বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন হাউজের কাছ থেকে এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে। সিমগুলো মডেমের মাধ্যমে ল্যাপটপে ও কম্পিউটারে সংযুক্ত করে। জেট রোবটিক অ্যাপের মাধ্যমে সংযুক্ত সিমের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অ্যাপ নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তিদের হাতে। তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই অফিস থেকে ডিজিটাল হুন্ডির কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে। মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, এই ডিজিটাল হুন্ডি চক্রটির মূলহোতা শহিদুল ইসলাম মামুন। তিনি ২০২০ সাল থেকে দুবাই অবস্থান করছেন। সেখানে মামুনসহ পাঁচ জন জেট রোবটিক অ্যাপের নিয়ন্ত্রক। তারা মালয়েশিয়ান এক জন সফটওয়্যার ডেভেলপারের মাধ্যমে তৈরি করা অ্যাপটিকে কাস্টমাইজ করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। এজেন্ট সিমগুলো বাংলাদেশে থাকলেও মূলত সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে দুবাই থেকে। দুবাই থেকে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন নম্বরে নগদ বিকাশসহ বিভিন্ন এমএফএস সার্ভিসে ক্যাশ-ইনের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারেন। এই হুন্ডির কাজে তারা বিশ্বস্ত এজেন্টের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করেন। সংগ্রহকৃত অর্থ কোন নম্বরে বা কোন ব্যাংক হিসাবে পাঠাতে হবে, সেটা নিশ্চিত হয়। তখন বাংলাদেশ থেকে সংগ্রহ করা এজেন্ট সিম থেকে অ্যাপ ব্যবহার করে প্রবাসীদের আত্মীয়দের নম্বরে টাকা পাঠিয়ে দেয় এই চক্র। এই চক্র চট্টগ্রামের চাদগাঁওয়ে অবস্থিত তাসমিয়া অ্যাসোসিয়েটস থেকে ১৫০টি এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে এর ব্যবহার করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থকে মার্চ মাস পর্যন্ত মাত্র তিন মাসে চক্রটি প্রায় ৪০০ কোটি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
‘জেট রোবোটিক’ একটি অ্যাপস। এ অ্যাপের অ্যাডমিন কুমিল্লার শহিদুল ইসলাম ওরফে মামুন। তিনি ২০২০ সাল থেকে দুবাইতে আছেন। মধ্যপ্রাচ্যে বসে নিজস্ব এজেন্টের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স পাঠানোর দায়িত্ব নিতেন তিনি। গত তিন থেকে সাড়ে ৩ মাসে তিনি ৪০০ কোটি টাকার রেমিট্যান্স ব্লক করেছেন জেট রোবোটিক অ্যাপের মাধ্যমে।
তবে তিনি ঠিকই চাহিদা অনুযায়ী গন্তব্যে টাকা পাঠিয়েছেন। এ জন্য ব্যবহার করা হয়েছে চট্টগ্রামের বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন হাউস তাসমিয়া অ্যাসোসিয়েটসকে। প্রতিষ্ঠানটির ৪৮টি বিকাশ এজেন্ট সিমে আগে থেকেই সমপরিমাণ বা বেশি অনলাইনে টাকা সংগ্রহ করে রাখা হয়। এরপর সংগ্রহ করা টাকা এজেন্ট সিম থেকে অ্যাপের ব্যবহার করে প্রবাসীদের আত্মীয়দের নম্বরে অর্থ পাঠিয়ে দিয়ে আসছিল সংঘবদ্ধ চক্রটি। জেট রোবোটিক অ্যাপসের ব্যবহারকারী ও হোতা মামুনের দুই সহযোগীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সার্বক্ষণিক অনলাইন মনিটরিংয়ের সময় মাসখানেক আগে এ অ্যাপস ও বিকাশ এজেন্ট সিমে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য জানতে পারে সিআইডি। এরপর বুধবার দিনগত রাতে চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে এ ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। তারা হলেন- তাসমিয়া অ্যাসোসিয়েটসের