বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
শিরোনাম :

   জাতীয়
১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ
  Date : 23-06-2026
Share Button

সামিউর রহমান

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিচারক নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের অবস্থানের সঙ্গে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের জামায়াতপন্থী ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ১০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তারিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ‍্য নিশ্চিত করে বলেন, গত ২২ জুন অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে তারা একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন। 

পদত্যাগপত্রে তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন না হওয়া, বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এসব কারণে সাংবিধানিক শাসন, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

তারা আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তারা অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার শর্তে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

পদত্যাগের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা

গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন সদ্যপদত্যাগকারী ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলগণ

পদত্যাগকারী ৭ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভূঁইয়া, আসাদ উদ্দিন এবং মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এছাড়া পদত্যাগকারী ১০ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন,  মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির ও রেজাউল ইসলাম।

এর আগে, বিপুল সংখ্যক ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন আইনবিশেষজ্ঞরা। সেসময় তারা বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এখন ১০৩ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও ২৩০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রয়েছেন। এত বেশিসংখ্যক আইন কর্মকর্তা এর আগে কখনো ছিল না। তাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। এ দুই পদে এত বেশিসংখ্যক নিয়োগের আদৌ কোন প্রয়োজন আছে কিনা সেই বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, অ্যাটর্নি জেনারেল একজন থাকবেন, সংবিধানে এটি সুনির্দিষ্ট করে বলা আছে। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল তিনজনের বেশি হবেন না, এটি বলা আছে ১৯৭২ সালের ‘বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার’-এ। তবে ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ঠিক কতজনকে নিয়োগ দেওয়া যাবে, সেটি সংবিধান বা কোনো আইনে উল্লেখ নেই। যে কারণে যখন যারা ক্ষমতায় থাকে, তারা তাদের পছন্দের আইনজীবীকে এসব পদে ইচ্ছা অনুযায়ী নিয়োগ দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সূত্রমতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে) বিভিন্ন সময়ে ৬০ থেকে ৬৮ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। তখন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন ১৪৩ জন। আর অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনজন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ওই সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া আইন কর্মকর্তারা পদত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের শুরুতে তিনজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও কয়েকজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে আরও নিয়োগ হয়।

কেন এত বেশি সংখ্যক অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেয়া হয় সেই ব্যাপারে প্রাথমিক অনুসন্ধানকালে কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, একজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতি মাসে ভাতাসহ ৮০ হাজার টাকা পান। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল পান ৯১ হাজার টাকা। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পান ১ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা। আর অ্যাটর্নি জেনারেল ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান মনে করেন, ৬০ থেকে ৮০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৬০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের বেশি দরকার নেই। তিনি বলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগে অনেক ক্ষেত্রেই একটা আশঙ্কা দেখা যায় যে এটা যতটা না প্রয়োজন বা মেধার বিবেচনায় হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার উপজীব্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রতিটি কোর্ট বা বেঞ্চে, বিশেষ করে মোশন বেঞ্চে (নতুন মামলা) দুই বা তিনজন করে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল থাকতে পারেন বলে মনে করেন মোস্তাফিজুর রহমান খান। তিনি বলেন, শুনানির বেঞ্চে (রুল) এক বা দুজনের বেশি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের দরকার হওয়ার কথা নয়। প্রতিটি মোশন বেঞ্চের জন্য একজন করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দরকার, যেখানে সরকারের (যেসব মামলার সরকারপক্ষ হিসেবে রয়েছে) মামলা বেশি। এর বাইরে রুল শুনানির জন্য যেসব বেঞ্চ রয়েছে—দুটি কিংবা তিনটি বেঞ্চ মিলিয়ে একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দায়িত্বে থাকতে পারেন।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিকে আপিল বিভাগে একটি বেঞ্চ ছিল, পরে দুটি বেঞ্চ হয়। গত জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। এর পাশাপাশি আপিল বিভাগের দুটি চেম্বার আদালতেও বিচারিক কাজ চলছে। প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগে এখন বিচারপতি আছেন পাঁচজন।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল বিভাগে ৩১ হাজার ১২০টি ও হাইকোর্ট বিভাগে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬৫১টি মামলা বিচারাধীন ছিল। আর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল বিভাগে ৪১ হাজার ৫৫১টি ও হাইকোর্ট বিভাগে ৬ লাখ ৫৯ হাজার ২৫৬টি মামলা বিচারাধীন ছিল।

হাইকোর্ট বিভাগে রয়েছেন ১০৩ জন বিচারপতি। আর বর্তমানে বেঞ্চ (একক ও দ্বৈত) আছে ৬৫ থেকে ৬৭টি। সাধারণত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সরকার বা রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে মামলা লড়েন। অবশ্য কোনো কোনো বেঞ্চে দুজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলও দায়িত্ব পালন করেন। হাইকোর্টের প্রতিটি বেঞ্চে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে এক বা একাধিক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে সরকার বা রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে মামলা পরিচালনা ও শুনানিতে অংশ নেন।

মূলত আইন কর্মকর্তাদের এই নিয়োগকে বিবেচনা করা হয় রাজনৈতিক আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে। সামগ্রিকভাবে বিভিন্ন পর্যায়ের আইন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের মান মোটেও সন্তোষজনক নয়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য একটি স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।



  
  সর্বশেষ
গোপালগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর ঘিরে প্রবাসী শ্রমিকরা আনন্দিত
চট্টগ্রামে পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের রোডমার্চ
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকার কাজ করছে: মির্জা ফখরুল

প্রধান সম্পাদক: মতিউর রহমান , সম্পাদক: জাকির হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক এসএম আবুল হাসান। সম্পাদক কর্তৃক ২ আরকে মিশন রোড, ঢাকা ১২০৩ থেকে প্রকাশিত এবং বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস ২০১৯ ফকিরাপুল , ঢাকা ১০০০ থেকে মুদ্রিত। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: জামান টাওয়ার (৪র্থ তলা) ৩৭/২ পুরাণা পল্টন, ঢাকা ১০০০
ফোন: ০১৫৫৮০১১২৭৫, ০১৭১১১৪৫৮৯৮, ০১৭২৭২০৮১৩৮। ই-মেইল: bortomandin@gmail.com, ওয়েবসাইট: bortomandin.com