মালিক নাসিম আহমেদ (৬২), এজেন্ট সিমের টেরিটোরি সেলস ম্যানেজার ফজলে রাব্বি সুমন (৩২) ও মো. কামরুজ্জামান (৩৩) এবং জেট রোবোটিক অ্যাপসের বাংলাদেশের প্রতিনিধি জহির উদ্দিন (৩৭) এবং খায়রুল ইসলাম ওরফে পিয়াস (৩৪)। ওই সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৬টি মোবাইল, ১৮টি সিমকার্ড, একটি ল্যাপটপ, ৬টি মডেম ও ২৮ লাখ ৫১ হাজার ২০০ টাকা। সিআইডি বলছে, এ ধরনের ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমের কারণে বাংলাদেশ রেমিট্যান্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ কার্যক্রম থেকে বিকাশ কোনোভাবে দায় এড়াতে পারে না। কারণ যেসব সিম ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলো বিকাশ এজেন্ট সিম। এ ছাড়া অস্বাভাবিক লেনদেন হলে সেটা দেখার দায় বিকাশেরই।
মালিবাগে নিজ কার্যালয়ে সিআইডিপ্রধান মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘গত তিন মাসে ৪০০ কোটি টাকা বাংলাদেশে আসতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে জেট রোবোটিক অ্যাপসের মাধ্যমে। অভিনব কৌশলে এ অ্যাপস ব্যবহারকারী পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছি। ডিভাইসগুলো জব্দ করেছি। চট্টগ্রামের বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন হাউস তাসমিয়া অ্যাসোসিয়েটস। প্রতিষ্ঠানটির কাছে রয়েছে ১ হাজার ১০০ বিকাশ এজেন্ট সিম। এসব এজেন্ট সিমের তাদের পারফর্ম ভালো না সেসব এজেন্টের সিমগুলো ডিএসওরা নিয়ে জেট রোবোটিক অ্যাপস ব্যবহারকারীদের সরবরাহ করে।’ এজেন্ট সিম নেওয়ার পর বিকাশ থেকে ই-মানি এজেন্ট সিমে আনা হয়। এ এজেন্ট সিমের কয়েকটি ভাড়া নেয় এ রোবোটিক অ্যাপস। হুন্ডি চক্রটির মূলহোতা শহিদুল ইসলাম ওরফে মামুন। দুবাই বসে মামুন যখন অ্যাপসের মাধ্যমে এজেন্ট সিমের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়। সে তখন বিকাশের মাধ্যমে রুট পর্যায়ে চাহিদা অনুযায়ী পাঠাতে পারে। তখন আর বাংলাদেশে বিকাশের এজেন্টদের প্রয়োজন হয় না। কারণ বিকাশের এজেন্ট সিমগুলো গ্রহণ করে থাকে শুধু ই-মানি ট্রান্সজেকশনের জন্য।
সিআইডিপ্রধান মোহাম্মদ আলী বলেন, শুধু এ জেট রোবোটিক অ্যাপসই নয়, এরকম বেশ কিছু অ্যাপস বাংলাদেশে চলমান। আমরা বেশ কিছু এমন অ্যাপসের সন্ধান পেয়েছি। এরই মধ্যে আমাদের গোয়েন্দা কার্যক্রম চলমান। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় এ কার্যক্রম চলছে।



  
  সর্বশেষ
আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই: শেখ হাসিনা
ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কলকাতা যাচ্ছেন আজিমের কন্যা ডরিন
বিদেশে বেনজীর ও স্ত্রী-সন্তানদের সম্পদ আছে কিনা খোঁজ নিচ্ছে দুদক
আজিজ, বেনজীর ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী নিয়ে যা বলছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রধান সম্পাদক: এনায়েত ফেরদৌস , অনলাইন সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত ) কামরুজ্জামান মিল্টন |
নির্বাহী সম্পাদক: এস এম আবুল হাসান
সম্পাদক জাকির হোসেন কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত ও বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২১৯ ফকিরাপুল, মতিঝিল ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ২/২, ইডেন কমপ্লেক্স (৪র্থ তলা) সার্কুলার রোড, ঢাকা ১০০০। ফোন: ০১৭২৭২০৮১৩৮, ০১৪০২০৩৮১৮৭ , ০১৫৫৮০১১২৭৫, ই-মেইল:bortomandin@gmail.com